• বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইউটিউবে ভিডিয়ো দেখে মাশরুম চাষে সফলতা

  মেহেদী হাসান, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:১৮
লোহাগাড়া
মাশরুম চাষে সফল মোহাম্মদ হোসেন (ছবি : অধিকার)

মাশরুম চাষে সফলতা লাভ করেছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের মোহাম্মদ হোসেন। তিনি ইউনিয়নের সাতগড় কুলাল পাড়ার আবদুছ ছালামের ছেলে। গত এক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম ও মাশরুম চাষ করে প্রায় চার লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি। তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক তরুণ বেকার মাশরুম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর সৌদি আরবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে সৌদিয়া আরব থেকে দেশে ছুটিতে আসেন। ভিসা জটিলতা ও করোনার কারণে আর যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউবে ভিডিয়ো দেখে মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হন।

এরপর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ৬ হাজার টাকা খরচে মাগুরার ড্রিম মাশরুম প্রশিক্ষণ সেন্টার থেকে মাশরুম চাষের ওপর ১০ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। এরপর নিজ বসতবাড়ির পাশে মাশরুম চাষ শুরু করেছেন। দেখেছেন সফলতার মুখ। খরচ বাদে প্রতি মাসে তার আয় এখন ৩০-৩৫ হাজার টাকা। শুরুতে ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে ওয়েস্টার প্রজাতির মাশরুম বীজ সংগ্রহ করেন।

মোহাম্মদ হোসেন জানান, প্রথম দিকে ১ হাজার প্যাকেট দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় ৩ হাজার প্যাকেট। প্রতি প্যাকেটে ৫০ টাকার বেশি খরচ হয়। একমাস পর থেকে ফলন দেওয়া শুরু হয়। প্রতি প্যাকেট থেকে ১ মাস অনবরত ফলন পাওয়া যায়। তিনি প্রতিদিন ১৫-১৬ কেজি করে মাশরুম পান। প্রতি কেজি মাশরুম ২০০-২৫০ টাকা ধরে পাইকারি বিক্রি হয় আর খুচরো ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তার উৎপাদিত মাশরুম চট্টগ্রাম নগরী, বান্দরবান ও পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে তার খামারে ৭-৮ জন কর্মচারী রয়েছে।

তিনি জানান, আরও বড় পরিসরে মাশরুম চাষ করতে চান। শীঘ্রই বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়াও শুরু করবেন। তিনি সরকারি বা বেসরকারি কোন সহযোগিতা পেলে তার খামারের পরিধি বড় করতে সহজ হবে বলে মনে করেন। তার উদ্যোগ দেখে স্থানীয় অনেক বেকার তরুণ মাশরুম চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুল ইসলাম জানান, মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধিগুণ সম্পন্ন। এতে আছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামাইনো এসিড, অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। স্বাদ, পুষ্টি ও ঔষধিগুণ এবং স্বল্প পুঁজি ও শ্রম ব্যয় করে অধিক আয় করা সম্ভব বলে ইতোমধ্যেই এটি সারাদেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় লোহাগাড়াতেও পরিচিত হয়ে উঠছে মাশরুম চাষ।

আরও পড়ুন : কাপাসিয়ায় খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

তিনি জানান, মাশরুম চাষের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন প্রশিক্ষণ। মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট প্রতি কর্মদিবসে ‘মাশরুম অবহিতকরণ ও কার্যক্রম প্রদর্শন’ শীর্ষক অনানুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে। আবাসিক সুবিধার প্রয়োজন হলে স্থানীয় কৃষি অফিসের সুপারিশ সংবলিত একখানা আবেদনপত্র অত্র ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক বরাবর দাখিল করতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে আপনি মাশরুম চাষ, স্পন উৎপাদন, মাশরুম বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিখতে পারবেন।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড