• বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অন্যের বউ ভাগিয়ে নেয়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

  হারুন আনসারী, স্টাফ রিপোর্টার, (ফরিদপুর)

০৭ জুন ২০২২, ১৯:৪৪
অন্যের বউ ভাগিয়ে নেয়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা
গুরুচাঁদ মন্ডলের মৃতদেহ (ছবি: অধিকার)

ফরিদপুরে অন্যের বউকে ভাগিয়ে নেয়ার অপরাধে আট গ্রামের মোড়লেরা পরিবারকে একঘরে রাখার পর কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল গুরুচাঁদ মন্ডল (৩৫) নামে এক যুবককে। ২১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকার বক্ষব্যাধী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। জেলার মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের বামুন্দী কলাগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত গুরুচাঁদ মন্ডল মেগচামীর বামুনদি কলাগাছি গ্রামের দরিদ্র গ্রাম্য রেপতি মন্ডলের তিন ছেলের মধ্যে মেঝো। তার স্ত্রী ও একটি ছেলে রয়েছে। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হওয়ার ২১ দিন পর ঢাকার বক্ষব্যাধী হাসপাতালে সোমবার (৬ জুন) সকালে মারা যায় গুরুচাঁদ। কুপিয়ে জখম করার আগে বউ ভাগিয়ে নেয়ার অপরাধে গুরুচাঁদের পরিবারকে মিটিং করে একঘরে করে রেখেছিলো আশেপাশের আট গ্রামের মোড়লেরা।

নিহতের স্ত্রী মনিকা মন্ডল জানান, প্রায় ২ মাস আগে তার স্বামী গুরুচাঁদ মন্ডলের সাথে পাশের গ্রামের জয়ন্ত সরকারের বউ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। চারদিন পর তাদের দুজনকে ঝিনাইদহ আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর তার স্বামী গুরুচাঁদের বিরুদ্ধে থানায় বউ ভাগিয়ে নেয়ার অপরাধে একটি অপহরণ মামলা করেন জয়ন্ত সরকার।

তিনি আরও জানান, জয়ন্ত সরকারের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেয়ার ওই মামলায় তার স্বামী গুরুচাঁদ ৭ দিন জেলে ছিল। এরপর আদালত থেকে সে জামিনে বেরিয়ে আসে। তারপর থেকে জয়ন্ত লোক দিয়ে তার স্বামীকে মারার চেষ্টা চালায়। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। তিনদিনের মধ্যে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বলে। এরফলে তার স্বামী পালিয়ে থাকতো। এরইমধ্যে একরাতে বাড়ি ফেরার পথে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

গ্রামবাসী জানান, নিহত গুরুচাঁদ তেলের ট্রাক চালাতো। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজ করতো। কিছুদিন সে তেলের ব্যবসাও করেছে। তার শ্বশুরবাড়ির অবস্থা পিতার বাড়ির চেয়ে ভালো। তিনবছর আগে তার সাথে পাশের গ্রামের জয়ন্ত সরকারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে সে জয়ন্তদের বাড়িতে যাতায়াত করতো। জয়ন্তের স্ত্রী ও মেয়ের নানা কাজ করে দিতো। তাদের চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যেতো। এভাবে একপর্যায়ে জয়ন্তের অবর্তমানে জয়ন্তের স্ত্রীর ঘনিষ্ট হয় সে। এক সময়ে তাদের মাঝে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর গত দুই মাস আগে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলে পুলিশ আটক করে।

বামনদি বালিয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও গুরুচাঁদের বাল্যবন্ধু সোহান (৩৩) বলেন, অন্যের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নেয়ার অপরাধে আশেপাশের আট গ্রামের মাতুব্বরেরা সালিস করে গুরুচাঁদের গোটা পরিবারকে একঘরে করে রেখেছিল। এরপর তাকে হত্যা করা হয়। এখনও প্রভাবশালীদের ভয়ে তার পরিবার ভীতসন্ত্রস্ত। এই পরিবারটি খুবই অসহায় হয়ে পড়েছে।

গুরুদেব মন্ডলের বাবা রেপতি মন্ডল বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমার ছেলে যা করেছে সেজন্য আমাদেরও শাস্তি দেয়া হচ্ছে। আমরা পুরো পরিবার এখন খুবই অসহায়। এই এতিম একটা নাতি নিয়ে কোথায় দাড়াবো? আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।

এ ব্যাপারে মেগচামী ইউপি চেয়ারম্যান হাসান আলী বলেন, তিনি গুরুচাঁদের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়িতে যান এবং শেষকৃত্যে অংশ নেন। তবে তিনি এর আগে নিহতের পরিবারকে একঘরে করে রাখার খবর জানতেন না। তিনি পুলিশকে আসামিদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চালানোর অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও জানান।

আরও পড়ুন: হেরে গেলেন সানজিদা

মধুখালী থানার এসআই সান্টুদেব জানান, গত ১৫ মে রাতে গুরুচাঁদকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন গুরুচাঁদের স্ত্রী মনিকা মন্ডল। পুলিশ ওই মামলার প্রধান আসামি জয়ন্ত সরকার ও উজ্জল নামে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে মামলার প্রধান আসামি জয়ন্ত সরকার জেলহাজতে রয়েছে। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে দেখছে।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড