• বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সেচের বদলে কেটে নেওয়া হয় এক পঞ্চমাংশ ধান

  কাজী কামাল হোসেন, ব্যুরো প্রধান (রাজশাহী)

১১ মে ২০২২, ১৩:০১
ছবি : সংগৃহীত

নওগাঁয় বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপের (গনকু) অপারেটর ও মালিকদের বিরুদ্ধে সেচ বাবদ কমিটির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ উৎপাদিত ধানের এক পঞ্চমাংশ কেটে নেওয়াসহ কৃষকদের নানাভাবে হয়রানি অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের দাবি কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারির অভাব, বিধি মোতাবেক রিচার্জকৃত কার্ডের মাধ্যমে পানি না দেয়া এবং দায়সারা আচরণে প্রতি বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রাকৃতিক উৎস ও ভূগর্ভস্থ পানির সংকটের সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন হয়রানির পাশাপাশি তাদের গলাকাটা হচ্ছে।

মান্দা উপজেলার কালিকাপুর এবং বিষ্ণুপুর ইউপির ১৪-১৫ জন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় ব্যক্তিগত ও বরেন্দ্র মিলে প্রায় ১৫টি গভীর নলকূপ আছে। এদের মধ্যে ইয়াদ আলী, হারুন, গোলাম,দুলাল,আসলাম,কছিম উদ্দিন,নাসির মাস্টার, মোশারফ, মোসলেম,কামরুজ্জামান, মুঞ্জুরুল, গফুর, সাইফুল, সালাম, সাত্তার এবং আবুলসহ এরা সবাই তাদের পছন্দমতো উৎপাদিত ধানের ভালো অংশের পাঁচ ভাগের এক ভাগ কেটে নিয়ে চলে যায়। এতে করে আমাদের বিঘা প্রতি ৫-৬ মণ ধান তারা নিয়ে যাচ্ছে, যার বাজার মূল্য ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আমরা নিরুপাই।

নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের বুধুরিয়া গ্রামের কৃষক ছায়েদ আলী, ইস্কান্দার মণ্ডল, গফুর মণ্ডল, আনারুলসহ কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, তাদের গ্রামে গভীর নলকূপের কোনো অপারেটর বিঘাপ্রতি ১৮০০ টাকা, আবার কোনো অপারেটর ১৬০০ টাকা করে আদায় করছেন। অথচ উপজেলা সেচ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চন্দননগর ইউনিয়নে বিঘাপ্রতি ১৪০০ টাকা করে সেচের পানির রেট নির্ধারণ করা হচ্ছে। এছাড়া মৌসুমের শুরুতেই অগ্রিম এক হাজার টাকা করে জমা দিতে হয়। তা না হলে সেচের পানি পেতে কৃষকেরা নানাভাবে হয়রানির স্বীকার হয়ে থাকেন।

অন্যদিকে এসব গভীর নলকূপ মালিক এবং বিএমডিএর অপারেটরদের দাবী, ‘আমরা কাউকে জোর জবরদস্তি করে বলিনা যে আমাদের নলকুপের পানি নিতেই হবে তাছাড়া এই এলাকায় গভীর নলকূপের সব মালিকেরা উৎপাদিত ধানের এক পঞ্চমাংশ জমি থেকে কেটে নেন, তাই আমরাও নিচ্ছি।’

মান্দা উপজেলা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এর সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, বিধি মোতাবেক নিজের রিচার্জকৃত কার্ডের মাধ্যমে কৃষক তার জমিতে পানি সেচ নিবেন এবং অপারেটর প্রি-পেইড মিটারের মাধ্যমে তা দিতে বাধ্য তবে বিভিন্ন কারণে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, এ উপজেলায় সেচ চার্জ বিঘা প্রতি সবোর্চ্চ ১৩০০ এবং সর্ব নিম্ন ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদিত ধানের এক পঞ্চমাংশ কর্তন বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।

কৃষকদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিএ নওগাঁ রিজিয়ন-১-এর প্রকৌশলী সমশের আলী বলেন, প্রতিটি উপজেলায় কৃষকদের মাঝে নায্যমূল্যে সেচের পানি বণ্টনের জন্য সেচ কমিটি করে দেওয়া আছে। ওই সব সেচ কমিটির ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনুযায়ী একেক এলাকার জন্য একেক ধরণের সেচ রেট নির্ধারণ করে দেন। গভীর নলকূপের অপারেটর ও মালিকেরা সেচ কমিটি নির্ধারিত রেটে কৃষকদের মাঝে সেচের পানি দেওয়ার কথা। কোনো অপারেটর কিংবা মালিক সেচ কমিটি নির্ধারিত রেটের চেয়ে বেশি টাকা নিয়ে থাকলে ওই সব এলাকার কৃষকেরা অভিযোগ করলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) রিজিয়ন-১ কার্যালয় ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে ইরি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএমডিএ পরিচালিত জেলায় মোট গভীর নলকূপ রয়েছে ১৫ হাজার ৪০০টি। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন আরও ৮৭৬টি গভীর নলকূপ রয়েছে।

ওডি/মাহমুদ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড