• বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পেঁয়াজবীজ উৎপাদনে আবু তালেবের বাজিমাত

  তানভীর লিটন, কুমারখালী-খোকসা (কুষ্টিয়া)

২৫ মার্চ ২০২২, ১০:৩৬
পেঁয়াজবীজ
পেঁয়াজবীজের চাষ (ছবি : অধিকার)

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের কৃষক আবু তালেব। পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে তিনি ইতোমধ্যে একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে সুখ্যাতি পেয়েছেন। বর্তমানে আবু তালেবের ১২ বিঘা জমিতে রয়েছে পেঁয়াজবীজ। মাঠের পর মাঠজুড়ে সবুজ পেঁয়াজের খেত। হালকা বাতাসে মৃদু ঢেউয়ের মত দোল খাচ্ছে পেঁয়াজের কোম ডাটা। ঠিক মাঝখানেই রয়েছে ধবধবে সাদা ফুলের মাঝে কালো হিরা। এসব বীজের বাজারদর চড়া হওয়ায় চাষিরা এ বীজকে ‘কালো ‌সোনা’ বলে আখ্যায়িত করেন।

জেলার গণ্ডি পেরিয়ে সারাদেশেই এখন তার উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজ পৌঁছে যাচ্ছে কৃষকের হাতে। তিনি পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও অনেক চাষির কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সরকারের মসলা জাতীয় ফসলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে আবু তালেব শুধু পেঁয়াজ বীজই নয় পাশাপাশি অন্যান্য মসলা জাতীয় ফসলও উৎপাদন করছেন বছরজুড়ে।

জানা যায়, কৃষি উদ্যোক্তা আবু তালেব ২০০৩ সালে নিজ উদ্যোগে মাত্র ১৬ শতাংশ জমি দিয়ে মসলা জাতীয় ফসল ও বীজ উৎপাদনে চাষাবাদ শুরু করেন। বর্তমানে তার প্রায় ২০ বিঘা জমিতে মসলা জাতীয় ফসলের মধ্যে ১২ বিঘায় পেঁয়াজ বীজ চাষ করছেন। উৎপাদন বৃদ্ধি ও বীজের গুণগত মান রক্ষায় জমিতে সেচ ও মৌ বক্স স্থাপনের মাধ্যমে পেঁয়াজ ফুলের পরাগায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে।

বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী (ছবি : অধিকার)

অধিক লাভজনক হওয়ায় পেঁয়াজ বীজ চাষে সফলতা পেয়েছেন আবু তালেব। এ বছর পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে তার ব্যয় হবে ৭-৮ লক্ষ টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রতি বিঘায় ৭০ থেকে ৮০ মণ পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন হবে। প্রতি কেজি বীজের মূল্য ২৫০০-৩০০০ হাজার টাকা। ব্যয় বাদ দিয়ে এ বছর বীজ বিক্রি করে ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা আয় করবেন আবু তালেব।

বাজারের নামি-দামি বীজ থেকে আবু তালেবের উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজ উন্নতমানের, গুণেমানেও সেরা। জমিতে বীজ গজানো সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ। এছাড়াও বীজের দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তালেবের বীজ। আবু তালেব এস.এম.ই তালিকাভুক্ত কৃষক হওয়ায় তার উৎপাদিত বীজ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মোড়কে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করতে পারছেন। চাষিরা তার বীজ কিনে চাষে আশানুরূপ ফল পান। এ থেকে তার বীজের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে কৃষি উদ্যোক্তা আবু তালেব বলেন, ‘কৃষি কাজের জন্য সারাবছরই বিভিন্ন ফসলের বীজ অপরিহার্য। বীজ উৎপাদনে খরচ কম লাভ বেশি। সেই হিসাব করেই বীজ উৎপাদনে চাষাবাদ শুরু করি। উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় আজ আমি সফল ও সরকারি তালিকাভুক্ত এসএমই কৃষি উদ্যোক্তা। যখন দেখি আমার উৎপাদিত বীজ নিজ ছবিসহ বি.এ.ডি.সির মোড়কে বাজারে বিক্রি হচ্ছে- তখন এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘সরকার প্রতি বছর দেশের চাহিদা মেটাতে মসলা আমদানি করে আসছে। মসলার আমদানি নির্ভরতা কমাতে ইতোমধ্যে সরকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আর তা বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। তারই অংশ হিসেবে মসলা জাতীয় ফসল পেঁয়াজ চাষে কৃষি ভর্তুকিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার। কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ, স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের নিয়ে নিয়মিত প্রদর্শনী মাঠ দিবসের আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আবু তালেব উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’

আরও পড়ুন : টাকা ছাড়া মিলছে না টিসিবির পণ্য কেনার কার্ড

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শ আর সার্বিক সহযোগিতায় আবু তালেব তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে আজ একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। আবু তালেবের মত অন্যান্য কৃষকরা যদি মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন শুরু করে তাহলে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিদেশ থেকে আর মসলা আমদানি করতে হবে না। এতে সাশ্রয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা আর অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে দেশের কৃষক।’

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- inbox.odhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: odhikaronline@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড