• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুমারখালীতে নাবী পাট বীজ আবাদে সম্ভাবনার হাতছানি

  তানভীর লিটন, কুমারখালী-খোকসা (কুষ্টিয়া)

২৬ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:০৩
কুষ্টিয়া
(ছবি : অধিকার)

কুষ্টিয়া কুমারখালীতে ১৫২ জন কৃষক ২০ একর জমিতে উৎপাদন করছে নাবী পাটের বীজ। ভৌগলিকভাবে কুষ্টিয়া জেলা ভূমি উঁচু হাওয়ায়, এখানে অতি বৃষ্টিতে ফসলের কোন সমস্যা হয় না। যার কারণে নাবী পাট বীজ উৎপাদনে একটি উল্লেখযোগ্য অঞ্চল হিসেবে মনে করে কৃষিবিদরা।

পাট মৌসুমে আমদানি নির্ভর পাট বীজই কৃষকের ভরা ছিল, সময় মত চাষিরা পাট বীজ না পাওয়াতে জমি পতিত থেকে যেত কিন্তু এখন থেকে আর চাষিদের এ সমস্যা হবে না।

দেশে সরকারিভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও পাট উন্নয়ন অধিদফতরের যৌথভাবে পাট উন্নয়নে কাজ করছে। বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের মাধ্যমে পাটের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে চাষিদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে কৃষি ভর্তুকি।

সরকারের সেই প্রচেষ্টার সুফল ভোগ করতে শুরু করেছে কৃষককেরা। বাংলাদেশ এক সময় অন্য দেশের পাটের বীজের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে পাটের বীজ।

খুব কম খরচে অল্প সময়ে উৎপাদন করতে পারায় নাবী পাট বীজ উৎপাদক চাষীরা বেশ খুশি। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে দেশে উৎপাদিত বীজ দিয়েই নিজেদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

উচ্চ ফলন শীল বীজে আর, আই তোষা পাট-৮ ও (রবি-১) জাতের পাট বীজ উৎপাদন করে সাফল্য পেয়েছে উপজেলার চাষিরা। উপজেলাটিতে পাট বীজের ভালো ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।

বৈচিত্রময় ফসল উৎপাদনের এ জেলার চাষিরা সবসময়ই ব্যতিক্রময় ফসল উৎপাদন করে দেশের অর্থনেতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

ঠিক তেমনি চলতি বছর পাট বীজ উৎপাদন করে সাড়া ফেলেছে এ জেলার চাষিরা। অল্প খরচে ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে পাট বীজ চাষির সংখ্যা। বীজ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকলে আগামীতে অন্যদেশ থেকে আর পাট বীজ আমদানি করতে হবে না।

চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও পাট উন্নয়ন অধিদফতর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উপজেলার ৫০ জন চাষি নাবী পাটের বীজ উৎপাদন করছে।

জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্ৰামের পাট বীজ চাষি বিপুল হোসেন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় ৫ শতাংশ জমিতে নাবী পাটের বীজ চাষ করেছি। এই বীজ আবার বিএডিসি আমাদের কাছ থেকে ক্রয় করবে। এই চাষে খুব একটা পরিশ্রম করতে হয় না। তিন চারমাসে বীজ উৎপাদন হয়। ৫ শতাংশ জমিতে যে বীজ হবে তা দিয়ে ৮০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করা যাবে।

চরসাদীপুর ইউনিয়নের নাবী পাটের বীজ চাষি আজিজ শেখ বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় আমি এক বিঘা জমিতে এই নাবী পাটের বীজ চাষ করছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে, আমি আরও জমিতে নাবী পাটের বীজ উৎপাদন করব। এই বীজ বিএডিসি অফিস আমাদের কাছ থেকে ক্রয় করবে তাতে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হব।

একই ইউনিয়নের পাট চাষী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস জানান, আমরা নিজেরাই পাট বীজ উৎপাদন করব এবং নিজেরদের বীজ দিয়েই পাট চাষ করব। আমরা আর পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পাট বীজ আমদানি করব না। আমাদের বীজে পাটের ফলনও বেশী হয়। বীজ উৎপাদন করে আমরাও লাভবান হচ্ছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস জানান, ১৫ শ' ৫০ হেক্টর জমিতে উপজেলাতে পাটের চাষ হয়ে থাকে। এক সময় অন্যদেশের ওপর নির্ভরশীল ছিল বাংলাদেশ। উপজেলাতে ৫০ জন কৃষককে প্রণোদনার আওতায় সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৪ মণ বীজ হবে। এই বীজ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করবে।

কুষ্টিয়া পাট উন্নয়ন অধিদফতরের উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আতাউর করীম বলেন, পাটের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে সরকার ২০১৯ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে, আমরা সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরালস কাজ করে যাচ্ছি। স্বল্প সময়ে এই প্রকল্পের সফলতাও এসেছে।

কুষ্টিয়া পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মামুনার রশীদ জানান, এবছর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলাটিতে ১০২ জন চাষিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করেছি। আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশীয় লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছি। রবিবার সরেজমিনে উপজেলার পাট বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করে ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন ও বিতরণ প্রকল্পের যশোর-খুলনা অঞ্চলের মনিটরিং অফিসার মোহাম্মদ শামিউর রহমান বলেন, সারা বাংলাদেশ ১০ হাজার কৃষককে প্রণোদনার আওতায় নাবী পাটের বীজ উৎপাদনে করতে সাহায্য করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। অনান্য জেলার তুলনায় কুষ্টিয়া জেলা নাবী পাটের বীজ উৎপাদনে খুবই উপযোগী।

আরও পড়ুন : পদ্মা নদীর ভাঙন রক্ষায় এমপির ফেসবুক পোস্ট

বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত উন্নত জাতের পাট বীজ উৎপাদন করে সাফল্য পেয়েছে কুষ্টিয়া কুমারখালীর চাষিরা। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই বীজ উৎপাদনের উদ্যোগে কৃষকের সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড