• বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আ. লীগের ৫৩ মাসে ৪ সভা

  তুষার আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ

০৯ মে ২০২২, ১৩:৩৫
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আ. লীগের ৫৩ মাসে ৪ সভা
নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা। ছবি : অধিকার

নিয়মিত বর্ধিত সভা হচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের। এতে সাংগঠনিক গতি হ্রাস পাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, প্রতি মাসে সম্ভব না হলেও অন্তত ২ মাসে একটি করে ওয়ার্কিং কমিটির বর্ধিত সভা অনিবার্য। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে সেই চর্চা নেই।

জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৪ বছর বা ৫৩ মাসে মাত্র ৪টি বর্ধিত সভা করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। যদিও দফতর সম্পাদক এমএ রাসেল ইতিপূর্বে জানিয়েছিলেন, এ পর্যন্ত ৮টি বর্ধিত সভা বা ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের।

জানা গেছে, কেন্দ্রের কড়া নির্দেশনার পর সর্বশেষ গত বছরের ৬ নভেম্বর বর্ধিত সভা করেছিল জেলা আওয়ামী লীগ। ওই বর্ধিত সভা নিয়েও নানা নাটক মঞ্চায়ন হয়েছে। এরপর দীর্ঘ ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও বর্ধিত সভা হয়নি জেলা আওয়ামী লীগের।

এই বিষয়ে জানতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

এদিকে নিয়মিত বর্ধিত সভা বা ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে বাধা কোথায়- এমন প্রশ্ন আওয়ামী লীগের তৃণমূলে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল বিগত সময়ে নিজেদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রাধান্য দিয়েছেন। সোনারগাঁসহ বিভিন্ন থানায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনে অনিয়ম, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তালিকা তৈরিতে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। তারা দলের অন্যান্য দায়িত্বশীল ব্যক্তির সাথে আলোচনা করেন না। এতে অনেক ক্ষেত্রে বিতর্কে জড়িয়েছেন। মিটিং হলে এসব বিতর্কের বিষয়ে সদস্যদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হবে ও কৈফিয়ত দিতে হবে- এই জন্য তারা ভয়ে মিটিংয়ের আয়োজন করেন না। এরই মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়। তাদের মধ্যেও এখন গ্যাপ রয়েছে। উত্তপ্ত বাগযুদ্ধ হয়েছে। সমালোচনা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের মতো একটি কমিটির নেতৃত্ব এভাবে চলতে পারে না।’

সমীকরণ বলছে, প্রতি দুই মাস পর পর নিয়মিত ওয়ার্কিং কমিটির সভা হলে দীর্ঘ ৫৩ মাসের এই সময়কালে অন্তত ২৬টি মিটিং হতো। সেখানে সভা হয়েছে মাত্র ৪টি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগেও একই চিত্র বিরাজ করছে। তারাও নিয়মিত বর্ধিত সভার আয়োজনে ব্যর্থ হয়েছেন।

রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল বলছেন, নিয়মিত বর্ধিত সভা হলে দলে শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচারের পাশাপাশি সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেত। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পেত না। কিন্তু সেই পথে এগোতে পারেনি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। উল্টো নেতায় নেতায় বাড়ছে বিভাজন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার মধ্যেও দীর্ঘ দিন ধরে বিভাজন চলছে প্রকাশ্যে। নারায়ণগঞ্জে সাংসদ শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের যেই দুই বলয় তৈরি হয়েছে, সেই বলয়কেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে এই বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। তাই ওয়ার্কিং কমিটির বর্ধিত সভা তো বটেই, দলীয় কর্মসূচিতেও এক সাথে দেখা যায় না জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের।

ওডি/ওএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড