• শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নরসিংদীতে চলছে জমির টপ সয়েল কাটার প্রতিযোগিতা

  মনিরুজ্জামান, নরসিংদী

২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:২৮
নরসিংদী
(ছবি : অধিকার)

নরসিংদী জেলায় নতুন-পুরাতন, ছোট-বড়, সব মিলিয়ে অসংখ্য ইটভাটা রয়েছে। ইট তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে মাটি। আর এ মাটি সংগ্রহের জন্য জেলার সর্বত্রই চলছে জোর পূর্বক মাটিকাটার হিড়িক।

পৌষ, মাঘ, ফালগুন এ তিন মাস ইটভাটা ব্যবসায়ীদের ব্যাবসার উপযুক্ত সময়। এসময়ের মধ্যে সাধারণত আমাদের দেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম থাকে। তাই এ সময়কে পুঁজি করে ইটভাটার মালিকেরা ইট তৈরির জন্য ফসলী জমির উর্বর টপ সয়েল কাটার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে।

পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি ফসলী জমির উর্বরতা বজায় রাখতে ইটভাটার মালিকদের বারবার সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ মেনে চলার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তারা তা আমলে নিচ্ছে না। সরকারি বিধিনিষেধকে না মেনে তারা একের পর এক জমির উর্বর অংশের মাটি কেটে সাবাড় করছে। এতে করে কৃষকরা তাদের অনুর্বর জমিতে ফসল ফলাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের তেলিয়া, ইটাখলা-চরসিন্দুরের ঝালকাটা ব্রিজ, পুটিয়া, দুলালপুর, বাঘাবো ইউনিয়ন, মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া, একদুয়ারিয়া, রামপুর ইউনিয়ন, বেলাবো উপজেলা, রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ, চরসুবুদ্ধি, চড়আড়ালিয়া ইউনিয়ন, নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী, মহিষাশুড়া, করিমপুর ইউনিয়নের শ্রীনগর, নজরপুর ইউনিয়নের নজরপুর, হাজীপুর ইউনিয়নের চরহাজীপুর, পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের চলনা, ডাঙ্গাসহ আশপাশ এলাকার নদীর তীরবর্তী ও ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর অংশের মাটি হাইড্রোলিক ভেকুর মাধ্যমে কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে।এতে করে নদী রক্ষা বাঁধ, নদীর তীরবর্তী ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এলাকাবাসির সূত্রে জানা যায়, গত দুই এক বছর পূর্বে নরসিংদীর অগভীর নদ-নদীগুলো সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খনন করে। নদী খননের মাটিগুলো দিয়ে নদীর দুই পাশে সুরক্ষা বাঁধ তৈরি করে। এর ফলে নদী তীরবর্তী এলাকা নদী ভাঙন হতে রক্ষা পায়। বিগত সময়ে এ বাঁধ না থাকায় বর্ষাকালে তাদের ফসলি জমি ও ঘর-বাড়ি পানিতে তলিয়ে গিয়ে তাদেরকে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো। একদিকে সরকার কৃষকের ফসলি জমি রক্ষার্থে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে নদী খনন করে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে অন্যদিকে কিছু স্বার্থন্বেস্বী মহল টাকার বিনিময়ে ইটভাটা গুলোতে মাটি বিক্রি করে নদী রক্ষা বাঁধকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

তারা আরও বলেন, এলাকার ভূমি খেকো কিছু চিহ্নিত লোক রাজনৈতিক নেতাদের পরামর্শে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে টাকার লোভ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব অপরাধমূলক কাজ কর। শুধু তাই নয় মাটি বহনকারী ট্রাক্টর অবৈধভাবে মানুষের ফসলি জমিতে প্রবেশ করে কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করাসহ রাস্তা-ঘাট ভেঙে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে অত্যাচারের শিকার হতে হয়।

আরও পড়ুন : লোহাগাড়ায় দুই ওয়ার্ডের মানুষের ভরসা গাছের সাঁকো

চরসিন্দুর ইউনিয়নের চলনা গ্রামের মাটি বিক্রেতা লিখনের সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক অধিকারকে বলেন, আমার মাটি বিক্রি করার অনুমতি এবং এ সংক্রান্ত কাগজ পত্র রয়েছে। কিন্তু তিনি কোন প্রকার কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাছাড়া মাটি কাটার অনুমতি বা কাগজপত্র কোথা থেকে পেলেন জানাতে চাইলে তিনি এর কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড