• মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ঘোড়া দিয়ে হাল চাষে সংসারের চাকা ঘুরছে মোকলেছুরের

  রফিকুল ইসলাম রফিক, গাইবান্ধা

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৪৬
ঘোড়া দিয়ে হাল চাষে সংসারের চাকা ঘুরছে মোকলেছুরের
ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ করছে মোকলেছুর । ছবি : অধিকার

ঘোড়া একটি তৃণভোজী প্রাণী। বহুকাল থেকে ঘোড়া মানুষের নানা কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। যুদ্ধে ক্ষেত্রেও বাহন হিসেবে ব্যবহার হতো এই ঘোড়া। এরপর ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা আর ঘোড়ার গাড়ি সৌখিনতার কথা সবাই জানে। তবে আদিকাল থেকে গরু ও মহিষ দিয়ে হালচাষ করা হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে ও প্রযুক্তির কল্যাণে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী গরু মহিষের হালচাষ।

তবে গরু মহিষের হালচাষ সচারাচর চোখে না পড়লেও এই ডিজিটাল যুগে ঘোড়া দিয়ে অন্যের জমিতে হালচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মোখলেছুর রহমান। পঞ্চাশ বছরের কৃষক মোখলেছুর রহমান ঘোড়াকে ভালোবেসে প্রথমে ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে মালামাল পরিবহন করতেন পরে ঘোড়া দিয়ে হালচাষ শুরু করেন।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে কৃষি কাজেও এসেছে আমুল পরিবর্তন। বেড়েছে নানা প্রযুক্তির ব্যবহার। পশু দিয়ে হালচাষ না করে বর্তমানে কৃষকরা যান্ত্রিক প্রযুক্তির সাহায্যে জমি চাষাবাদ করছেন। তবে উন্নতমানের প্রযুক্তির যুগেও ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ অকল্পনীয়। এই কাজটিই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের মোখলেছুর রহমান। তার অভাবের সংসারে আয়ের উৎস একমাত্র ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করা। নেই কোনো নিজস্ব জমি। পরের জমি বর্গাচাষের পাশাপাশি অন্যের জমি চাষ করে টাকার বিনিময়ে। দুটি ঘোড়ার একটি হাল, এ দিয়েই তিনি ঘোরাচ্ছেন ভাগ্যের চাকা। ঘরে আছে স্ত্রী আর এক ছেলে এক মেয়ে ।

মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘোড়াকে আমি বেশ ভালোবাসতাম। প্রথমে শখ করে একটি ঘোড়া কিনি। পরে ঘোড়ার গাড়ি তৈরি করে মালামাল পরিবহন শুরু করি। চিন্তা করলাম ঘোড়া দিয়ে যদি গাড়ি চালানো যায়, তবে হালচাষও করা যাবে। এই ভেবে পরে আরও একটি ঘোড়া কিনে প্রশিক্ষণ দিয়ে জমি চাষ শুরু করি। এখন বেশ ভাল সাড়া পাচ্ছি।

প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ বিঘা জমি চাষ করতে পারি। এতে আমার আয় হয় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। জমিতে হালচাষ বা মই দিয়ে প্রতিদিন যা পাই তা দিয়ে সংসার ভালোই চলে। ঘোড়া দুটির খাবার খরচ হয় দৈনিক ৫০০ টাকা।

তিনি আরও বলেন, ঘোড়ার হাল দিয়ে জমি চাষে মাটির উর্বরতা বাড়ে। জমি বেশি খনন হওয়ায় ফলন ভালো হয়। ইরি-বোরো মৌসুমে চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এলাকায় অনেক কৃষক এখন পাওয়ার টিলার বাদ দিয়ে আমার ঘোড়ার হাল দিয়ে জমি চাষ করছেন।

হযরত আলী নামে এক কৃষক বলেন, এলাকায় তো গরুর হাল নাই। পাওয়ার টিলার ডেকে সময়মত পাওয়া যায় না। তাই কম খরচে মোখলেছুর রহমানের ঘোড়ার হাল দিয়ে জমি ভালই চাষ হয়। তুলনামুলকভাবে পাওয়ার টিলারের চেয়ে ঘোড়ার হালের চাষ ভাল হয়। এলাকার অনেক কৃষক এখন মোকলেছুরের ঘোড়ার হাল দিয়ে জমি চাষ করছেন।

মজনু মিয়া নামে আরেক কৃষক বলেন, ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করা এই প্রথম সচক্ষে দেখলাম। অবাক হয়েছি, খুব অল্প সময়ে এক বিঘা জমি চাষ করা সম্ভব ঘোড়ার হাল দিয়ে। গরু বা মহিষের হাল দিয়ে যেটা অসম্ভব। তাছাড়া ঘোড়ার হালে খনন বেশি হওয়ার জমি ভাল চাষ হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা বাড়বে পাশাপাশি ফলনও ভাল হবে।

আরিফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, মোখলেছুর খুবই গরিব মানুষ। তার ঘোড়া দুটি ছোট। টাকা অভাবে বড় ঘোড়া কিন্তে পারে না। সরকার বা অন্য কেউ তাকে ঘোড়া কিনতে সহযোগিতা করলে তার জন্য ভাল হবে এবং আরও বেশি জমি চাষ করতে পারবে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বেলাল উদ্দিন দৈনিক অধিকারকে জানান, মোখলেছুরের ঘোড়ার হালের কথা শুনেছি। খোঁজ নিয়ে সময় করে একদিন দেখতে যাব। ঘোড়া প্রকৃতিগত ভাবে পরিশ্রমী প্রাণী। তবে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করা হলে কৃষিতে ভাল অবদান রাখতে পারবে এই ঘোড়ার হাল।

ওডি/ওএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড