• বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

উৎকোচের বিনিময়ে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার

  ওবায়দুল কবির সম্রাট, কয়রা (খুলনা)

১২ জুন ২০২২, ১৬:৪৩
উৎকোচের বিনিময়ে সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার কয়রা উপজেলায় বিভিন্ন খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করছে (ছবি: অধিকার)

সুন্দরবনে মাছ শিকারসহ সকল প্রকার বনজ দ্রব্য আহরণে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন বিভাগ। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার কয়রা উপজেলায় ‘কোম্পানি’ নামধারী কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ীর ইন্ধনে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করছে। তাদের এ কাজে বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে অবৈধ কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এসব সিন্ডিকেটের নেতারা বন বিভাগকে ম্যানেজ করে দীর্ঘ দিন তাদের অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে। এদের অনেকেই বনদস্যুদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত এবং একাধিক মামলার আসামি। আবার অনেকেই অবৈধ ব্যবসা ঠিক রাখতে সুন্দরবন কেন্দ্রীক সিএমসি কমিটিতে নাম লিখিয়েছেন।

কোম্পানি নামধারী এ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন সুন্দরবন কেন্দ্রীক সকল অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোন সাধারণ জেলে বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পারলেও কোম্পানি নামধারি ব্যবসায়ীরা তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালু রেখেছেন।

জানা গেছে, পশ্চিশ সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের বানিয়াখালি, কাশিয়াবাদ, কোবাদাক ষ্টেশনের অসাধু বনরক্ষীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চলছে মৎস্য আহরণ। অভিযোগ রয়েছে সিন্ডিকেটের বাইরে কোন জেলে মাছ ধরতে সুন্দরবনে গেলে তাদেরকে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও পুলিশ দিয়ে মাছসহ ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যারা মাছ ধরছে তারা নির্দ্বিধায় মাছ ধরছে কোন ঝুঁকি ছাড়া।

কয়রার মহেশ্বরীপুরের শেখেরকোনা, কালিবাড়ি, তেতুলতলাসহ এলাকার অসাধু জেলেরা প্রতিনিয়ত নিষিদ্ধ ঘন ফাঁসের ভেষালি জাল ও কর্ড বিষ নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মাছ শিকার করছে। গহীন বনের নলবুনি, খড়খুড়ি, মার্কি, আদাচাকি, দুধমুখ, পিনমারা, চালকি, গেড়া, নাটুয়া ভারানি, মোল্লাখালি, জোলাখালি, বজবজা, খাসিটানা, গেওয়াখালি, ভোমরখালি, পাথকষ্টাসহ অন্যান্য খাল ও ভারানিতে চিংড়িসহ অন্য প্রজাতির মাছ শিকার করছে তারা।

অবৈধ জেলেরা তাদের আহরণকৃত চিংড়ি ভোর রাতে উপজেলা সদরের দেউলিয়া মৎস্য আড়ত, চাঁদালি মৎস্য সেটে বিক্রি করছে বলে সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয় শুটকির ফড়িয়ারা এ সকল চিংড়ি মাছ জেলেদের কাছ থেকে ক্রয় করে সুন্দরবনের সন্নিকটে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েকটি খটিঘরে নিয়ে আগুনে শুকিয়ে উচ্চমূল্যে বেচাবিক্রি করে আর্থিক ফায়দা লুটে নিচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে বলেন, আমরা সুন্দরবনের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। বন্ধের সময় আমরা সারা বছর যা রোজগার করি ভাল ভাবে সংসার চলত কিন্তু কোম্পানি নামধারী এক সিন্ডিকেটের জাতা কলে আমরা জেলেরা অভাব কাটিয়ে উঠতে পারি না। তারা প্রভাবশালী তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক ছাড়া আমরা সুন্দরবনের মাছ কাঁকড়া কিছুই ধরতে পারবো না। বিভিন্ন মামলা খাওয়ার ভয়ে মুখ বুজে সহ্য করি কষ্ট হলেও। তাদের হাত অনেক লম্বা তারা সবাইকে ভাগা গিয়ে সকল জেলেদর নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

বন বিভাগের সূত্র জানা যায়, পাস পারমিট বন্ধকালীন সময়ে তিনমাস অবৈধভাবে বনে ঢুকে কেউ যতে মাছের বংশবিস্তারে ক্ষতিসাধন না করতে পারে সেদিকে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে কাশিয়াবাদ ফরেষ্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান উৎকোচ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, বর্তমানে পাস পারমিট বন্ধ। এ সময়ে জেলেদের বনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ। অবৈধভাবে বনে ঢুকে যারা মাছ শিকার করছে তাদেরকে ধরে আইনগত ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ১২৭ ভোট কেন্দ্রের ১১৪টি ঝূঁকিপূর্ণ

সিন্ডিকেটের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। আমরা অবৈধভাবে সুন্দরবনে যেই প্রবেশ করছে আমরা তাকে ধরছি।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড