• মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে সরিষা

  নাসিম আজাদ, পলাশ ( নরসিংদী)

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:১৯
নরসিংদী
মৌবক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ পরিদর্শনে শিক্ষার্থীরা (ছবি : অধিকার)

সরিষার খেতে হলুদের সমারোহ দেখে একদিকে যেমন মানুষের মন জুড়িয়ে যায়, অপরদিকে সরিষা থেকে উৎকৃষ্ট মানের ভোজ্য তেলের পাশাপাশি মিলছে সুস্বাদু মধু। আর এই সরিষা থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার আশা নিয়ে মৌবক্সের মাধ্যমে কৃষকদের চলছে মধু সংগ্রহের কাজ।

এখন সরিষা আবাদের সাথে সম্পৃক্ত কৃষকরা মধু সংগ্রহের কাজে পার করছেন ব্যস্ত সময়। আর এতে করে বাড়তি লাভের আশায় সরিষা আবাদে নরসিংদীতে কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে ব্যাপক আগ্রহ।

জেলার কৃষি অফিসের তথ্যমতে, নরসিংদী সদর, পলাশ, শিবপুর, বেলাবো, মনোহরদী ও রায়পুরা, এই ৬টি উপজেলায়ই কম বেশি সরিষার আবাদ করা হয়। এর সবচেয়ে বেশি পরিমাণ আবাদ করা হয় নরসিংদী সদর ও রায়পুরা উপজেলায়। এ বছর অত্র জেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল ৫১০০ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৫০৫৩ হেক্টর। যার উৎপাদন লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ৭২৪২ মেট্রিক টন। সদর উপজেলার আমদিয়া, মেহেরপাড়া, নুরালাপুর, পাঁচদোনা, মহিষাশুরা, চিনিশপুরসহ রায়পুরা উপজেলার বৃহত্তর চরাঞ্চলসহ অন্যান্য উপজেলার একটি বিশাল অংশে সরিষা আবাদের পাশাপাশি কৃষকরা মৌচাষের দিকে ঝুঁকছে।

জানা যায়, কৃষকরা ভোজ্যতেল ও মধু আহরণের জন্যই সরিষার আবাদ বাড়িয়ে যাচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে সরিষা থেকে মধু সংগ্রহ শুরু করেছেন। যার ফলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও সরিষাখেত থেকে মধু সংগ্রহের কৌশলটি আগ্রহের সাথে নিয়েছেন। এরফলে একদিকে এক ফসলি জমি পরিণত হয়েছে দুই ফসলিতে। আর এখন সরিষা থেকে মধু সংগ্রহের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আসায় খুশি মৌচাষিরাও।

নরসিংদী কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মৌচাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে মৌবক্সসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়। সরিষা খেতের এসব মধু ভেজালমুক্ত ও দামে কম হওয়ায় বাড়ি থেকে লোকজন তাদের চাহিদা মতো মধু নিয়ে যাচ্ছেন। এতে কৃষক ও কৃষি বিভাগের সকলেই খুশি।

আমদিয়া এলাকার মৌচাষি সোহাগ মিয়া জানান, নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ মৌচাষের বিষয়ে প্রশিক্ষন দিয়ে ২৪টি মৌবক্স দিয়েছে। এই মৌবক্স দিয়েই সরিষার মৌসুমে সরিষার খেত থেকে মধু সংগ্রহ করে আসছি। এই মধু ভেজালমুক্ত হওয়ায় কষ্ট করে বাজারে নিতে হয় না। বাড়িতেই ক্রেতারা খাটি মধু নিতে রোজ সকালে ভীড় জমায়। এভাবে মধু সংগ্রহের কার্যক্রম দিন দিন বাড়ছে।

নারায়নগঞ্জ আড়াইহাজার কৃষি ইন্সস্টিটিউট থেকে পরিদর্শন করতে আসা একাধিক শিক্ষার্থী জানান, একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের অংশ হিসেবে সরিষা থেকে মধু সংগ্রহের বিষয়টি আমরা আগ্রহের সাথে নিয়েছি তাই এটা হাতে কলমে পরিদর্শন করতে এসেছি।

নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া এলাকায় সরিষার পাশাপাশি মধু উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা থেকে কৃষি বিভাগের ডাল, তেল, মসলা ও বীজ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মৌবক্স ও অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয় বলে জানান নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন।

নরসিংদী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুন জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কিছু কৃষককে মৌচাষের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে মৌবক্সসহ মধু সংগ্রহের উপকরণ দেওয়া হয়েছে। যার ফলে তারা আজ মৌচাষ করে স্বাবলম্বী।

আরও পড়ুন : সাটুরিয়ায় টিকার সনদ যাচাইয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ

এব্যাপারে নরসিংদী কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. ছাইদুর রহমান জানান, সরিষার ও মৌচাষে অত্র অঞ্চলের কৃষকদে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। সরিষা ও সূর্যমুখী আবাদে কৃষকদের প্রনোদনার আওতায় বিনামূল্যে সার, বীজসহ বিভিন্ন উপকরণ দিচ্ছি। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষন দিয়ে যাচ্ছি। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবাদ আরও বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে তিনি জানান, সরিষা ও সূর্যমুখী বাগান থেকে উন্নত মানের মধু আহরণের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করছি। আর কৃষকরাও যেভাবে আগ্রহী হচ্ছে, আগামীদিন সরিষা থেকে ভোজ্য তেল মধু উৎপাদনে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এমনটাই আশাবাদ কৃষি বিভাগের।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড