• মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভাগ্য বদলায়নি সাটুরিয়ার পিঁড়িতে বসা নাপিতদের

  মাহবুবুর রহমান রানা, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ)

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:৫৪
ভাগ্য বদলায়নি সাটুরিয়ার পিঁড়িতে বসা নাপিতদের
পিঁড়িতে বসা নাপিত। ছবি : অধিকার

সভ্যতার বিবর্তনের ফলে মানুষেৱ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এসেছে পরিবর্তন. লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, গড়ে ওঠেছে বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক সেলুন। এসব সেলুনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হয়।

এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাঝেও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এখনও টিকে আছে বাংলার সেই চিরচেনা পিঁড়িতে বসা সেলুন। তবে পুঁজি কম থাকায় ভাগ্য বদলায়নি পিঁড়িতে বসা ওই কারিগরদের।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন বাজারসহ প্রায় ৪০টি হাট-বাজার রয়েছে। এসব হাট-বাজারের খোলা জায়গায়, রাস্তার পাশে, ফুটপাতে ও গাছের নিচে বসে বংশ পরম্পরায় পিঁড়িতে বসা সেলুনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তারা।

বিভিন্ন গ্রাম থেকে দরিদ্র লোকেরা চুল কাটতে এসব সেলুনে আসেন। এসব সেলুনে চুল কাটতে ২০ টাকা ও শেভ করতে ১০ টাকা লাগে। সারাদিন কাজ শেষে একজন নাপিত আয় করেন দুই শত থেকে আড়াই শত টাকা। এই টাকাই চলে তাদের জীবন। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচ চালাতে হয় তাদের এই টাকা থেকেই। বছর শেষে আয় বলতে তাদের কিছুই থাকে না।

সাটুরিয়া উপজেলার সদর বাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে পরান শীল, নিমাই শীলও গোপি শীল কাজ করছেন। কাঠের তৈরি একটি পিঁড়ির ওপর ছোট গামছায় চুল কাটার ও শেভ করার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি রাখা আছে।

তাদের কাছে চুল কাটতে আশা কৃষক জলিল মিয়া বলেন, ভালো সেলুনে চুল কাটাতে লাগে ৫০ টাকা আর এই সেলুনে লাগে ২০টাকা। তাই এখানে আসি।

নিমাই শীল বলেন, আমি পিঁড়িতে বসিয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে এ কাজ করছি। প্রথম জীবনে চুল কাটছি এক টাকা ও দাড়ি কাটছি পঞ্চাশ পয়সা দিয়ে। সে সময় নাপিতদের যা আয় হতো তা দিয়েই সংসার ভালোভাবে চলত। কিন্তু বর্তমানে ২০ টাকায় চুল ও ১০ টাকায় দাড়ি কেটেও সারাদিনে যে টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়।

সাটুরিয়া উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের গোপি শীল বলেন, আমি ৪৫ বছর ধরে এ কাজ করছি। বর্তমানে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সব কিছুর পরিবর্তন হয়ে গেছে। চুল ও দাড়ি কাটার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক সেলুনগুলোতে এখন আর শান দেওয়া ক্ষুর নেই। এর বদলে এসেছে ব্লেড। এসেছে শেভিং ক্রিম, ফোম, উন্নতমানের লোশন। যখন আমরা এ কাজ শুরু করেছিলাম তখন এসব ছিল কল্পনার বাইরে। প্রতিদিন যা উপার্জন করি তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে যায়। আধুনিক সেলুন দেওয়ার মতো এতো টাকা হাতে নেই।

ওডি/ওএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড