• মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কমছে জমি, কমছে কৃষক

  তুষার আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৮:৪২
কৃষিজমি
নারায়ণগঞ্জে কমে গেছে কৃষিজমি (ছবি : অধিকার)

শিল্পায়ন ও নগরায়ণের কবলে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের কৃষিজমি। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে কমছে নারায়ণগঞ্জের কৃষক সংখ্যাও। জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় সদর উপজেলায় কৃষিখাতের বর্তমান পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

অনুসন্ধান বলছে, গত ১০ বছরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫শ’ ৭১ হেক্টর কৃষি জমি হ্রাস পেয়েছে। গড়ে প্রতিবছর হ্রাস পাচ্ছে ৫৭.১ হেক্টর করে। বিগত ১০ বছরের এই সময়ে কৃষক কমেছে ৬ হাজার ৯শ ৬৭ জন। প্রতিবছর গড়ে ৬শ’ ৯৬ জন কৃষক কমছে ইট পাথরের এই নগরীতে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, একদা সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষির বিস্তার থাকলেও অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে হারিয়েছে কৃষির জৌলুশ। কেবল সদরের বক্তাবলী ও আলীরটেক ইউনিয়নে বেশ কিছু পরিবার এখনও কৃষি নির্ভর। ফলে ওই দুই ইউনিয়নকে সদরের কৃষিরাজ্য বলা হলেও সেখানেও এখন দেখা দিচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। যেই জনপদে ছিল সোনা ফলা ফসলের হাসি, সেখানে দখল নিয়েছে ইট-পাথরের দালান। তাই আগামীতে ওই দুই ইউনিয়নও কৃষির জৌলুশ হারাতে পারে বলে ধারণা করছেন খোদ কৃষি কর্মকর্তারা।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে সদর উপজেলায় আবাদি কৃষি জমির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১১২ হেক্টর। ১০ বছরের ব্যবধানে ৫৭১ হেক্টর কৃষি জমি হ্রাস পেয়ে বর্তমানে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫শ’ ৪১ হেক্টরে। গড়ে প্রতিবছর হ্রাস পেয়েছে ৫৭.১ হেক্টর কৃষি জমি।

এদিকে, কৃষি জমির সাথে পাল্লা দিয়ে কমছে কৃষকের সংখ্যাও। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ২০১১ সালে সদর উপজেলায় কৃষকের সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৬শ’ ৬০ জন। ২০২১ সালের হিসেবে কৃষকের এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬শ’ ৯৩ জনে। অর্থাৎ গত ১০ বছরে ৬ হাজার ৯শ ৬৭ জন কৃষক কমেছে নগরায়ণ অধ্যুষিত এই উপজেলায়। আবার কৃষি জমি হ্রাস পেয়ে অবশিষ্ট যা রয়েছে, তাতেও হচ্ছে না পূর্ণাঙ্গ চাষাবাদ। চলতি বছরের হিসাব অনুযায়ী, সদর উপজেলায় আবাদযোগ্য ১৭৫ হেক্টর জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, জলাবদ্ধতার প্রকোপ এবং সেচ ব্যবস্থার অভাবে ১৭৫ হেক্টর জমি অনাবাদি রয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ‘সেচ ব্যবস্থার জন্য কৃষি কর্তারা কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ বা সহায়তাও করছে না। প্রণোদনা হিসেবে বছর বছর কিছু সংখ্যক কৃষককে স্বল্প পরিমাণে বীজ ও কীটনাশক দিলেও সেচ বিষয়ক সহায়তা পাচ্ছেন না তারা।’

নারায়ণগঞ্জে কৃষি জমি ও কৃষক হ্রাসের কারণ জানিয়ে সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. তাজুল ইসলাম দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও নগরায়ণের কারণে কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। দখল-দূষণে কৃষি জমির আদর্শ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে চাহিদাতুল্য ফসল উৎপাদন হচ্ছে না। বিশেষ করে এখানে জলাবদ্ধতা একটি মারাত্মক সমস্যা। এর কারণে অনেক জমিই বালু ভরাট করে তা বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। নগরায়ণের কারণে জমির দাম বেড়েছে, তাই মানুষ এখন চাষাবাদের দিকে না ঝুঁকে জমি বিক্রি করছে, যেখানে শিল্প কারখানা কিংবা অট্টালিকা করছেন শিল্পপতিরা। আবার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষিখাতে কৃষকদের চাষাবাদে অনাগ্রহতা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যারা কৃষিকাজ মন থেকে ভালোবাসে, তারা এখনো কৃষির সাথেই আছে। যদিও নারায়ণগঞ্জে এই সংখ্যা দিনকে দিন কমছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেত মজুরের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি এবং জমির বর্গা মূল্যবৃদ্ধি- এসব কারণে কৃষি খাতে কুলিয়ে উঠতে পারছে না কৃষকরা। ফলে অনেকেই চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের সহায়তা করে যাচ্ছি। কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে কার্যক্রম চালাচ্ছি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে কৃষি পেশা ছেড়ে বিদেশ যাবার প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়ছে অনেকেই। এর খরচ মেটাতে বিক্রি করছে সোনালী ফসল ফলা কৃষিজমির ভিটেমাটিও। তাছাড়া, শিল্প কারখানায় চাকরি তথা নগদ অর্থের দিকেও ঝুঁকছেন কৃষি পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম। এভাবেই চাষাবাদ থেকে সরে যাচ্ছে অনেক কৃষি পরিবার। তাই সবজির চাহিদা মেটাতে দূরবর্তী জেলার প্রতিই নির্ভরশীল হতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জকে।

আরও পড়ুন : তীব্র শীতেও থেমে নেই পাথর শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা

একদা কৃষি প্রধান এই অঞ্চল ধীরে ধীরে শিল্পায়ন ও নগরায়ণে পরিণত হওয়ায় এখানে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ। ভবিষ্যতে এর মাত্রা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেই শঙ্কায় রয়েছেন সচেতন মহল।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড