• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুড়িগ্রামে হঠাৎ পেট্রল সংকট

  হুমায়ুন কবির সূর্য, কুড়িগ্রাম

০৭ মে ২০২২, ২০:৩৩
কুড়িগ্রামের একটি পেট্রল পাম্প
কুড়িগ্রামের একটি পেট্রল পাম্প। (ছবি : অধিকার)

কুড়িগ্রামের পাম্পগুলোতে হঠাৎ করে পেট্রলের সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু পাম্পে রেসনিং প্রক্রিয়ায় বিক্রি করা হলেও উত্তরের উপজেলাগুলোতে বন্ধ হয়ে গেছে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি। বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে চাহিদামত যোগান না পাওয়ায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতি।

এদিকে পাম্পগুলোতে পেট্রল পাওয়া না গেলেও খোলা বাজারে প্রায় দেড়গুণ মূল্যে পেট্রল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী জেলায় প্রায় ২৫টি পেট্রল পাম্প রয়েছে। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকে এসব পাম্পে তেল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ইদের আগে বাঘাবাড়ি থেকে পাম্পগুলোতে চাহিদামত পেট্রল সরবরাহ না করায় বিপাকে পরেছে পেট্রল পাম্প মালিক ও ক্রেতারা। এছাড়া রেলওয়ের মাধ্যমে আসা তেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলা জুড়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী উপজেলার উত্তরা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, ‘গত দুই মাস ধরে রংপুর, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে আমরা আমাদের চাহিদামত যোগান পাচ্ছি না। ইদের পরে সেখানেও মজুদ ঘাটতি। যোগান না পাওয়ায় আমাদের ফিলিং স্টেশনের মজুদ শূন্য হয়েছে। কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তাও আমাদের জানা নেই।’

এদিকে চাকরিজীবী ও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ বিভিন্ন পাম্পে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসতে হচ্ছে তাদের।

নাগেশ্বরীর ব্যাংক কর্মকর্তা চন্দন গুহ জানান, কয়েকটি পাম্পে গিয়ে পেট্রল বা অকটেনের না পেয়ে ফিরে এসেছেন। এখন খোলা বাজার থেকে তাকে পেট্রল নিতে হবে। এতে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান জানান, পাম্পগুলোতে ঘুরে পেট্রল না পেয়ে খোলা বাজার থেকে ১৪০ টাকা দামে ২ লিটার অকটেন কিনেছি। বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারী করা উচিৎ।

নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের সুবলপাড় এলাকার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার বাজারে পেট্রল কিনতে গিয়ে হতবাক হয়ে যাই। ১ লিটার পেট্রল দোকানদার ১৫০ টাকা চাচ্ছেন।’

সুবলপাড় এলাকার খোলা পেট্রল বিক্রেতা আব্দুল মালেক ও আবুল হোসেন বলেন, ‘পেট্রলের সরবরাহ না থাকায় মহাজনদের কাছ থেকে আমরা ১৩০ টাকা দরে পেট্রল কিনছি। বাধ্য হয়ে আমাদেরকে ১৪০ থেকে ১৫০টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

কুড়িগ্রামের পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বাঘাবাড়িতে তেলের লড়ি পাঠিয়ে বসে আছি। সেখানে তেলের যে জাহাজ আসে সেটা এখনো ভেড়েনি। তাছাড়া রেলপথে যে তেল আসতো সেটাও বন্ধ রয়েছে। ফলে কিছুটা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কবে নাগাদ এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে সেটা বলতে পারছি না।’

জেলা প্রশাসনের ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল দিও জানান, কুড়িগ্রামে ২৬টি পেট্রল পাম্পের মধ্যে একটি বন্ধ হওয়ায় এখন ২৫টি রয়েছে। ইদের সময় অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে যে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে তা অচিরেই কেটে যাবে। এখন রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলে সেচ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সর্বশেষ তথ্যগুলো পাওয়া যায়নি। পেলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুড়িগ্রাম জেলার সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ওডি/জেআই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড