• বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইদের ছুটিতে সৈকতে পর্যটকের উপচে-পড়া ভিড় 

  শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

০৬ মে ২০২২, ১২:০৮
ইদের ছুটিতে সৈকতে পর্যটকের উপচে-পড়া ভিড় 
বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের উপচে-পড়া ভিড় (ছবি : অধিকার)

বৈরী আবহাওয়ায় কিছুটা উত্তাল সমুদ্র। এর মধ্যেই প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে চারপাশে। সব মিলিয়ে রমজানের এক মাস পর্যটক শূন্য হয়ে ফাঁকা ছিল বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত। কিন্তু এখন আর তা ফাঁকা থাকছে না।

দেশের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের পরপরই বাঁশখালী বাহারছড়ার সমুদ্র সৈকতকেই বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন ভ্রমণপিপাসু পর্যটকরা। বাহারছড়া উপকূলীয় এলাকায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিদ্যমান ঝাউ বাগানের মধ্যে গড়ে উঠেছে আড্ডা দেওয়ার একাধিক স্থান। দীর্ঘ বন্ধের ছুটিতে পর্যটকরা ছুটে আসছেন সমুদ্রের লোনা পানিতে সাঁতার কাটতে।

নজরকাড়া সমুদ্রের কূল থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্যটা দেখতে পর্যটক মৌসুমের ইদ ও ছুটির দিনে হাজারও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। বাঁশখালীর প্রায় ৩২ কিলোমিটার দৃষ্টিনন্দন সমুদ্র সৈকত প্রিয়জনদের নিয়ে প্রিয় মুহূর্তগুলো অতিবাহিত করার মতো একটি অন্যতম পর্যটন স্পটে রূপ নিয়েছে।

মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল সংক্রমণের কারণে গত দুই বছরের ইদগুলোতে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের সমাগম তেমনভাবে ঘটেনি। কিন্তু এবারে ইদে টানা ৭ দিনের ছুটি থাকায় লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হয়েছে বাহারছড়া ও খানখানাবাদ সৈকত পয়েন্টে।

বাঁশখালী উপকূলীয় সমুদ্র সৈকতে প্রিয়জনের হাতটি ধরে প্রিয় মুহূর্তগুলো মৃদু ছন্দ বাতাসের গতিতে জীবনের গতিপথে নতুন ছন্দের মাত্রা যোগাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকের আনাগোনা লক্ষণীয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে সৈকত এলাকা।

আরও পড়ুন : ঝকঝকে রেলওয়ে স্টেশন দেখে অবাক যাত্রীরা

চোখ জুড়ানো ঝাউ বাগানের সারি, বিশাল বালুচর, সাগরের ঢেউ, কাঁকরার লুকোচুরি, সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য মনকে আন্দোলিত করে। ইদের তৃতীয় দিনেও পর্যটকদের আনাগোনা ছিল দেখার মতো। অনেকের মতে প্রায় অর্ধলক্ষ পর্যটকে ভরপুর ছিল বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে।

সৈকতে বেড়াতে আছে এক পর্যটক এইচ এম এনামুল হক বলেন, উপভোগ করার মতো বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত। এখানে সাগরের ঢেউয়ে মন আন্দোলিত করে। তবে, কক্সবাজারের মতো হোটেল-মোটেল নেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সমন্বয় থাকলেও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো এখানে বিনোদন স্থাপনা গড়ে ওঠেনি।

তিনি আরও বলেন, এখানে ঢেলে সাজানোর মতো বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলেই বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন স্পট।

আরেক পর্যটক সাইফি আনোয়ার বলেন, কক্সবাজার বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের নক্ষত্র। বাঁশখালী উপজেলা কক্সবাজার জেলার সঙ্গে সংযুক্ত চট্টগ্রামের একটি উপজেলা। বর্তমানে বাঁশখালী আঞ্চলিক সড়ক হয়ে কক্সবাজারের পথে যানবাহন অস্থায়ীভাবে চলছে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী-কক্সবাজার মহাসড়কের নির্মিতব্য প্রস্তাবনা রয়েছে।

তার মতে, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন নজর দিলে বাঁশখালীকে পর্যটন সিটি হিসেবে রূপান্তর করা মোটেও অসম্ভব নয়।

আরও পড়ুন : সড়ক নামের মরণ ফাঁদে ঝরল ওদের প্রাণ

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, বাহারছড়া সমুদ্র এলাকাকে ঝাউ গাছগুলো আরও আকর্ষণীয় করে তোলায় পর্যটক বেড়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউ পর্যটকদের আকর্ষণ বেশি থাকায় পর্যটক সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পর্যটন কর্পোরেশন সমুদ্র উপকূলকে তাদের পর্যটক বৃদ্ধিতে পর্যটন এলাকার জন্য কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন। বিনোদন প্রেমীদের জন্য বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত একটি নান্দনিক স্পটে রূপ নিয়েছে।

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল উদ্দিন বলেন, পবিত্র ইদুল ফিতরের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব সময় মাঠে রয়েছে। ইদ যাত্রাকালীন সময়ে ভ্রমণে যাওয়া আসা শিশু নারী পুরুষদের যাতায়ত ক্ষেত্রে পুলিশ সব সময় নজরদারি করছেন। পর্যটন এলাকাগুলোকে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যাতে পর্যটকদের কোন অসুবিধা না হয়।

উল্লেখ্য, উপজেলার এ পর্যটন শিল্পকে পরিচিত ও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সরকারি এবং বেসরকারি উভয়ের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

আরও পড়ুন : গলায় ফাঁস লাগিয়ে যুবকের আত্মহনন

তাদের দাবি, রাস্তাঘাটের উন্নয়নের প্রতি সরকারের সুনজর এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পর্যটকদের আগমন ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করার জন্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখলেই বাঁশখালী হবে পর্যটনপ্রেমীর আকর্ষণীয় বিনোদন স্পট। আর এরপরই সরকার এখান থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাবে।

ওডি/কেএইচআর

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড