• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন

  হারুন আনসারী, ফরিদপুর

১৭ মে ২০২২, ১০:৩৩
প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন
চরভদ্রাসন থানা । ছবি : অধিকার

ফরিদপুরের আদালতে থাকার সময় পদ্মা নদীর এক দুর্গম চরে মারামারির ঘটনায় আসামি করা হয়েছে কৃষক আজিজ খাঁকে। এ ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন।

জানা গেছে, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চাঞ্চল্য চরশালেপুরের মৃত সুরমান খাঁর ছেলে আজিজ খাঁ (৪৫)। গত ৬ মার্চ ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আসেন তিনি। দুর্গম চরশালেপুর হতে ফরিদপুরের আদালতে আসতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। আর আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফিরতে তার দুপুর হয়ে পরে। তবে আজিজ খাঁ যে সময় ফরিদপুরে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন, ঠিক সে সময় চরশালেপুর গ্রামে একটি সংঘর্ষে তিনি অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করছে পুলিশ।

আরও জানা গেছে, এ ঘটনায় আজিজ খাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। সাতদিন পর ১৩ মার্চ চরভদ্রাসন থানায় মামলা রেকর্ড হয়। মামলা নম্বর ২/১৩। শালেপুর গ্রামের মৃত সেরজান খানের ছেলে মোনায়েম খান (৬০) এ মামলার বাদী। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার এসআই অমিয় মজুমদার তদন্ত শেষে ২১ এপ্রিল চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে আজিজ খাঁর বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৪৩ ধারার বেআইনি সমাবেশ, ৪৪৭ ধারার অপরাধ অনুপ্রবেশ, ৩২৩ ধারার স্বেচ্ছাকৃত আঘাত, ৪২৭ ধারার সম্পদের অনিষ্টসাধন ও ৫০৬ ধারার অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়।

এ ঘটনায় আজিজ খাঁ বলেন, আমিসহ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা সবাই ভূমিহীন। চরের জমির পত্তন পাওয়ার পর থেকে আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, চলছে হামলা ও মামলা। আমাদের ফসলও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে আগেও এমন মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৬ মার্চ তেমন একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে ছিলাম। সেদিন বিচারক আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা খারিজ করে দিয়েছিলেন। অথচ সেদিন আমি সংঘর্ষে অংশ নিয়েছি বলে নতুন করে আবার মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া ১১ মে আমার নামে ফরিদপুরের আদালতে আরও একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভূমিহীনদের উচ্ছেদের জন্য এভাবে একের পর এক মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চরভদ্রাসনের চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শেখ মো. ফরিদের দাখিল করা এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৪ নম্বর চরশালেপুর মৌজায় নদী ভাঙনে সিকস্তি পয়স্তি হয়ে দিয়ারা রেকর্ডে বেশকিছু জমি সরকারের পক্ষে ডেপুটি কমিশনার, ফরিদপুরের নামে রেকর্ড হয়। ২০১৭ সালে কবুলিয়াত মূলে এবং বন্দোবস্ত কেসের মাধ্যমে প্রায় শতাধিক ভূমিহীন পরিবারকে ওই জমির পত্তন দেওয়া হয়। এরপর ওই জমির দখল নিতে একটি চক্র ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে।

এদিকে আজিজ খাঁর বিরুদ্ধে মামলার বাদী মোনায়েম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসামিরা ভোরে ঘটনা ঘটিয়ে ফরিদপুরে কোর্টে চলে আসে। পরে মামলা করার সময় অনুমানের উপরে সাড়ে ১১টার সময় ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়। মাসে ওরা দুই-চারটা এমন ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চরভদ্রাসন থানার এসআই অমিয় মজুমদার বলেন, আমি ওই মামলার তদন্তকালে চরশালেপুর গেলে আসামিরা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তখন তাদের দাবির স্বপক্ষে তথ্যপ্রমাণ জমা দিতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা সময়মতো সেগুলো জমা দিতে পারেননি। ফলে বাদীর এজাহার ও সাক্ষীদের জবানবন্দির ভিত্তিতে চার্জশিট তৈরি করে আদালতে দাখিল করেছি।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, যেহেতু চার্জশিট দিয়েছে নিশ্চয়ই কোনও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে। এখন আদালত এটির সত্যতা যাচাই করে দেখবেন। তবে যেহেতু এ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

ওডি/ওএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড