• মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা হরিলুট

  মোস্তাকিম আল রাব্বি সাকিব, যশোর

১০ জুন ২০২২, ১৬:১৮
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা হরিলুট
প্রধান শিক্ষিকা সোনিয়া লাইজু (ছবি: অধিকার)

যশোর শহরের পুরাতন কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পের সমুদয় টাকা হরিলুট হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় স্কুলের কিছু ভাঙ্গা—চুরা জায়গা মেরামত করে ২ লাখ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। অথচ মেরামত খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে ৩০/৪০ হাজার টাকা। বাকি অর্থ ম্যানেজিং কমিটি, প্রধান শিক্ষিকা ও একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি ২০২১—২০২২ অর্থবছরে পুরাতন কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সামান্য ভাঙ্গা—চুরা প্রাচীর প্লাস্টারসহ ছোট—খাটো কিছু মেরামত কাজ করে যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে গত ৭ জুন ২ লাখ টাকার চেক নিয়ে টাকা উত্তোলন করে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। বিষয়টি স্কুলের সাধারণ শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর মাঝে জানাজানি হলে এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ জুন সরেজমিন ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, কিছু ভাঙ্গা—চুরা জায়গা মেরামত করে প্রধান শিক্ষিকা সোনিয়া লাইজু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২ লাখ টাকার চেক এনে টাকা উত্তোলন করে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা সোনিয়া লাইজুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আমাদের স্কুলের কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। তবে এখনও আমরা এ প্রকল্পের কোনো অর্থ হাতে পাইনি।

স্কুলের কি কি উন্নয়ন করা হয়েছে, জানতে চাইলে সরেজমিন তিনি কিছু ভাঙ্গা—চুরা জায়গা মেরামত করা হয়েছে সেগুলো দেখান।

এসব সামান্য মেরামত কাজে অনুমান ৩০/৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বললে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, বিল পেলে আরও কিছু কাজ আমরা করবো। তিনি ৭ জুন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২ লাখ টাকা চেক গ্রহণের কথা অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস জানান, বিলের জন্য ওই মহিলা আমাদেরকে নাজেহাল করে ফেলেছেন। কাজেই আমি এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের একজন উপ—সহকারী প্রকৌশলী বিল প্রদানের ছাড়পত্র দেয়ার কারণে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাকে ২ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।

৩০/৪০ হাজার টাকার কাজ হয়েছে তারপরও কেন ২ লাখ টাকার চেক প্রদান করলেন? এ প্রশ্নের জবাবে সহকারী শিক্ষা অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন আমাদের একটু ভুল হয়েছে, ভাই দয়া করে রিপোর্টটা করবেন না। রিপোর্ট করলে আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন হবে।

শুধু ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পের টাকাই নয়, এর আগে যশোর সদরের ২৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্লিপ ফান্ডের টাকা হরিলুট হয়েছে। আর এখন ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সদরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে চলছে লুটপাটের প্রতিযোগিতা।

অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, সব স্কুলের চিত্রই প্রায় একই রকম। সামান্য কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করে পুরো প্রকল্পের টাকাই হরিলুট করা হচ্ছে। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হলে প্রাথমিক শিক্ষা সেক্টরে কি পরিমাণ দুর্নীতি হচ্ছে। তার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে সচেতন মহল অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আরও পড়ুন: দিনে দুপুরে শিশুর গলা থেকে স্বর্ণের হার ছিনতাই

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড