• মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নরসিংদীতে সূর্যমুখী বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়, আয় ৫ লক্ষ টাকা

  নাসিম আজাদ, পলাশ (নরসিংদী)

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৪:৩৭
নরসিংদীতে সূর্যমুখী বাগানে দর্শনার্থীদের ভিড়, আয় ৫ লক্ষ টাকা
সূর্যমুখী বাগান। ছবি : অধিকার

নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় তৈলবীজ হিসেবে বপন করা সূর্যমুখী বাগান এখন হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের বিনোদন কেন্দ্র। এর ফলে একদিকে কৃষকরা তৈলবীজের পাশাপাশি বাগানে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও পাচ্ছেন বাড়তি টাকা। এতে খুশি কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

দেশে আদর্শ মানের ভোজ্য তেল হিসেবে সূর্যমুখী বাগানের পরিধি যেমন বাড়ছে, তেমনি এটিকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্থানীয়রা। আর কৃষকরাও সূর্যমুখী বাগান থেকে ভোজ্যতের পাশাপাশি বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে আয়ের উৎস তৈরি করেছে। আর নরসিংদীর চরসিন্দুরের শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত সেতুর উত্তর পাশে বিশালাকার চরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে সূর্যমুখী কর্নার।

ফেলে রাখা জমিকে কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় মাজহারুল ইসলাম নামে কৃষি বিভাগের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই এলাকায় প্রথমবারের মতো ৫বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেন। এই বাগানে ফুল ফোটার সাথে সাথেই আসতে শুরু করেছে দর্শনার্থী। তাই বাগান রক্ষা ও দর্শনার্থীদের উপভোগের জন্য বাগানে দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই সূর্যমুখী বাগান করে একদিকে কমপুজিতে বেশি লাভ, অপরদিকে বাগানগুলো বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হওয়ায় আসছে বাড়তি আয়। আর এই বাগান ঘুরতে এসে খুশি ভ্রমণ পিপাষুরা।

কৃষিবিদ মো. মাজহারুল হক জানান, তার পরিবারের ৫ জন সদস্য কৃষি বিভাগের সাথে জড়িত। তিনি এক বছর হয় অবসরে এসেছেন। অবসরে এসেই গতবছর পরীক্ষামূলক নরসিংদীতে সূর্যমুখীর বাগান করেছেন। সেখানে তিনি বাগান করে সফলতাও পেয়েছেন। তাই এবার নিজ এলাকা চরসিন্দুরে এসে দেখেন শীতলক্ষ্যার পাড়ে গড়ে উঠা বিশালাকার চড় পতিত পড়ে আছে। তিনি এই জমিগুলো কাজে লাগানোর লক্ষ্যে এখানে জমি ভাড়া নিয়ে প্রথমবারের মতো ৫বিঘা জমিতে গড়ে তুলেন সূর্যমুখীর বাগান। বাগান থেকে তৈলবীজ সংগ্রহের আশায় গড়ে তোলা হলেও এখন স্থানীয়দের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সকল বয়সের নারী পুরুষ এখানে দলবেঁধে ঘুরতে আসেন। বাগান ঘুরে নিজের মোবাইল দিয়ে ছবিও তুলেন দর্শনার্থীরা।

তিনি জানান, এবার ভালো ফলন পাবেন বলে আশাবাদী তিনি। তার মূল লক্ষ তার এই সূর্যমুখীর বাগান দেখে জেনো আগামীতে এই চরে সকলেই সূর্যমুখীর বাগান করে। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮শত কোনো কোনো দিন এর চেয়ে বেশিও দর্শনার্থী আশে। টিকেটের মূল্য ২০ টাকা, এক মাসে আমার আয় হবে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা।

করোনার এই সময়ে সকল প্রকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাড়িতে এক ঘেয়েমি সময়টাকে পার করার জন্য এই সূর্যমুখীর বাগান ঘুরতে আসেন বলে জানান দর্শনার্থীরা। তারা বাগান ঘুরে ছবি তুলে কিছুটা হলেও আনন্দের মধ্যে কাটাতে পারেন বলে জানান তারা।

কলেজ পড়ুয়া ছাত্র সুলতানপুরের ফয়জুল করিম পাঠান জানান, এই বাগান দেখে যেনো চরের অন্যান্য কৃষকরাও আগামীতে সূর্যমুখীর বাগান করবেন বলে আশা করি। কলেজ বন্ধ থাকায় বিকালের এই সময়টা এখানে কাটাতে এলাম। জায়গাটা খুব সুন্দর, মন জুড়িয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন রতন বলেন, এই চরে বাগান করার জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।

বাগানে ঘুরতে আসা পলাশ থানা সেট্রাল কলেজের শিক্ষক মো. মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আমাদের পলাশ উপজেলায় এটিই প্রথম সূর্যমুখী বাগান। আগে কখনো এই অঞ্চলে দেখিনি। আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। সময় পেলেই চলে আসব।

পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নাদির এস এ ছিদ্দিকি জানান, সূর্যমুখীর বীজের মাধ্যমে যে পরিশোধিত তৈল পাওয়া যায়। তা স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর যার ফলে বাজারে এর চাহিদা প্রচুর রয়েছে। সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে তৈল পাওয়া যায় তাতে মানব দেহের ক্ষতিকর কোনো বিষয় থাকে না। কিন্তু বিদেশ থেকে আমদানিকৃত তৈল যে শতভাগ বিশুদ্ধ তাও কিন্তু বলা যাচ্ছে না। তাই শরীরের জন্য উপকারী হিসেবে সূর্যমুখীর বীজ থেকে পাওয়া তৈল মানবদেহের জন্য স্বাস্থ্যকর। যার ফলে মানুষ কিন্তু এখন সয়াবিন তৈল থেকেও সরে আসছে।

সরিষার তেলের পাশাপাশি সূর্যমুখীর তেলও ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে এই তৈলটা পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকায় বাধ্য হয়েই মানুষকে সরিষা বা সয়াবিন ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এছাড়া বর্তমানে এটাকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন স্থানীয় ভ্রমণ পিপাষুরা। তবে এর চাষাবাদ নরসিংদীতে ব্যাপক না হলেও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন : সীমান্তবাসীদের মনগড়া মামলা দেন বিজিবি, মুক্তিযোদ্ধার মানববন্ধন

সূর্যমুখী বাগান করে ভোজ্য তেলের পাশাপাশি স্থানীয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ভ্রমণ পিয়াসুদের আনন্দ দানের মাধ্যমে কৃষকের অতিরিক্ত অর্থ আয় হবে। এমনটাই মনে করছে কৃষি বিভাগ।

ওডি/ওএইচ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড