• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কার্যাদেশ না পেয়েও সড়কে মাটি ভরাট, স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়

  মনিরুজ্জামান, নরসিংদী

১৫ মে ২০২২, ১২:১৪
কার্যাদেশ না পেয়েও সড়কে মাটি ভরাট, স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়
সদ্য মাটি দিয়ে ভরাট হওয়া সড়ক (ছবি : অধিকার)

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চর আড়ালিয়া ইউনিয়নে উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ দেওয়ার আগেই রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করেছে মোল্লা ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

উপজেলার চর আড়ালিয়া ইউনিয়নের কাট্টাখালি ব্রিজ থেকে রাজনগর বোদ্দার বাড়ীর ঘাট পর্যন্ত আধা কিলোমিটার এসবিবি (ইটের সলিং) রাস্তার কাজের জন্য কোনো প্রকার কার্যাদেশ পাওয়া ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নদী খননের মাটি দিয়ে ভরাটের কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

তবে কার্যাদেশের আগে রাস্তার মাটি ভরাটের বিষয়টি অবগত নন বলে জানান রায়পুরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. বোরহান উদ্দিন। কার্যাদেশের পূর্বে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করায় এ কাজের কোনো দায়ভার বাস্তবায়ন সংস্থা বহন করবে না বলেও জানান তিনি।

রায়পুরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫৯ লাখ ৪৮ হাজার ১৪০ টাকা ব্যয়ে চর আড়ালিয়া ও শ্রীনগর এই দুই ইউনিয়নে আধা কিলোমিটার করে মোট ১ কিলোমিটার এসবিবি (ইটের সলিং) রাস্তার উন্নয়ন কাজের টেন্ডার হয়েছে। টেন্ডারের নিয়মানুযায়ী মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। তাদের অধীনে সাব সহকারী ঠিকাদার হিসেবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজটির দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ১১ মে পর্যন্ত উপজেলার ওই কার্যালয় থেকে কাজটির কোনো প্রকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। অথচ সম্পূর্ণভাবে নদী খননের বালু মাটি দিয়ে ইদের বেশ কয়েকদিন আগে চর আড়ালিয়া ইউনিয়নের আধা কিলোমিটার রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ শেষ করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরকার। নদী খননের ফ্রি মাটি দিয়ে রাস্তা ভরাটের কাজ সম্পন্ন করে উন্নয়ন বাজেটের মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই চেয়ারম্যান কাজটি করেছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। নতুবা কার্যাদেশ না পেয়ে তড়িঘড়ি করে মাটি ভরাটের পিছনে কী রহস্য থাকতে পারে তাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সকলের কাছে।

জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নরসিংদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে নদী খনন কাজ চলে আসছে। চর আড়ালিয়া ইউনিয়নে এ কার্যক্রম দীর্ঘদিন যাবত চলমান আছে। নিয়মানুযায়ী নদী খননের এ সকল মাটি বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, ইদগাহ, কবরস্থান, নদী তীরবর্তী বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণে বিনামূল্যে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সহকারী ঠিকাদার, বিএনপি মনোনীত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরকার নিজের প্রভাব খাটিয়ে সেই মাটি রাস্তার উন্নয়ন কাজের জন্য ভরাট করেন। এতে করে তিনি মাটি ভরাটের জন্য মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আর এর প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এলাকার অনেক ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন : নিখোঁজ সন্তানের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য নদী খননের মাটি দিয়ে রাস্তা ভরাটের সময় চেয়ারম্যান হাসান উদ্দিন সরকার তার ভাড়াটিয়া বাহিনী কাজে লাগিয়ে দিয়ে তিনি সুকৌশলে ওমরা হজ করতে সৌদি আরব চলে যায়। ইদের আগেই নদীর এ অংশের ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কাজ শেষ হয়ে যাবে তাই চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরকার সৌদি আরব থেকেই তার লোকদেরকে রাস্তায় বালু ভরাটের জন্য নির্দেশ দেন। এর ফলে কৌশলে বিনা পয়সায় রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ করে রাস্তার মাটি ক্রয়ের টাকা তার পকেটস্থ করে নেয়ার ফন্দি আঁটে। আর এই মাটি ভরাটের কাজ দেখিয়ে রাস্তার উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার সংস্থা থেকে সহকারী ঠিকাদার হিসেবে কাজটি বাগিয়ে নেন।

দানেস মিয়া নামে ষাটোর্ধ একজন বয়োবৃদ্ধ বলেন, এই রাস্তাটি এলাকার মানুষের উপকারের স্বার্থে করা হলেও নদী থেকে তোলা বালু দিয়ে রাস্তার মাটি ভরাট করার কারণে এর স্থায়িত্ব নিয়ে আমরা সন্দিহান। এই মাটি কতক্ষণ থাকবে সেটাই দেখার বিষয়। বালু মাটি বিধায় এ মাটি কোনো অবস্থায় টেকসই হবে না। কোনো ধরনের গাইড ওয়াল ছাড়াই মাটি ভরাট সম্পন্ন করায় সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তার মাটি সরে রাস্তা ভেঙ্গে পড়বে।

প্রকাশ্য দিবালোকে নদী খননের মাটি দিয়ে রাস্তা ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরকার বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে যে নদী খননের মাটি থেকে এক ওড়া (এক পাথি) মাটি রাস্তায় দিয়েছি তবে আমি আর চেয়ারম্যানি করব না। স্বেচ্ছায় নাকে খত কেটে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়াব।

পরে এ ব্যাপারে তার সামনে বিভিন্ন প্রমাণাদি উপস্থাপন করলে টাকার বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোল্লা ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী কামাল মোল্লার সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে জানাব।

পরবর্তীকালে তিনি বলেছেন, চড় আড়ালিয়ার রাস্তার কাজ আমি কাগজে কলমে হাসান চেয়ারম্যানকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এর জন্য আমার কোনো দায়ভার নেই; তাই বিষয়টি তিনি বুঝবেন।

আরও পড়ুন : পদ্মার চরে মিলল নিখোঁজ প্রহরীর লাশ

রায়পুরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত এ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। কার্যাদেশের আগেই কোনো কাজ করে থাকলে এর দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহন করবে। আমি কয়েকদিনের মধ্যে সাইড ভিজিট করব। রাস্তা যাতে টিকসই হয় আমরা সে রকম ব্যবস্থা নেব। কোনো অবস্থাতেই উন্নয়ন কাজের গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না।

ওডি/কেএইচআর

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড