• বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অশনি’র ভারী বৃষ্টিতে কৃষকের বোবা কান্না

  ইয়ার হোসেন সোহান, ঝিকরগাছা, যশোর

১২ মে ২০২২, ১৪:৪০
অশনি’র ভারী বৃষ্টিতে কৃষকের বোবা কান্না
ধানের স্তূপ। ছবি : অধিকার

যশোর ঝিকরগাছায় অশনি’র ভারী বৃষ্টিতে মাঠে মাঠে কৃষকের বোবা কান্না যেন থামছে না। এ দিকে মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরির খেলায় কৃষকের মাঝে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। শনিরদশায় পড়েছে যেন কৃষকের মাঠের কাটাধান। কয়েক দফা ভারী বৃষ্টিতে এ সময় ধান গোছাতে ফের নাকাল হয়ে পড়েন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগের দাবি সৃষ্ট নিম্নচাপ জনিত ভারী বৃষ্টিতে কৃষকের বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা দেখা দিলেও তেমনটি হয়নি।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আমরা তাৎক্ষনিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ হিসেবে আক্রান্ত দেখিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। ভারীবৃষ্টির আগে ৬৬শতাংশ জমির বোরোধান কাটা পড়ে। এর মধ্যে ৫৪শতাংশ কৃষক পরিবারে তাদের কাটাধান ঘরে তুলতে সক্ষম হন। আক্রান্ত ১২ শতাংশ ধান কাটা রয়েছে। এছাড়া ৩৪ শতাংশ কাটার অপেক্ষায় রয়েছে।

তার মতে, পৌরসদরসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে বড়, মাধারী, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মিলিয়ে সর্বমোট ৫৯ হাজার একশ ৮৪কৃষক পরিবার রয়েছে।

এ দিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, সরকারী দেওয়া তথ্যের চেয়ে বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি। বিশেষ করে শংকরপুর ও বাঁকড়া ইউনিয়নের বিলকচুয়া, গঙ্গানন্দপুর ও শিমুলিয়া ইউনিয়নের বৃহৎবিল বনমান্দার সংলগ্ন পাল্লা, রাজাপুর, আজমপুর, খাশখালী, শ্রীরামকাঠি, কাগমারি, বিশহরি, বালিয়া, শ্রীচন্দ্রপুর, গোয়ালহাটি, ব্যাঙদাহ, দোসতিনা, জামালপুর, মধুখালীসহ ঝিকরগাছাসদর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর, সাগরপুর, লক্ষিপুর, মল্লিকপুর, লাউজানী, কাশিপুর, পদ্মপুকুর, চাপাতলা, বেড়েলা, চন্দ্রপুর, মির্জাপুর, চন্দ্রপুর, ফারাসাতপুর, পায়রাডাঙ্গাসহ পৌরসদরের মোবারকপুর, কীর্তিপুর প্রভৃতি গ্রামের কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

অনেক কৃষক পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়েছে ঘূর্ণিঝড় অশনির সৃষ্ট ভারীবৃষ্টি। বহুকৃষক ধারদেনা করে স্বপ্নের বোরোধান রোপণ করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য ভারীবৃষ্টিতে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই কৃষকের সেই স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মুজুর সংকটের কারণে কৃষকরা নিজ নিজ খেতের ধান নারী-পুরুষ মিলে জমির আইল, রাস্তা, কিম্বা আশপাশের কোনো উঁচু স্থানে কাটাধান নিরুপায় হয়ে স্তূপ করে রেখেছেন। কেউবা কোনো মতে বাড়ির উঠানে ভিজাধান তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

উল্লেখ্য, কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ঝিকরগাছা পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে চলতি বছর ১৮হাজার ৮৫০হেক্টর জমিতে বোরোধান আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭১ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন। বিগত বছরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমি। এবার তা প্রায় একহাজার হেক্টর জমির আবাদ বেশি করা হয়েছিল। গড় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল প্রতি হেক্টরে ৫ দশমিক ৮ মেট্রিক টন।

ওডি/ওএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড