• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফরিদপুরে বন্ধ করা হলো আরও একটি প্রাইভেট হাসপাতাল

  হারুন আনসারী, ফরিদপুর

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ২০:১৮
আরামবাগ হাসপাতাল (ছবি : অধিকার)

ফরিদপুরে ডেলিভারির সময় নবজাতকের হাত ভেঙে ফেলার ঘটনায় ‘আরামবাগ হাসপাতাল’ নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মাত্র চারদিনে ফরিদপুর শহরের দুটি প্রাইভেট হাসপাতাল বন্ধ করা হলো।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার আরামবাগ হাসপাতালে অভিযান চালান। এ সময় তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন।

শহরের পশ্চিম খাবাসপুরের আরিফুল আলম সজল নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গত ১৩ ডিসেম্বর আরামবাগ হাসপাতালে তার স্ত্রী মিসেস মুক্তারের সিজার অপারেশন করা হয়। সন্তান বের করার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতকের হাতের কনুইয়ের হাড়ের জয়েন্ট ছুটিয়ে ফেলেন। পরে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালের চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি জেলা সিভিল সার্জনের নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন। এতে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ করেন।

আরিফুল আলম বলেন, স্ত্রীর সিজারিয়ানের পর ছাড়পত্র নিয়ে তারা বাড়ি ফিরেন। পরদিন বাচ্চার ব্যথা অনুভব হওয়ায় পুনরায় শিশুর এক্সরে করিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহিস সায়াদকে দেখান। তিনি অর্থোপেডিক সার্জন ডা. সৈয়দ আসিফ উল আলমের নিকট প্রেরণ করেন। এরপর ডা সৈয়দ আসিফ উল আলম শিশুটিকে ঢাকা হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. সারোয়ার ইবনে সালামের নিকট পুনরায় রেফার্ড করেন। সেখানে ডা. সরোয়ার ইবনে সালাম তাদের জানান, সিজারিয়ান করে বের করার সময় টানাটানির কারণে নবজাতকের হাতের কনুইয়ের হাড়ের জয়েন্ট ছুটে গেছে। বর্তমানে ঢাকার হাসপাতালে বাচ্চার চিকিৎসা চলছে।

এ ঘটনার পর আরামবাগ হাসপাতালে যোগাযোগ করলে সেখানে কর্তব্যরত ডা. শারমিন সুলতানা জুই তার সাথে অসম্মানজনক আচরণ করে। এ ঘটনার কোনো দায় নিতে পারবে না বলেও হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন আরিফুল আলম।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, ঘটনা জানতে পেরে অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আরামবাগ হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স না থাকা এবং অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে আরামবাগ হাসপাতালের এমডি মাসুদুর রহমান বলেন, নবজাতকের হাড় ভাঙার অভিযোগটি সঠিক নয়। তদন্তে এটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তারা কোনো অভিযোগ তোলেননি। এমনকি বাসায় নেওয়ার পরও অভিযোগ তোলেননি। ঘটনার মাসখানেক পর অভিযোগ তোলা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? আমাদের হাসপাতালে অন্য কিছু সমস্যা ছিল। এ কারণে সিভিল সার্জন সাময়িক বন্ধ রাখতে বলেছেন। আমরা সমস্যাগুলো সমাধান করে নতুন করে চালু করার ব্যবস্থা করব।

আরও পড়ুন : অর্থের বিনিময়ে মিলছে চিকিৎসক হওয়ার ডিপ্লোমা সনদ

প্রসঙ্গত, শনিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে শহরের পশ্চিম খাবাসপুরে আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে এক নারীর সন্তান প্রসবের সময় ওই নবজাতকের কপাল কেটে ফেলার ঘটনায় ওই হাসপাতালটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাদেরকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করতে। সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, এসব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তারা অভিযান শুরু করেছেন।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড