• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাজশাহীতে হঠাৎ হাওয়া হয়ে গেছে পেট্রোল-অকটেন

  মো. রাফিকুর রহমান, লালু

০৯ মে ২০২২, ১১:০০
ছবি : সংগৃহীত

ইদের ছুটির পর হঠাৎ করেই রাজশাহীতে পেট্রোল-অকটেন হাওয়া হয়ে গেছে। রাজশাহীতে জ্বালানি তেল নিয়ে এক ধরণের অরাজকতা শুরু হয়েছে। রাজশাহী নগরীর অনেক পেট্রোল পাম্পেই এখন পেট্রোল-অকটেন নেই এমন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক ফুয়েল স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে, পেট্রোল থাকলেও অকটেন নেই, আবার অকটেন থাকলেও পেট্রোল নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী নগরী ছাড়াও জেলার উপজেলা পর্যায়ের পাম্পগুলোতেও পেট্রোল-অকটেন কোনোটিই মিলছে না। অনেকেই অযৌক্তিকভাবে কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দরে বিক্রি করছেন। তবে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় তেল সরবরাহ কম। তাই জ্বালানি তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিকেরা।

রাজশাহী পেট্রোল পাম্প অ্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি সূত্র দৈনিক অধিকারকে জানায়, রাজশাহী জেলার নয়টি উপজেলায় ৪৮টি তালিকাভুক্ত পেট্রোল পাম্প রয়েছে। কিন্তু গত প্রায় তিন মাস থেকে এসব পাম্পে পর্যাপ্ত পেট্রোল-অকটেন আসছে না। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে জ্বালানি তেলের এ সঙ্কট বেড়েছে। এজন্য পাম্পগুলো তেল শূন্য।

এদিকে, ইদের আগে চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। তাই ইদের পর মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চালকেরা পড়ছেন মারাত্মক ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায়। জ্বালানি তেলের জন্য বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে ঘুরে অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে ঠিক কবে নাগাদ রাজশাহী নগরী ও জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা জানাতে পারেনি পাম্প মালিকদের সংগঠনটি। আর প্রশাসন জানিয়েছে, হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের সংকট-সিন্ডিকেটের কোনো চক্রান্ত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে রাজশাহীর খুচরা বাজারে কোথাও কোথাও বেশি দামে জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে এজন্য লিটার প্রতি ২০-৩০ টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে ক্রেতাদের। আবার কোনো কোনো এলাকার পেট্রোল পাম্পে সরকার নির্ধারিত দরে সীমিত পরিসরে লিটার প্রতি পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ৮৬ টাকা ৭৭ পয়সা ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে ৮৯ টাকায়।

রাজশাহী পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমিনুল হক দৈনিক অধিকারকে জানান, ইদের আগে ক্রেতাদের চাহিদা কমবেশি করে পূরণ করা গেছে। কিন্তু ইদের পর আর তা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পাম্পই পেট্রোল-অকটেন শূন্য হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, যেখানে পাম্পে নয় থেকে সাড়ে নয় হাজার লিটার তেলের চাহিদা থাকে সেখানে দুই থেকে তিন হাজার লিটার পেট্রোল সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তাই সঙ্কট তৈরি হয়েছে। অনেক সময় অকটেন পাওয়া গেলেও পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ পেট্রোলেরই চাহিদা বেশি। আর পেট্রোল-অকটেনের পাশাপাশি ডিজেলেরও সঙ্কট রয়েছে। তাই সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সঙ্কট থাকবে। এখানে মজুত করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেল মারাত্মক দাহ্য পদার্থ। এটি পেট্রোল পাম্প ছাড়া যেখানে সেখানে বেশি পরিমাণে মজুতের কোনো উপায় নেই। যারা মজুতের কথা বলছেন তারা ভুল বলছেন। মূলত পেট্রোল সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সঙ্কট কাটবে না। তবে কবে নাগাদ এ সঙ্কট কাটবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

ওডি/মাহমুদ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড