• শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শীতলক্ষ্যায় উদ্ধার দুই লাশের পরিচয় শনাক্ত

  তুষার আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ

২৭ জানুয়ারি ২০২২, ২১:১১
প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারী-পুরুষের লাশের পরিচয় মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নারীর মরদেহটি শহরের পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত গণেশ ঘোষের স্ত্রী তাপসী রানী ঘোষের। আর পুরুষ মরদেহটি শহরের ১ নম্বর বাবুরাইল এলাকার মৃত দীনু চৌধুরীর ছেলে রোহান চৌধুরীর।

বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) বিকালে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ-জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর হাজীগঞ্জ ফেরিঘাট ও একরামপুর এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেছিলো নৌ পুলিশ সদস্যরা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ জামান জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধারের পরই তাদের পরিচয় সনাক্ত করতে কাজ শুরু করে পুলিশ। পরে তারা নিশ্চিত হয়, উদ্ধার হওয়া নারীর লাশটি পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত গণেশ ঘোষের স্ত্রী তাপসী রানীর এবং অপর লাশটি ১ নম্বর বাবুরাইল এলাকার মৃত দীনু চৌধুরীর ছেলে রোহান চৌধুরীর। এই ঘটনায় থানায় হত্যা ও অপমৃত্যুর পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

ওসি শাহ্ জামান বলেন, ‘নিহত তাপসী রানীর ভাই ননী গোপাল ঘোষ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তাপসী রানীকে অজ্ঞাত আসামিরা হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে বলে মামলার অভিযোগে করা হয়েছে। অন্যদিকে, রোহান চৌধুরীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। দু’টি লাশেরই নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।

নিহত তাপসী রানী’র ভাইয়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাপসী রানী ঘোষ। এই ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। বিধবা এই নারী শহরের পালপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় একমাত্র সন্তান পিয়াস ঘোষকে (১২) নিয়ে বসবাস করতেন। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল থাকার কারণে তার ভাইরা তাকে সহযোগিতা করতেন। ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে নৌ থানা পুলিশের মাধ্যমে ননী ঘোপাল ঘোষ তার বোনোর লাশ উদ্ধারের কথা জানতে পারেন।

এদিকে স্বজনদের বরাতে নারায়ণগঞ্জ নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, নিহত রোহান চৌধুরী শহরের একটি হোসিয়ারি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। ৪ দিন আগে সে নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় থানায় জিডিও করেছিলেন স্বজনরা। ২৬ জানুয়ারি সকালে অর্ধগলিত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা করে। পরে রাত দশটার দিকে নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন : কালিয়াকৈরে দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ ডাকাত গ্রেফতার

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে শীতলক্ষ্যা নদীর হাজীগঞ্জ ফেরিঘাট ও একরামপুর এলাকা থেকে তাপসী রানী এবং রোহানের লাশ উদ্ধার করা হয়। নারায়ণগঞ্জ নৌ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক ফোরকান মিয়া জানান, শীতলক্ষ্যা নদীতে দুই স্থানে দুইটি লাশ দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে জানায়। পরে নদীতে ভাসমান অবস্থায় লাশ দুইটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর মধ্যে নারীর মরদেহের পায়ে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে যুবকের শরীরের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড