• রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আষাঢ়ে গল্প নয়, ট্যাক্সের টাকার দাম নেই!

খোলা আকাশের নিচে ৩০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি 

  তানভীর লিটন, কুমারখালী-খোকসা (কুষ্টিয়া)

১৩ এপ্রিল ২০২২, ১৭:১০
খোলা আকাশের নিচে ৩০ কোটি টাকার যন্ত্রাংশ 
খোলা আকাশের নিচে কোটি টাকার তাঁতশিল্পের যন্ত্রপাতি। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) তাঁতবোর্ড এলাকা থেকে ছবিটি তোলা হয়েছে (ছবি: অধিকার)

একটু ভাবুন তো আপনি বাজারে গেলেন ঘরের আসবাবপত্র কিনতে। সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করে তালিকা অনুসারে কিনলেন আসবাবপত্রগুলো। ক্রয়কৃত আসবাবপত্রগুলো আবার গাড়ি ভাড়া করে বাড়িতে নিয়ে আসলেন। এসে দেখলেন আপনার ক্রয়কৃত আসবাবপত্রগুলো ঘরের কাজে আসছে না। কোনটি আকারে ছোট বড়, কোনোটা আবার অপ্রয়োজনীয়। আবার কোনোটা পছন্দের কোম্পানির বাইরে। ফলে আসবাবপত্রগুলো খোলা আকাশের নিচে রেখে দিলেন। এখন ধীরে ধীরে তা নষ্টের দিকে।

অনেকটা গল্পের মত হলেও এমন ঘটনাই ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর তাঁতবোর্ডে। তাঁত শিল্পকে আধুনিকরণের লক্ষ্যে প্রোসেসিং, প্রিন্টিং ও ডায়িংয়ের জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড।

যন্ত্রপাতিগুলো ক্রয় এবং স্থাপনের দায়িত্ব পায় খুলনা শিপইয়ার্ড। চুক্তি অনুয়ায়ী খুলনা শিপইয়ার্ড গেল বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরু করে চলতি বছরের জুনে শেষ করার কথা। ইতিমধ্যে খুলনা শিপইয়ার্ড প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ের ৪৬ টি যন্ত্রপাতি তাঁতবোর্ডের নিকট হস্তান্তর করেছে। কিন্তু যন্ত্রগুলো অবকাঠামোর সাথে সমন্বয় না হওয়া এবং উপযুক্ত অবকাঠামো না থাকা, পুরাতন যন্ত্রপাতি অপসারণ না হওয়ায় নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

অপরদিকে যন্ত্রপাতিগুলো স্থাপন না হওয়ায় সংরক্ষণের অভাবে খোলা আকাশের নিচে পলিথিন ও কাঠের বক্স দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। দিনেদিনে যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হচ্ছে। যেকোন সময় ঝড়-বৃষ্টি হলে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছেন খুলনা শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৩ এপ্রিল) সকালে কুমারখালী তাঁতবোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতিগুলো পলিথিন ও কাঠ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। রোদ, ঝড়, বৃষ্টি, ধুলাবালি সব যন্ত্রপাতির উপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ তাঁতবোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম যন্ত্রপাতিগুলো পরিদর্শনে এসেছেন।

এ বিষয়ে খুলনা শিপইয়ার্ডের সিসিও সামির আহমেদ বলেন, গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব পাই, চলতি বছরের জুনে শেষ হবার কথা। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ৪৬ টি যন্ত্রপাতি তাঁতবোর্ডের নিকট হস্তান্তর করেছি। কিন্তু অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তাঁতবোর্ড যন্ত্রপাতিগুলো খোলা আকাশের নিচে পলিথিন ও কাঠ দিয়ে ঢেকে রেখেছে। দিনেদিনে নষ্ট হচ্ছে। যেকোন সময় কাল বৈশাখির ঝড়-বৃষ্টি হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা শিপইয়ার্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁতবোর্ড যন্ত্রের চাহিদা পাঠিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করা হয়েছে। আর মাত্র এক বছরের ব্যবধানে যন্ত্রপাতিগুলো অবকাঠামোর সাথে অমিল ধরা পড়ল।

এ বিষয়ে কুমারখালী তাঁতবোর্ডের সহাকরী মহাব্যবস্থাপক মো. মেহেদী হাসান বলেন, অবকাঠামোর সাথে আধুনিক যন্ত্রপাতির নকশার মিল না থাকায় যন্ত্রপাতি স্থাপন সম্ভব হয়নি। এছাড়াও পুরাতন যন্ত্রপাতি এখনও অপসারণ করা হয়নি। আর ভবন না থাকায় যন্ত্রপাতিগুলো খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে। তবে সেগুলো পলিথিন ও কাঠ দিয়ে ঢাকা আছে।

জানা গেছে, কুমারখালী তাঁতবোর্ডের যন্ত্রপাতি হস্তান্তের পরেও নানান জটিলতায় তা স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সংক্রান্ত এক তদন্তে সরেজমিন বাংলাদেশ তাঁতবোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম পরিদর্শনে আসেন।

বুধবার (১৩ এপ্রিল) সকালে পরিদর্শনকালে সফর সঙ্গী ছিলেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়েরর জ্যেষ্ঠ সচিব মোছা. আছিয়া, খুলনা নৌ বাহিনীর শিপইয়ার্ডের ডিজিএম (নকশা ও পরিকল্পন দপ্তর) মো. তোহা আল তাসবির, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ প্রমুখ।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ তাঁতবোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, যন্ত্রপাতি স্থাপনে জটিলতা সংক্রান্ত এক তদন্তে আজ এখানে আসা। তদন্তে কিছু অবস্থা ও ত্রুটি পেয়েছি। কিন্তু এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনাদের বিস্তারিত জানানো হবে।

আরও পড়ুন: চেয়ারম্যানের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

তিনি আরও বলেন, তাঁতশিল্পকে এগিয়ে নিতে তাঁতবোর্ড কাজ করছে। আশা করছি খুব দ্রুত কুমারখালীতে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে তাঁতশিল্পের বিপ্লব ঘটবে।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- in[email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড