• বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মৃত মায়ের নামে ভাতা তোলেন নারী কাউন্সিলর!

  কাজী কামাল হোসেন, বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান (রাজশাহী)

১১ মে ২০২২, ১৯:৫৭
সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোছা. ফারজানা খাতুন
সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোছা. ফারজানা খাতুন (ছবি : অধিকার)

নওগাঁর পত্মীতলা উপজেলার নজিপুরে মোছা. ফারজানা খাতুন নামে এক নারী কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মৃত মাকে জীবিত দেখিয়ে গত ৯ মাস ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই নারী কাউন্সিলরের মা প্রতিবন্ধী না হলেও তাকে প্রতিবন্ধী সাজিয়ে ভাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়াও পরিবারের সকল সদস্য, আত্মীয়-স্বজনকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো না কোনো সেবায় অন্তর্ভুক্ত, পৌরসভার বাইরের মানুষকে পৌরসেবায় অন্তভুক্তকরণ এবং নিয়মবহির্ভূত বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করিয়ে নেওয়ার জন্য সুপারিশসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত পৌর নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো নজিপুর পৌরসভার ৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন মোছা. ফারজানা খাতুন। কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই তিনি নানারকম অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। নিজের সুস্থ মা মোছা. ফাতেমা বেগমকে প্রতিবন্ধী বানিয়ে তিনি সরকারি ভাতায় অন্তর্ভুক্ত করেন (ওয়ার্ড নং-৭, সিরিয়াল নং-৩৬) এবং পিতা নেজাম উদ্দিনকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেন (ওয়ার্ড নং-৭, সিরিয়াল নম্বর ৩২)। গত ৯ মাস আগে ওই নারী কাউন্সিলরের মা মারা গেলেও তিনি মৃত মায়ের নামে প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন।

কাউন্সিলর ফারজানা খাতুনের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ পাওয়া গেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সেবায় অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার নামে উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থগ্রহণ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা, পৌরসভার বাইরের মানুষকে পৌরসভার সেবায় অন্তর্ভুক্ত করা, অকৃষকদের মাঝে ভর্তুকির সার ও বীজ বিতরণ করা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হরিরামপুর কলেজ পাড়ার বাসিন্দা মানিক নামের এক ব্যক্তিকে কাউন্সিলর ফারজানা কৃষি ভর্তুকির কার্ড করে দিলেও ওই ব্যক্তির কোনো জায়গাজমিই নেই। সম্পর্কে মানিক কাউন্সিলর ফারজানার বোনজামাই। নজিপুর নতুনহাট মোড় এলাকার বাসিন্দা হাসান হাবিব সরকার জানান, তার স্ত্রী নাসরিনের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য কাউন্সিলর ফারজানার কাছে গেলে তিনি টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারার কারণে তার স্ত্রীর মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড হয়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সংরক্ষিত কাউন্সিলর মোছা. ফারজানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তবে নজিপুর পৌরসভার মেয়র রেজাউল কবির চৌধুরী বলেন, ‘কাউন্সিলর ফারজানা নিজের মৃত মায়ের নামে ভাতা খাচ্ছে- বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এছাড়াও পৌর এলাকার বাইরে মানুষদের বিভিন্ন সেবায় অন্তর্ভুক্ত করাসহ সকল অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন : এক গোডাউনেই মিলল ৪০ হাজার লিটার সয়াবিন

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোছা. ফারজানা খাতুনের মা প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ছিলেন, এটা সত্য। কয়েকমাস আগে তার মারা গেছে শুনেছি। আমরা বিষয়টি জানার পর পৌর মেয়রকে নতুন নাম প্রতিস্থাপন করতে বলেছি। নাম প্রতিস্থাপন না করায় গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ভাতার টাকা ওই অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। নিজের মৃত মায়ের নামে ভাতা খাচ্ছেন একজন কাউন্সিলর- এটা দেখে অবাক হচ্ছি। তার বাবা নেজাম উদ্দীনের নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড