• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পৌরসভার নিষেধাজ্ঞা না মেনেই বহুতল মার্কেট সংষ্কার

  রফিক খান,মানিকগঞ্জ

১৬ জুন ২০২২, ১১:০৮
পৌরসভার নিষেধাজ্ঞা না মেনেই বহুতল মার্কেট সংষ্কার
বহুতল মার্কেট সংষ্কার । ছবি : অধিকার

মানিকগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি বাণিজ্যিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে মানিকগঞ্জ পৌরসভা। অপসারণের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে সময় এর মধ্যেও সংস্কার কাজ চালু রেখেছে ভবন কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে একদিকে যেমন ঝুঁকি বাড়ছে অন্যদিকে ভঙ্গ হচ্ছে পৌর আইন। এতে করে পৌরসভা প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ শহরের শহিদ রফিক সড়কে প্রাণকেন্দ্রে ১৮০ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত এই তৃতীয় ভবনটি। স্থাপিত হয় প্রায় দুই যুগ আগে। অভিযোগ রয়েছে এই ভবনটি নির্মাণে মানা হয়নি পৌর নীতিমালা। নকশা বহির্ভূত পৌরসভার জায়গাতেও পরে ভরনের একটি অংশ। অতিরিক্ত অংশটুকু অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে গুড়িয়ে দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসাবে চিহ্নিত করে মালিকপক্ষকে জানানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৩ জুন মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র কর্তৃক একটি চিঠির মাধ্যমে ভবনের মালিক নুরে আলম আলোককে সাত দিনের মধ্যে অবৈধভাবে নির্মাণাধীন পাকা ইমারত অপসারণের জন্য বলা হয়।

অবৈধভাবে নির্মাণাধীন পাকা ইমারত অপসারণের বিষয়ে মালিকপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তোরজোর শুরু করেছে ভবন অপসারণ ঠেকাতে।

ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটির জন্য পাশের ভবনগুলোর মালিক এবং স্থানীয় জনগণের মাঝে শঙ্কা বিরাজ করছে। ঝুঁকিতে রয়েছে বাণিজ্যিক এই ভবনটিতে গড়ে ওঠা ব্যবসায়ীরাও। তারা মালিকের কাছে আগাম টাকা দিয়ে রাখায় ব্যবসা স্থানান্তর করতে পারছে না।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (১৪ জুন) দুপুরে ভবনটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ভবনটির দ্বিতল সম্পূর্ণ অংশ পুন সংস্কার করা হচ্ছে। পিলারের পলেস্তার খসে-খসে পড়ছে। তাতে কোনো রকম সিমেন্টের মিশ্রণ দিয়ে জোরা-তালি দেওয়া হচ্ছে। তখনও ভবনের তিন তলাতে সম্পূর্ণ অংশে প্রায় ১০-১৫ জন কারিগর পোশাক তৈরি করছিলেন।

তৃতীয় তলার পোশাক শ্রমিকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা সে বিষয়ে জানি না। তবে ভবনটি অনেক পুরোনো। আমাদের মালিকের এই জায়গাটুকু ভাড়া নিয়েছে তাই আমাদের এখানে কাজ করতে হয়। যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে আমাদের এখন ভয়ে থাকতে হবে।

এসময় দোতলায় নির্মাণ কাজ করছিলেন সুমন মিয়া নামের এক শ্রমিক কথা হয় তার সাথে তিনি বলেন, কন্ট্রাকটর (ঠিকাদার) আমাদের কাজ করতে বলেছে। দুইদিন হয় কাজ শুরু করছি। এই দুইদিনে ভবনের পিলারের পলেস্তারের কাজ করতেছি। পিলারগুলা খুবই দুর্বল।

সংস্কার করার পরও কি ভবনে ঝুঁকি রয়েছে কিনা সে বিষয়ে শ্রমিক সুমন কোনো সদোউত্তর দিতে পারেনি। তৃতীয় ভবনের নূন্যতম পাইলিং আছে কিনা সেটিও তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ভবনের বাড়তি অংশ ভাঙা হয়েছে। ভবন কর্তৃপক্ষকে ভবনটি অপসারণের জন্য একাধিক লিখিত আবেদনে জানানো হয়েছে। তারা সেটি করছে না বরং পুন সংস্কারের কাজ সচল রেখেছে। পৌরসভার লোক তাদের কাজে বাধা দিয়েছে তারা কাজ বন্ধ করছে না। আমরা আইনগত পথেই হাঁটছি।

বহুতল বভন নির্মাণের কাগজপত্র চাইলে তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে নি। তাদের ভবনটি টিকিয়ে রাখতে গেলে একটি সার্টিফাইড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে উত্তীর্ণের সার্টিফিকেট দিলে সেটা আমাদের পৌরসভার যেই ইমারত নির্মাণ কমিটি রয়েয়ে সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমিটির সিদ্ধান্তে ফলাফল অসন্তোষ হলে ভবন অপসারণ করতেই হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ভবনের মালিক নুরে আলম আলোকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ওডি/ওএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড