• শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২, ২৪ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ব্রিটিশ আইনে চলছে রেল

কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ আইন, প্রয়োগ নেই

  নেহাল আহম্মেদ প্রান্ত, আদমদীঘি (বগুড়া)

১৬ জুন ২০২২, ১৪:২২
রেললাইনের উপরেই অবৈধ বাজার ও দোকান গড়ে উঠেছে
রেললাইনের উপরেই অবৈধ বাজার ও দোকান গড়ে উঠেছে (ছবি : অধিকার)

১৮৬১ সালের ব্রিটিশ শাসনামলের পুরনো আইনে আজও চলছে রেলওয়ে। এই আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী রেললাইনের দুই পাশে ২০ ফুটের মধ্যে নির্দিষ্ট লোকবিহীন কোনো সাধারণ মানুষ কিংবা গবাদি পশু প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। লাইনের দুই পাশের ২০ ফুট এলাকায় সবসময়ই ১৪৪ ধারা জারি থাকে। ওই সীমানার ভেতর কাউকে পাওয়া গেলে ওই আইনের ১০১ ধারায় গ্রেপ্তার করা যাবে। গবাদি পশু আটক করে তা বিক্রয় করে সেই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়ারও কথা রয়েছে আইনটিতে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, দেড়শ বছরের পুরোনো সেই আইনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রেল কর্তৃপক্ষ। পুরোনো এই আইনটির সংশোধন বা আধুনিকীকরণ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেই।

জয়পুরহাট, বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকার আশেপাশে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ২০ ফুট নয়, এক দম রেললাইন ঘেঁষে চলাচল করছে মানুষ। রেলগেট এলাকায় রেললাইনের উপরেই অবৈধ বাজার ও দোকান গড়ে উঠেছে। ট্রেন এলেই সরিয়ে ফেলা হয় দোকান। কানে ফোন গুঁজে কথা বলা কিংবা রেললাইন ধরে হেঁটে চলাও নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা। অনেকে পথের দূরত্ব কমাতে রেললাইনকে হাঁটার পথ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ কারণে প্রায়ই মানুষ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাচ্ছে। কিন্তু রেল আইনে বলা হয়েছে মানুষই নয়, গবাদি পশুও প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। সেখানে কে শোনে কার কথা। বাস্তব চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রেলওয়ে আইন। বাস্তবে লেশমাত্রও নেই এর প্রয়োগ।

গতকাল বিকেলে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে রেললাইনের ওপরে বসে গল্প করার দৃশ্য দেখা গেছে। এছাড়া রেলস্টেশন এলাকায় ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও কেউ তা ব্যবহার করছেন না। রেললাইনের ওপর দিয়েই তারা গন্তব্যে যাচ্ছেন। রেললাইনে জারি থাকা ১৪৪ ধারা সম্পর্কে জানেনই না পথচারীরা। রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চললেও তা কাজে আসছে না।

সান্তাহার থেকে বগুড়া রেলপথ এলাকায় গতকাল বুধবার বিকালে রেললাইনের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রেললাইন ধরে চলাচল বা বসে থাকা যে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ, এমন আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই তাদের।

শুভ নামের এক কলেজশিক্ষার্থী বলেন, রেললাইনের দুই পাশে ১০ ফুট করে ২০ ফুট এলাকায় ১৪৪ ধারা, সেটা আপনার মুখেই শুনলাম। এ ব্যাপারে আমার জানা নেই।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকেও এ ধরনের কোনও প্রচারণা দেখিনি। ট্রেন আসার শব্দ শুনে সবাই যেমন নিরাপদ দূরত্বে সরে যায়, আমিও তেমনটা করি।আরেক পথচারী বলেন, রেললাইনে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে জানিয়ে দেওয়া জরুরি। শুধু নথিতেই আইন সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, তার ন্যূনতম প্রয়োগও দরকার। এই ধারা প্রয়োগ করা হোক, না হলে বাতিল করা হোক। এভাবে ১৪৪ ধারাকে অপমানিত করার কোনও মানে হয় না। নিরাপদ ট্রেন চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা না হলে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘই হবে।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ১৮৬১ সালের ৫ নম্বর আইনের ১২ নম্বর ধারা মোতাবেক রেললাইনের দুইপাশে ১০ ফুট করে এলাকার মধ্যে রেলকর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষ কিংবা গবাদিপশুর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ওই এলাকায় সব সময়ই ১৪৪ ধারা জারি থাকে। সীমানার ভেতর কাউকে পাওয়া গেলে আইনের ১০১ ধারায় যে কাউকে গ্রেফতার করা যায়। কিন্তু উল্টো ঝামেলা পড়ার আশঙ্কায় রেলওয়ে পুলিশ এ আইন প্রয়োগ করে না।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি সাকিউল আযম বলেন, জনগণকে সতর্ক করতে আমরা চেষ্টা করেই যাচ্ছি। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সভা-সমাবেশ করছি। মসজিদ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বস্তির লোকজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমরা রেলওয়ের আইন ও শাস্তি সম্পর্কে অবহিত করছি।

আরও পড়ুন : নতুন বিধিমালায় লাইসেন্স পাচ্ছে ‘নগদ

বাংলাদেশ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার অসিম কুমার তালুকদার বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে রেললাইনের অবৈধ ছোট ছোট দোকানপট উচ্ছেদ করা যায় না। এছাড়া বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাসহ আমাদের লোকবল সংকটের কারণে আমরা এসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে পারি না। তবে সারদেশে প্রায় ৩০টি রেল স্টেশন বর্ধিত এবং উঁচুকরণসহ আধুনিকায়নের কাজ আমরা শুরু করেছি। এর মধ্যে সান্তাহার স্টেশনও রয়েছে। এসব কাজ শেষ হলে কাঁটা তার এবং লোহার গ্রিলের বেড়ার মাধ্যমে যত্রতত্র প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তখন মানুষ ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড