• শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভৈরবে এস আইয়ের বিরুদ্ধে মোবাইল-অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

  নাজির আহমেদ, ভৈরব

২৩ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০৩
কিশোরগঞ্জ
ভৈরব থানা (ছবি : সংগৃহীত)

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার এস আই মো. ইসমাইলের বিরুদ্ধে চোরাচালানীদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও এই পুলিশ কর্মকর্তার নামে বিভিন্ন সময় আসামি ধরতে গিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) ভৈরব থানার এস আই মো. ইসমাইল স্থানীয় নাটাল মোড় এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মোবাইল ও দেড় লাখ টাকাসহ ৪ আসামিকে আটক করে।

এদের মধ্যে আটককৃত আসামিরা হলো- লিমন (২৪), মো. আলী (৪৭), সিয়াব (১৯) ও আশরাফুল জহির (২০)। পরে তাদেরকে থানায় নিয়ে যায় এই পুলিশ। আবার থানায় নেওয়ার পর ২২৪টি অবৈধ মোবাইল জব্দ করলেও দেড় লাখ টাকার কথা অফিসার ইনচার্জকে অবগত করেনি।

এ বিষয়ে শুক্রবার পুলিশ বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় ২২৪টি মোবাইল ফোন জব্দ দেখালেও দেড় লাখ টাকার কথা উল্লেখ করা হয়নি এজাহারে।

এছাড়াও ​বৃহস্পতিবার রাতে এস আই ইসমাইল উপজেলার রাজনগর গ্রামের শুভ্র নামের এক গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামিকে ধরতে গিয়ে তাকে না পেয়ে বাসা থেকে ৮ হাজার টাকা জোর করে নিয়ে আসে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্য জানাজানি হলে পরদিন শুক্রবার রাতে তার বাসায় গিয়ে টাকাগুলি ফেরত দিয়ে তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে আসেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি সাংবাদিকদের অবগত করে।

শনিবার (২২ জানুয়ারি) নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র সাংবাদিকদের জানায়, আসামিদের কাছে মোট মোবাইল ছিল ২৫৭টি এবং টাকা ছিল দেড় লাখ। ধারণা করা হচ্ছে এস আই ইসমাইল ৩৩টি বিদেশি মোবাইলসহ দেড় লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। তবে ইসমাইল এসব কথা অস্বীকার করে। থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম মোস্তফা (পিপিএম) এখবর শুনে হতবাক হন এবং টাকার বিষয়টি কিছুই জানে না বলে জানান।

এ বিষয়ে এস আই ইসমাইলের সাথে শনিবার বিকালে সাংবাদিকদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি গণনায় ২২৪টি বিদেশি মোবাইল পেয়েছি। বাকী ৩৩টি মোবাইলের কথা আমি জানি না।

টাকার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, কিছু টাকা পেয়েছি যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জমা দিয়েছি। কত টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন আইও’র সাথে যোগাযোগ করলে জানতে পারবেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তিনি দাবি করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রফিকুল ইসলামের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, আমি মামলার তদন্তটির দায়িত্ব পাওয়ার পর জব্দকৃত ২২৪টি মোবাইল ও ৯৬ হাজার টাকা নগদ পেয়েছি। এজাহারে টাকার কথা উল্লেখ নেই কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন এবিষয়ে আমি এখনো কিছুই জানি না। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বিষয়টি জানব বলে তিনি জানান।

ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তারিকুল আলম জুয়েল জানান, ৩৩টি মোবাইল ও টাকার বিষয়ের খবর আমি জানি না। তাকে ফোন করা হলে তিনি কিছুটা রেগে গিয়ে বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা এত কিছুর খবর কি করে জানেন। এ বিষয়ে ওসির সাথে কথা বলেন বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মো. গোলাম মোস্তফার (পিপিএম) সাথে শনিবার বিকালে মোবাইলে কথা হলে এ বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকা উদ্ধারের খবরতো আমি জানি না। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন আপনারা এ খবর কোথায় পেলেন। এসময় এস আই ইসমাইল টাকার কথা স্বীকার করেছে এবং উদ্ধারকৃত টাকার মধ্য ৯৬ হাজার টাকা তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জমা আছে বলে স্বীকার করেছে জেনে তিনি হতবাক হন।

এসময় তিনি বলেন, অনেক সময় ঘটনার সব খবর আমি নিতে পারি না। তিনি বলেন, কোনো কোনো ঘটনায় এজাহারে টাকা উল্লেখ করা যায় না। কারও ব্যক্তিগত টাকা থাকলে এটাকা এজাহারে উল্লেখ করা হয় না। টাকার পরিমান ৫৪ হাজার কম হয়েছে যা আসামিদের দাবি।

একথার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আসামিরা সত্য বলেছে এটাও ঠিক নয়। আসামি বা তার আত্মীয়রা সবসময়ই মিথ্যা কথা বলে অপরাধ থেকে বাঁচতে চায়। কাজেই তাদের কথা সঠিক এটা বিশ্বাস করা সঠিক নয়। তারপরও বিষয়টি আমি খোঁজ- খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন : সিরাজগঞ্জে তৃতীয় ডোজ টিকা নিয়েও করোনায় আক্রান্ত এমপি

এবিষয়ে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ (বিপিএম/ বার) জানান, অভিযোগের সব কথা আসামিরা সত্য বলে না। আসামি পক্ষের কথা সত্য এটা কি করে বিশ্বাস করবেন। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করতে সার্কেল এএসপিকে নির্দেশ দিব। ঘটনা সত্য হলে ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড