• বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চাচিকে ভাগিয়ে নেয়ার খবরে ক্ষুব্ধ মেম্বার

  হারুন আনসারী, স্টাফ রিপোর্টার (ফরিদপুর)

১০ জুন ২০২২, ২০:২৫
চাচিকে ভাগিয়ে নেয়ার খবরে ক্ষুব্ধ মেম্বার
নূর আলম ও লাবনী আক্তার (ছবি: সংগৃহীত)

ফরিদপুরের সালথায় একজন ইউপি মেম্বার তার দূর সম্পর্কীয় এক প্রতিবেশী চাচিকে নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে গেছেন এমন খবর প্রকাশে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছেন ওই মেম্বার। খবরটি মোটেও সত্য নয় দাবি করে তিনি বলেন, আমার ইমেজ নষ্ট করার জন্য এমন খবর ছড়ানো হয়েছে। আমি ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার।

অন্যদিকে, ওই নারীর স্বামী জানিয়েছেন, ইউপি মেম্বার এলাকার প্রভাবশালী। স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেয়ার পর সে তার বাড়ির সামনে যেয়ে লোকজন নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। তিনি ভয়ে ঘরের বাইরে বের হতে পারেন না। অন্যদিকে, পুলিশ বলছে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

জানা গেছে, গত দশ বছরেরও বেশি সময় সংসার করার পর দুটি শিশু মেয়েকে রেখে রাতের আঁধারে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান সালথার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মৃত আ. সামাদ মোল্যার ছেলে জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবনী আকতার (২৮)। গত বুধবার সালথা থানায় এ ব্যাপারে জাহিদুল একটি জিডি করেন।

তিনি তাতে বলেন, রাতদুপুরে তার স্ত্রী ঘরের বাইরে যেয়ে আর ফিরেনি।

জিডিতে উল্লেখ না করলেও জাহিদুল সাংবাদিকদের জানান, তার স্ত্রী প্রেমের সম্পর্ক ধরে তার দূর সম্পর্কীয় ভাতিজা ৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার নূর আলমের সাথে পালিয়েছে।

জাহিদুল বলেন, তাদের বাড়ির পেছনেই মামা শ্বশুরের বাড়ি যেখানে প্রাইভেট পড়াতে আসতেন নূর আলম। সেখান থেকে তার স্ত্রী লাবনীর সাথে নূর আলমের সম্পর্ক ও প্রেম। এ নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর বিবাদ হচ্ছিল মাঝেমধ্যেই। পরে জেনেছেন তার স্ত্রী লাবনী নূর আলমের হাত ধরে পালিয়েছে। শুক্রবার সকালে এক নারী এসে তাকে জানিয়েছে যে, নূর আলম ও লাবনী বিয়ে করেছে। আর তাকে তালাকের কাগজও পাঠিয়ে দিয়েছে তার ওই স্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, গত ইলেকশনে আমি সাবেক ইউপি মেম্বার আবু বকরের দলে ছিলাম। নির্বাচনের দিনে নূর আলমের তার কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত ছিলেন নূর আলম। তারপর থেকে সে আমার সংসার নষ্ট করে দিবে বলে ষড়যন্ত্র করছিল।

এদিকে, পলাতক লাবনী আক্তার এক ভিডিও বার্তায় জানান, তার স্বামী জাহিদুলের সাথে একাধিক নারীর অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় তাকে বিভিন্ন সময়ে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকেরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। গত ৭ জুন সন্ধ্যায় তাকে গালিগালাজ করে ও মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় রাতে তিনি আত্মহত্যা করতে বের হন। তবে আত্মহত্যা করতে না পেরে এখন একজন আত্মীয়ের বাড়িতে পালিয়ে রয়েছেন। তিনি কারও সাথে পালিয়ে যাননি বলেও দাবি করেন।

জানা গেছে, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার নূর আলম (৩০) ওই গ্রামেরই মৃত মহিউদ্দিন মিয়ার ছেলে তিনি। এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে নূর আলম বলেন, মেম্বার হওয়ার আগে তিনি মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর ছিলেন। ২০১১ সালে এসএসসি উত্তীর্ণ করে এখন পর্যন্ত মাস্টার্স প্রিলি সম্পন্ন করেছেন। মাস্টার্স ফাইনালের ফর্ম ফিলাপ করেছেন। গত দশটি বছর তিনি কাজ আর মানুষের সেবায় ব্যস্ততার মাঝেই কাটিয়েছেন। এ জন্য বিয়ে করারও সময় পাননি। কিন্তু ইউপি মেম্বার হওয়ার পর তিনি বিয়ের জন্য দু’তিনজন মেয়ে দেখেছিলেন। এখন এই স্ক্যান্ডালের কথা শোনার পরে কেউ আমার কাছে কার মেয়ে দিবে?

নূর আলমের দাবি, লাবনী ও আমার মাঝে কোন সম্পর্ক নেই। ছাত্রাবস্থায় বাড়িতে কয়েকজনকে পড়ালেও কারও বাড়ি যেয়ে কাউকে পড়াইনি।

জাহিদুল ও লাবনী দু’জন দু’জনের বিরুদ্ধে একাধিক অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার মনে হয়, ওই পরিবারেরই কোন সমস্যা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। গত নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন আবু বকর মোল্যা। ওই নির্বাচনে হেরে যেয়ে তখন থেকেই তারা নানা ষড়যন্ত্র ও হামলা করতে থাকে। আবু বকরের পরিকল্পনায় তার সুনাম ও ইমেজ নষ্ট করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাবেক মেম্বার আবু বকর বলেন, আগে আমার কাছের লোক থাকলেও পরে নূর আলম আমার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে। সে সম্পর্কে আমার ভাতিজা। তবে আমি তার বিরুদ্ধে কোন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করিনি।

আরও পড়ুন: দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ডায়রিয়া আক্রান্ত শতাধিক

এ ব্যাপারে নগরকান্দা সালথা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমিনূর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে একটা খবর তাদের নজরে এসেছে। এক ব্যক্তি তার স্ত্রী নিখোঁজের একটি জিডি করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে। মেয়েটির সন্ধান মিললেই আসল রহস্য জানা যাবে।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড