• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

রসের গন্ধে মৌ মৌ করছে মায়ারাম দিঘির পাড়

  মো. কামরুল ইসলাম মোস্তফা, চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম)

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৪৬
ছবি : দৈনিক অধিকার

আগের মতো গ্রাম্য রাস্তার দু’পাশে সারি সারি খেজুর গাছ এখন তেমন আর দেখা যায় না। কয়েক বছর আগেও দেখা গেছে গ্রামের পথে-ঘাটে, নদী বা পুকুর পাড়ে, বড় রাস্তার দুধারে বা খেতের আল ঘেঁষে শত শত গাছের শীর্ষভাগ বিশেষভাবে কাটতেন গাছিরা। ১৫-১৬টি পাতা রেখে গাছের উপরিভাগের বাকলসহ অপ্রয়োজনীয় অংশ পরিষ্কার করতেন। আড়াআড়িভাবে বাঁধা বাঁশের দণ্ডে দাঁড়িয়ে কোমরে ও গাছে রশি পেঁচিয়ে ধারালো দা দিয়ে গাছিদের গাছ চাঁছা বা কাটার দারুণ দৃশ্য এখন তেমন চোখে পড়ে না। গ্রামের রাস্তাগুলো সংস্কার ও নতুন করে খেজুর গাছ রোপণে মানুষের আগ্রহের অভাবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ ও খেজুরের রস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। শহুরে মানুষের পাশাপাশি গ্রামের মানুষগুলো তাই ভুলতে বসেছে মজাদার খেজুর রসের স্বাদ।

তবে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় দোহাজারী পৌরসভার মায়ারাম দিঘী সংলগ্ন এলাকায় মৎস্য প্রজেক্টের পাড়ে শতাধিক খেজুর গাছ লাগিয়ে তা থেকে রস আহরণ করে দোহাজারীবাসীর মনে নতুন আশা জাগিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান নামে এক ব্যক্তি। খেজুর রসের গন্ধে মৌ মৌ করছে মায়ারাম দিঘির পাড় সংলগ্ন ওই এলাকা। দোহাজারী ও আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ এসে রস ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন দলবেধে।

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কথা হয় গাছি খবির গাজীর সাথে। বাগেরহাট জেলার চিতলমারী এলাকার ষাটোর্ধ এই গাছি জানান, নজরুল ইসলাম খানের মৎস্য প্রজেক্টের পাড়ের এই খেজুর গাছগুলো রোপণের পর থেকে অদ্যাবধি তিনিই পরিচর্যা করে আসছেন। কার্তিক মাস থেকে সাধারণত রস সংগ্রহ শুরু হয়। তবে পৌষ ও মাঘ মাসে সবচেয়ে বেশি রস পাওয়া যায়, কারণ এই দুই মাসে শীতের প্রকোপ থাকে সবচেয়ে বেশি। আবহাওয়া যত ঠাণ্ডা থাকে রসও তত বেশি পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে আর রসও কমতে থাকে। তিন দিন পর পর গাছের বুক পরিষ্কারের জন্য কাটেন বলে জানান তিনি।

গাছ পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত মোহাম্মদ উল্যাহ জানান, প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় রস সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি গাছ থেকে আকারভেদে দৈনিক ১ থেকে ৩ লিটার রস সংগ্রহ করা যায়। প্রতি লিটার রস ৬০ টাকা করে বিক্রি করেন। খেজুর রসের ক্রেতারা ২-৩ দিন আগে থেকে অর্ডার দিয়ে রাখেন বলে জানান তিনি।

মৎস্য প্রজেক্টের পাড়ে অন্যান্য ফল-ফলাদির গাছ না লাগিয়ে খেজুর গাছ রোপণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গ্রামাঞ্চলে শীতের ঐতিহ্য ছিল মিষ্টি খেজুরের রস। এই রসের ঘ্রাণ এখন ভুলতে বসেছে মানুষ। বেশ কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করছি খেজুর রস ও গুড়ের যে ঐতিহ্য, দিন দিন তা বিলুপ্তির দিকে। কিন্তু সবাই সুস্বাদু রস পান করতে আগ্রহী। বর্তমানে গ্রামেও ভালো মানের রস পাওয়াটা দুর্লভ, কারণ খেজুর গাছ কমে গেছে। আবার যে সংখ্যায় খেজুরগাছ আছে, তার অধিকাংশই রস সংগ্রহ করতে কাটা হয় না দক্ষ গাছির অভাবে। জীবনের প্রয়োজনে আর প্রকৃতির ভারসাম্য ও বাংলার ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে খেজুরগাছ রোপণ করা দরকার বলে জানান তিনি।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড