• শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শতবর্ষী জাম গাছের অলৌকিক রহস্য

  হারুন আনসারী, ফরিদপুর

১২ জুন ২০২২, ১৯:২১
শতবর্ষী জাম গাছের অলৌকিক রহস্য
ফরিদপুরের সালথায় শতবর্ষী জাম গাছ (ছবি: অধিকার)

গাছের প্রাণ আছে একথা প্রমাণ করে গেছেন বিজ্ঞানী জগদিশ চন্দ্র বসু। গাছ কথা বলতে পারে না। তবে প্রাণ থাকলেও গাছ মানুষের আচরণে বুঝতে পারে না এটিই সকলের জানা। কিন্তু ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের উত্তর পুরুরা গ্রামে রয়েছে এমন একটি জাম গাছ যেখানে মানুষকে সংযত আচরণ করতে হয়। যুগের পর যুগ চলে আসছে এই রীতি। যদি এই সংস্কারকে অগ্রাহ্য করে কেউ গাছে চড়ে বা অশ্রদ্ধা-অভক্তি করে তাহলে তার ক্ষতি হয়ে যায় এমনই বিশ্বাস এখানকার মানুষের।

এ পর্যন্ত যারাই রীতি ভেঙ্গে এই গাছে চড়েছে তারা সপাৎ করে থেকে ছিটকে পড়ে গেছে এই গাছ থেকে। গ্রামবাসীর মাঝে এমনই অলৌকিকতা জড়িয়ে আছে এই গাছকে ঘিরে। যদিও এর আগে কেউ এই গাছ থেকে পড়ে মারা যায়নি। কিন্তু এবার প্রায় একশো বছরেরও বেশি সময়ের রেকর্ড ভেঙ্গে এই গাছটি থেকে পড়ে প্রথম কারো মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে এই অজপাড়া গাঁয়ের এই জাম গাছটিকে ঘিরে গ্রামে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে নতুন করে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার বেলাল মাতুব্বর বলেন, এই জাম গাছটা আসলে কতো প্রাচীণ তা আমরা জানি না। তবে মুরুব্বীদের মুখে শুনেছি এটি একশো বছরেরও বেশি পুরনো। এই গাছটি লাগিয়েছিলেন মুন্সি ওয়াজেদ নামে একজন কামেল ব্যক্তি। যাকে অনেকে পাগল বলেন।

তিনি আরও জানান, সালথার উত্তর পুরুরা গ্রামের এই এলাকাটির নাম সেই থেকে পাগলভিটা। প্রায় একশো বছরেরও বেশি সময় আগে যখন এই গ্রামে ডায়রিয়া কলেরা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিলো, সেই বিপদের মুহূর্তে গ্রামবাসীর সামনে মুক্তির দূত হয়ে এসেছিলেন সূফি ওয়াজেদ মুন্সি নামে এক কামেল ব্যক্তি। দক্ষিণের দূর্গাপুরের বাসিন্দা এই কামেল ব্যক্তিকে অনেকে পাগলও বলেন। তবে বিপদাপন্ন গ্রামবাসীকে তিনি ওই মহামারী থেকে রক্ষার কৌশল জানিয়ে গিয়েছিলেন। বলতেন তোমরা ফেনা ভাত আর পাট শাখ খাও। তাতেই মানুষ সুস্থ হয়ে যেতো।

সেই কামেল পাগল এখানে রোপন করেছিলেন এই জাম গাছটি। সেই থেকে এটি পাগলভিটা নামে পরিচিত। এলাকার মানুষ স্থানটিকে সংরক্ষিত করে রেখেছে ভক্তি শ্রদ্ধার সাথে। প্রতি বছর এখানে বড় মেলার আয়োজন করা হয়। নানা অনুষ্ঠান হয় সেখানে। হিন্দুরা এই গাছ তলাতে পূজা দেয়। আর মুসলমানেরা কেউ গাছে চড়তে গেলে গাছটিকে প্রথমে সালাম দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। তারপর নিয়ম মেনেই গাছে চড়ে।

জানা গেছে, পুরুরার পাশের গ্রাম মিরাকান্দার দশ বছর বয়সী শিশু আবীর গত বুধবার ভরদুপুরে এই গাছটিতে উঠে। এরপর হঠাৎই সে গাছটি থেকে পড়ে যায়। স্থানীয়রা বলছেন নিয়ম না মেনে গাছটিতে উঠার পর আবীর হঠাৎ করেই গাছ থেকে পড়ে যায়। নিহত আবীর মিরাকান্দা গ্রামের কৃষক বিল্লাল শেখের ছেলে। সে পুরুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র ছিলো।

শত বছরের পুরনো এই গাছ থেকে পড়ে মারা যাওয়া প্রথম কারও মৃত্যুর ঘটনাটি এলাকার মানুষের মাঝে নানা জল্পনা কল্পনা সৃষ্টি করেছে। গাছটি এখন স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে কৌতুহলের উপাদান হয়ে উঠেছে। যার কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে না। এলাকার শিক্ষিত-অশিক্ষিত সকলেই এই নিয়ম মনে চলেন শৃঙ্খলার স্বার্থে।

চিত্তরঞ্জন নামে স্থানীয় একজন কৃষক বলেন, আমার বয়স ৭৬ বছর। এই গাছটি আমরা হিন্দু মুসলমান সবাই ভক্তি শ্রদ্ধা করি। হিন্দুরা পুজা দেয় এখানে। মুসলমানরা মিলাদ পড়ে গাছের নিচে। আমরা সবাই গাছটি মেনে চলি। এই পর্যন্ত কেউ মারা যায় নাই। এবারই প্রথম কেউ মারা গেলো গাছ থেকে পড়ে।

আরও পড়ুন: মহাসড়কের বেহাল দশা, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা

ভাওয়াল ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মামুন সরদার বলেন, গ্রামটি হিন্দু পাড়া। ওই গাছটি অনেক পুরনো আর বড়। এলাকার হিন্দুরা ওই গাছতলায় পূজাও দেয়। ৮৮'র বন্যার সময় সেখানে ছিলো সত্য মেম্বার। তখন আমি ছোট। তবে সেই সময় মানুষ ওই গাছতলায় অনেক কিছু দেখেছে বলে আমরা শুনেছি। অবশ্য এর আগে এমন নিয়ম না মানায় অনেকে গাছ থেকে পড়ে গেলেও নিহত হয়নি। আবীরই প্রথম এভাবে মারা গেলো।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড