• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নুরভানুর জীর্ণ কুঠির বৃষ্টি হলেই ভেজে শরীর

  হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

০৮ জুন ২০২২, ১৪:৫৭
নুরভানুর জীর্ণ কুঠির বৃষ্টি হলেই ভেজে শরীর
নুরভানুর জীর্ণ কুঠির। ছবি : অধিকার

সেই আসমানিদের মতো জীর্ণ কুঠিরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন নুরভানু বেগম। বৃষ্টি হলেই চাল গলিয়ে শরীর ভিজে যায় তাদের। অসুস্থ হোটেল শ্রমিক স্বামী মতিয়ার রহমান কাজ করলে দুবেলা পেট পুরে খাবার জোটে। যেদিন কাজে যেতে পারেন না সেদিন দুর্দিন চলে ওই পরিবারটিতে। এই অসহায় পরিবারটি বসবাস করছে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ক্বারীপাড়া গ্রামে।

নুরভানু বেগম জানান, ‘অনেক আর্জি নিয়া চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছোত গেছলং। ওমরা খালি ঘুরায়। কাঁইয়ো হামার জন্যে কিছু করিল না। মানুষ কয় টেকা না দিলে কিছু হবার নয়। হামরাগুলা টাকা পামো কোনটে।’

নুরভানু মতিয়ারের দশ বছরের সংসারে একটি ছেলে আর একটি মেয়ে রয়েছে। তারা ঠিকমতো খাবার পায় না। কাপড়-চোপড়ও দিতে পারে না। ফলে জরাজীর্ণ সংসারের মতো তাদের জীবনটাও ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে কাটছে।

ওই গ্রামের প্রতিবেশী মনজিলা ও হাবিবুর জানান, মতিয়ার অচল মানুষ। ঠিকমতো কাজকর্ম করতে পারে না। নিদারুণ কষ্টে চলছে তাদের সংসার। ঝড়-তুফান আসলে পরিবারটি আতংকে থাকে। কখন ঝড়ে ঝুপড়ি ঘর উড়ে নিয়ে যায়। সরকার এতো ঘর দিল অথচ এই পরিবারটি কিছুই পেল না। একবার আমরা সবাই মিলে মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলাম কিন্তু টাকার জন্য তারা ঘর পেল না। ঘর নিতে হলে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিল তারা। ফলে তাদের ভাগ্যে ঘর জোটেনি।

নুরভানুর স্বামী মতিয়ার রহমান জানান, ‘হামারগুলার সম্বল হইল দুই শতক জমিন। আগোত খড়ের ঘর আছিল। সেটা পঁচি গেইছে। পরে এলাকার লোকজন মিলি টিনের ছাপড়া ঘর করি দিছে। সেই ঝাপড়াও এ্যালা যায় যায় অবস্থা। শীতোত বাতাস ঢোকে। ঝড়ি হইলে ছাপড়া দিয়া টুপ টুপ করি গায়োত পানি পরে।’

সরজমিন নুরভানুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বেহাল অবস্থা। যদিও এটাকে ঘর বলা যায় কিনা। দুই শতক জমির উপর জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরটির ভিতরে বাঁশের ফালি দিয়ে টং (মাচা) তৈরি করে সেখানে রাত কাটায় পরিবারটি। একদিকে চাটাই আর পিছন দিকে পুরাতন কাপড়ের আবরণ দিয়ে বেড়া তৈরি করা হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে মানবেতরভাবে জীবন যাপন করছে পরিবারটি। সরকার ভূমিহীন ও আশ্রয়হীনদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করে দিলেও এই অসহায় পরিবারটি থেকে গেছে এই সুবিধার বাহিরেই। তবে সরকারি ঘর না পেলেও এনিয়ে আক্ষেপ নেই নুরভানুর।

বিষয়টি নিয়ে হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শায়খুল ইসলাম নয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ঘরের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। এবার বরাদ্দ পেলে নুরভানুর বিষয়টি দেখা হবে।

অপরদিকে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল কুমার জানান, পরিবারটির নামে নিজস্ব জমি থাকায় ক্রাইটোরিয়া অনুয়ায়ী আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দ পাবেন না। তবে তাদেরকে ঘরের সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করা যাবে।

ওডি/ওএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড