• শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কালিয়াকৈর সরকারি হাসপাতালে রোগীদের টয়লেট বন্ধ

  মোঃ আফসার খাঁন বিপুল, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)

০৫ এপ্রিল ২০২২, ১৫:৫৮
কালিয়াকৈর সরকারি হাসপাতালে রোগীদের টয়লেট বন্ধ
কালিয়াকৈর সরকারি হাসপাতালে অপরিষ্কার-অপরিছন্ন পরিবেশ ও টয়লেট বন্ধের নোটিশ (ছবি: অধিকার)

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সরকারি হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের টয়লেট বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ডায়রিয়া জনিত রোগীদের। বাধ্য হয়ে তারা করোনা আইসোলেশনের টয়লেট ব্যবহার করছেন। এছাড়াও অপরিষ্কার-অপরিছন্ন হাসপাতালে রয়েছে দালালদের দৌরাত্বসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ।

হাসপাতাল ঘুরে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতি করা হলেও সেবার মান উন্নতি হয়নি এখনও। প্রায় দুই মাস যাবত ওই হাসপাতালের ২য় তলার পুরুষ ওয়ার্ডের টয়লেটটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ওই টয়লেটের পাইপ অকেজো হয়ে পড়ায় টয়লেটের পানি নিচের অফিস কক্ষে ঝড়ে পড়ে।

এতে টয়লেটের দরজায় বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই টয়লেটটি বন্ধ করে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ডায়রিয়া জনিত রোগীরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশুসহ বয়স্ক রোগীদের। বাধ্য হয়ে তাদের পাশের ভবনে করোনা আইসোলেশনের একটি টয়লেট ব্যবহার করলেও সেটির দরজা আটকানোর সিটকারী নেই। এতে বিকল্প ওই টয়লেট ব্যবহারেও নেই কোনো নিরাপত্তা।

এদিকে বাধ্য হয়ে ওই টয়লেটটি ব্যবহার করলেও করোনার আতঙ্কে থাকে অনেকেই। এছাড়াও ওই হাসপাতালের নার্সদের ব্যবহৃত টয়লেটটিও সমস্যায় জর্জড়িত।

আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে টয়লেট থেকে ওএমএসের চাল উদ্ধার

অপরদিকে, হাসপাতালটি ৫০শয্যায় বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়েনি জনবল। তারপরও কিছু কিছু চিকিৎসক নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। শুধু তাই নয়, সরকারি কোয়াটারে থাকার কথা থাকলেও কিছু চিকিৎসক ইচ্ছে মতো নিজ নিজ বাসা থেকে হাসপাতালে আসেন। এছাড়া জনবলের অভাবে বছর খানেক ধরে বন্ধ হয়ে রয়েছে এক্সরে মেশিন। ফলে পাশের ক্লিনিকগুলোতে এক্সরে করাতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। এসব কারণে হাসপাতালটি যেন দালালদের হাতেই জিম্মি।

এতে প্রতি নিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অপরিষ্কার-অপরিছন্ন হাসপাতালের পয়নিষ্কাশনের ড্রেনে ও আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে হাসপাতালে মশার উৎপাত বেড়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে কতৃপক্ষের নেই কোনো উদ্যোগ। তবে অচিরেই কতৃপক্ষ সকল প্রকার সমস্যা সমাধান করে উন্নত চিকিৎসা সেবা দিবে বলে আশা করছে ভুক্তভোগী রোগী ও রোগীর স্বজনরা।

হাসপাতালে চিকিৎসারত নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক বয়স্ক রোগী বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থতার জন্য এই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। এখানে আসছি চিকিৎসার জন্য, কিন্তু এখানে ভর্তি হয়ে আরও রোগী হয়ে গেছি। কারণ এখানকার টয়লেট বন্ধ থাকে। পাশের করোনা ওয়ার্ডের টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। এতে আবার করোনাভাইরাসে ধরে নাকি? এমনিতেই রোগী, আবার করোনা হলে একেবারে মরে যাবো।

আরও পড়ুন: পার্বত্য অঞ্চলে শুরু বৈসাবী উৎসব ও বিজুর আমেজ

অপর রোগী আব্দুল মান্নান বলেন, আজ সাত দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। আমার পায়ে ব্যথা, হাঁটা চলাচল করতে সমস্যা হয়। কত দূরে টয়লেট! এত দূরে টয়লেটে যেতে হয়। এছাড়াও পানির অভাবে ঠিকমত গোসল এবং কাপড় পরিষ্কার করতে খুব কষ্ট হয়।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আল বেলাল জানান, ওই টয়লেট লাইনে ক্রটির কারণে পানি নিচে অফিসে পড়ে। এ কারণে গত দুই মাস ধরে ওই টয়লেট বন্ধ রয়েছে। তবে টয়লেটের কাজের জন্য টেন্ডার হয়ে গেছে। খুব তারাতারি কাজ শুরু হবে।

দালালদের বিষয়ে তিনি বলেন, দালাল অতীতেও ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যৎও থাকবে। তবে দালালদের দমনের চেষ্টা করছি। আর জনবল সংকটে এক্সরে মেশিন এক বছর যাবত বন্ধ থাকায় সেটিও নষ্ট হওয়ার উপক্রম।

ওডি/এমকেএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড