• মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল, ভোগান্তি চরমে

  ওবায়দুল কবির সম্রাট, কয়রা

০৭ মে ২০২২, ১১:৪৪
রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল, ভোগান্তি চরমে
ভোগান্তি চরমে । ছবি : অধিকার

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় খুলনা কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কাটকাটা থেকে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে যাওয়ার একমাত্র পাকা রাস্তার (ইটের সোলিং) বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তর বেদকাশি আংশিক ও দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের মানুষ। রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষের ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হচ্ছে। রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত হয়ে পুকুরের মতো দেখা যাচ্ছে।

এ ছাড়া পুরো রাস্তায় ছোট বড় হাজারও গর্ত হয়েছে। এ রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এতে জনসাধারণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দক্ষিণ বেদকাশি যাওয়ার ও উপজেলা সদরে আসার একমাত্র রাস্তা ইটের সলিং রাস্তা এটি। উঠে গিয়ে ছোট-বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। রাস্তায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যানগাড়ি তো একেবারেই চলার অনুপযোগী। একমাত্র চলাচলের মাধ্যম মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একের পর এক ঘটছে দূর ঘটনা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো চলাচলে একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, গোলখালী টু কাটকাটা ইট সোলিং রাস্তা দিয়ে দৈনিক শত শত বাইক, মোটরভ্যান, নসিমন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে থাকে। উক্ত রাস্তার প্রতিটা ইট উঁচু হয়ে আছে। কোথাও কোথাও খানাখন্দ হয়ে আছে। এহেন অবস্থায় অফিসিয়াল কাজে কয়রা যাওয়া রীতিমতো বিপদজনক। তা ছাড়া দ. বেদকাশীসহ উ. বেদকাশীর কিছু অংশের ঘেরের, ফুলতলা কাটার বাগদা ও সাদা মাছ কয়রায় কাটায় নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কয়রা থেকে মালামাল জোড়শিং বাজার, ফুলতলা বাজার, ঘড়িলাল বাজারে আনানেওয়ার একমাত্র রাস্তা। এ রাস্তার দুর্দশা দেখলে যে কেউ হতবাক হতে বাধ্য। শুধু মহিলা লেবার দিয়ে সংস্কার যথাযথ নয়। তাই চলার উপযোগী করে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

দক্ষিণ বেদকাশী বাড়ি মোটরসাইকেল চালক মইদুলের সাথে করা হয় তিনি বলেন, মোটরসাইকেল চালিয়েই চলে তার সংসার। একদিন গাড়ি না চালালে সংসার চলে না। বাধ্য হয়ে, ভাঙা চোরা রাস্তায় গাড়ি চালাই। দুই দিন অন্তর গাড়ি খারাপ হয়। উপায় নেই গাড়ি না চালালে খাবো কি তাই বাধ্য হয়ে সিমাহীন ভোগান্তি হলেও কষ্ট করে গাড়ি চালায়। যদি রাস্তাটা ঠিক করা হয় তাহলে আমরা একটু শান্তিতে গাড়ি চালিয়ে খেয়ে পরে বাঁচতে পারব।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রিতীশ কুমার বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটির সংস্কার না করায় পুরো রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল বলেন, ‘ভোগান্তির কথাটি আমরা জানি। আমি স্থানীয় এমপি মহাদয় ও সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়েছি। এমপি মহাদয় কথা দিয়েছেন জনগণের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তার সংস্কার ব্যবস্থা করবেন। ইতি মধ্যে ১৪ কোটি টাকা একটি অনুমোদন প্রক্রিয়াহীন আছে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে ইউনিয়ন পরিষদে কোনো বরাদ্দ না থাকায় রাস্তাটি ঠিক করতে পারছি না। তবে আমাদের মাথায় আছে এবারের নতুন বাজেটে কিছু একটা করার চেষ্টা করব।

কয়রা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, রাস্তার একপাশে নদী ও অন্য পাশে মাছ চাষ করার কারণে রাস্তাটি ভেঙে যাচ্ছে। রাস্তার পাঁশে ঘেরের যদি পাড়ি থাকতো তা হলে আর রাস্তা ভাঙত না।

তিনি বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে আশা করা যায় দ্রুত কাজ শুরু হবে।

ওডি/ওএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড