• শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সেই মা ও শিশু সন্তান হত্যার রহস্য উদঘাটন

  হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

২৫ মে ২০২২, ২১:২১
সেই মা ও শিশু সন্তান হত্যার রহস্য উদঘাটন
র‌্যাবের হাতে আটক চান মিয়া ও জাকির হোসেন ওরফে জফিয়াল (ছবি: অধিকার)

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে চাঞ্চল্যকর মা ও শিশু হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে জামালপুর র‌্যাব-১৪। ছায়া তদন্তের মাধ্যমে এই ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আটক করতে সমর্থ হয় তারা।

বুধবার (২৫ মে) দুপুরে রৌমারী অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জট খুলে সাংবাদিকদের সামনে ঘটনার বর্ণনা দেন জামালপুর র‌্যাব-১৪, সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন হাফসা খাতুনের ভাসুর চান মিয়া (৪৩)। এ সময় তাকে সহযোগিতা করে হাফসার কথিত উকিল বাবা জাকির হোসেন ওরফে জফিয়াল (২৮)। পারিবারিক কলহের জেড়ে নিজের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী হাফসা খাতুন (২৭) ও তার ৫মাস বয়সী ছেলে হাবীবকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে চান মিয়া।

এ সময় তাকে সহযোগিতা করে জাকির হোসেন। হত্যাকাণ্ডের পর উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায় চান মিয়া। এ ঘটনার পর নিহত হাফসা আক্তারের বাবা হারুন উর রশীদ বাদী হয়ে রৌমারী থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মা ও শিশুসন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র‌্যাবের জামালপুর ক্যাম্পের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও ঘটনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামি জাকির হোসেন জফিয়ালকে সনাক্ত করতে সমর্থ হয়। এরপর তাকে ট্র্যাকিং করে পালানোর সময় জামালপুর জেলার বকসীগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যমতে চান মিয়াকেও রৌমারীর শৌলমারী থেকে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী হাফসা আক্তার তার অসুস্থ ৫ বছর বয়সী ছেলে হাবীবকে কুড়িগ্রামে ডাক্তার দেখানোর পর চিকিৎসা শেষে রৌমারীতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রৌমারী বাজার হতে প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ও একটি ফ্লাক্স কিনে শ্বশুর বাড়িতে যান। সেখান থেকে ছেলেকে নিয়ে তার বাবার বাড়ি সদর ইউনিয়নের নতুন বন্দর গ্রামে যাওয়ার সময় জনৈক আব্দুর সবুর মিয়ার পুকুরের পূর্ব পাড়ে ওৎপেতে থাকা চান মিয়া ও জাকির হোসেন হাফসা আক্তার ও তার শিশু সন্তানকে আটক করে।

এখানেই নির্মমভাবে দুজনের গলা কেটে হত্যা করা হয়। শিশু সন্তানটি সাথে সাথে মারা গেলেও গুরুতর আহত হাফসা আক্তারকে প্রথমে রৌমারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। পারিবারিক কলহের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাব-১৪, সিপিসি-১, জামালপুর ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডর এএসপি এমএম সবুজ রানা। এছাড়াও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাবের হাতে আটক ওই দুই আসামিকে দুপুর আড়াইটার সময় রৌমারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুন্তাছের বিল্লাহ।

আরও পড়ুন: পাঁচ দিন ধরে মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ

উল্লেখ্য, গত ২১ মে (শনিবার) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নতুনবন্দর নামক এলাকায় এক পুকুর পাড়ে ধান ক্ষেত থেকে গলা কাটা অবস্থায় হাফসা আক্তার এবং তার পাঁচ মাস বয়সী শিশু সন্তান হাবীবের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেবার পথে হাফসা আক্তারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত হাফসা আক্তারের বাবা হারন উর রশীদ বাদি হয়ে রৌমারী থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড