• মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

তীব্র শীতেও থেমে নেই পাথর শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা

  এম মোবারক হোসাইন, পঞ্চগড়

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:৩২
শ্রমিক
প্রচন্ড শীতেও মহানন্দা নদীতে কাজ করছে শ্রমিকরা (ছবি : অধিকার)

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় বরাবরই খুব বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয় এ অঞ্চলে। বেশ কয়েকদিন থেকে ভালোভাবেই জেঁকে বসেছে শীত। তাপমাত্রা যেখানে কমে ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। উত্তরের এ জনপদের অবস্থান পঞ্চগড় শহর থেকে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ-ভারত বিভক্তকারী নদী মহানন্দা। সীমান্তের ওপারে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা আর এপারটা বাংলাদেশ। দু’দেশের সীমানার ওপর দিয়ে বয়ে চলা মহানন্দা নদীর পানি প্রবাহ।

হিমালয় পাহাড় থেকে বয়ে আসা মহানন্দা নদীর পানি থেকে তখনও ধোঁয়া উঠছিল। হিমশীতল বরফগলা ঠান্ডা পানি, কিন্তু তাতে কী আসে যায়। থেমে নেই মহানন্দা নদীর পাড়ের শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। যার পুরো এলাকাজুড়েই শুধু পাথর নিয়ে কর্মযজ্ঞ।

এই শ্রমিকদের জীবন বড় কষ্টের। খুব ভোরে ওঠে হাত-মুখ ধুয়ে কোনোরকম গামছা দিয়ে মুছতেই শুরু হয় মহানন্দা যাওয়ার প্রস্তুতি। পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই কোনোরকম শুকনো খাবার খেয়ে বের হতে হয় মহানন্দা নদীর পথে। এ সকল শ্রমিক উপজেলার দেবনগর, ময়নাগুড়ি, ভজনপুর, বুড়াবুড়ি, শালবাহান থেকে প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যায় কাজে। সংসারের চাহিদা মিটাতে কেউ কেউ সাইকেল, অটো ও বাসে করে রওনা হন তেঁতুলিয়া সদরের উদ্দেশ্যে। পৌঁছাতে শীত নিবারণের গরম পোশাক খুলে দলবেঁধে নামতে হয় মহানন্দা নদীর হিমশীতল বরফগলা ঠান্ডা পানিতে। নদীর বুকে কর্মব্যস্ত এই অসহায় মানুষগুলো মহানন্দারই সন্তান, তাদের বলা হয় পাথর শ্রমিক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহানন্দার বরফগলা ঠান্ডা পানিতে নেমে পাথর তুলে শ্রমিকরা তাদের জীবনযাপন করেন। একসময় অভাব-অনটন ছিল এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। এখন আর সে অবস্থাতে আর নেই, পাল্টে গেছে তাদের জীবনের দৃশ্যপট। পাথর তুলে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে তাদের সংসার।

তীব্র শীত উপেক্ষা করে কাজ করছে পাথরশ্রমিকরা (ছবি : অধিকার)

মহানন্দা নদীর বরফগলা পানিতে চাকার ফুলানো টিউব, লোহা ও বাঁশের দাড়, ঢাকি, কোদাল নিয়ে দলবেঁধে নেমে পড়তে হয় নদীতে। কেউ পাথর তুলছেন আবার কেউ নদীরঘাট থেকে সে পাথর কিনে এনে মেশিনের কাছে দিচ্ছেন। কেউ বা মেশিন চালিয়ে রোজগার করছেন, আবার কেউ ট্রাকে পাথর লোড-আনলোড করছেন। অনেকে আবার ব্যবসায়ীদের কাছে পাথর সরবরাহ করছেন। এই করেই চলছে তেতুঁলিয়ার মানুষের জীবনসংগ্রাম।

শীত মৌসুমের সময়ে হিমশীতল পানি আর বালির সাথে বয়ে আসা নুড়ি পাথরের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অর্ধ শতাধিক গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। মহানন্দার বরফগলা পানিতে সারাদিন ছোট-বড় এবং মাঝারি ধরনের নুড়ি পাথর সংগ্রহের কাজ চলে শ্রমিকদের। সেই পাথরের সাথেই জড়িয়ে গেছে এই এলাকার অর্ধশতাধিক গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবন। মহানন্দার পাথরেই হয়েছে এসব মানুষের কর্মসংস্থান এবং জীবন-জীবিকা। জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে মহানন্দার এই নুড়ি পাথর।

খুব সকালে নদীতে পাথর তুলতে যাওয়া শ্রমিক মমিনপাড়া গ্রামের আমিরুল হক বলেন, শীতের মধ্যেও পরিবারের কথা চিন্তা করে প্রতিদিন নদীর ঠান্ডা পানিতে যেতে হয় পাথর তুলতে। পরিবারের চার সদস্যদের খাওয়া, পড়ালেখার খরচ যোগাতে নদীতে পাথর তুলতে যেতে হয়। এছাড়া কি-বা করার আছে।

কথা হয় আরেক পাথর শ্রমিক জাফর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বর্তমানে এই শীতে কোথাও কাজ মিলছে না। তাই যতই কষ্ট হোক না কেন বরফগলা ঠান্ডা পানিতে পাথর তুলতে হয়। দিনে চারশো থেকে পাঁচশো টাকা উপার্জন দিয়ে কোনোরকম সংসার চলে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় তেমন কোনো শিল্প কারখানা গড়ে না ওঠায় কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। সরকারিভাবে এ উপজেলায় বাসস্থানের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নানাভাবে সরকারি অনুদানের আওতায় আনা হচ্ছে তাদের। প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এসব মানুষের কর্মক্ষেত্র সৃষ্টিতে।

আরও পড়ুন : বসবাসের অনুপযোগী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৫০ ঘর

তেঁতুলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান বলেন, এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবিকার সন্ধান দিয়েছে মহানন্দা নদী। শ্রমিকরা জীবিকার সন্ধানে প্রচন্ড শীতে মহানন্দা নদীতে কাজ করে। আমরা ইতোমধ্যেই সরকারিভাবে বেশ কয়েক হাজার শীতবস্ত্র শীতার্ত জনগণের মধ্যে বিতরণ করেছি। সরকারিভাবে আরও শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড