• বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নরসিংদীতে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সখিনা

  মনিরুজ্জামান, নরসিংদী

১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৫৮
ছবি : দৈনিক অধিকার

নরসিংদীতে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন সখিনা নামে এক গৃহবধূ। সম্প্রতি নরসিংদী শহরের জেলখানা মোড়স্থ হলি লাইফ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারকালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূর স্বামী সুজন মিয়া।

ডাক্তার বলছে তার জীবন মরণ বর্তমানে সম্পূর্ণ সৃষ্টিকর্তার হাতে। ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার ফলে ওই গৃহবধূর দরিদ্র স্বামীকে গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত তিন লক্ষাধিক টাকা।

গৃহবধূ সখিনার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সখিনার পিত্তথলিতে সম্প্রতি পাথর ধরা পড়ে। স্বামী সুজন মিয়া ভালো ডাক্তার দিয়ে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পিত্তথলি থেকে ওই পাথর অপসারণ করতে তার পরিচিত একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিচালক রিপন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করেন।

সুজন মিয়া জানান, রিপন তাদের পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাদে এর আগেও এই হাসপাতালে তার বাবা, শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও স্ত্রীর চিকিৎসা করিয়েছেন। সুজনের সবসময় আসা-যাওয়ার ফলে রিপনের সাথে তার একটা সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্ত্রীর বিষয়টি রিপনের সাথে আলাপ করলে সে সুজনের স্ত্রীকে তার পরিচালনাধীন নরসিংদী শহরের জেলখানার মোড়ে অবস্থিত হলি লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়। রিপনের পরামর্শ অনুযায়ী সুজন তার স্ত্রী সখিনা বেগমকে সেখানে ভর্তি করায়। যথারীতি সেখানে ডা. আসাদুজ্জামানের অধীনে তার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লেপারোস্কপি করা হয়।

কিন্তু ডাক্তার লেপারোস্কপি করার সময় যে স্থানে ক্লিপ করে সেটি মুখ বড় করে কেটে ফেলে। কেটে ফেলা স্থানে ক্লিপ করলে তা ঠিকমতো বন্ধ হয়নি, তাছাড়া অন্য একটি স্থানে ছিদ্র করে ফেলে। আর এ বিষয়টি বর্তমানে সখিনা যে ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে, তার কাছ থেকে জানতে পারেন বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, হলি লাইফ হাসপাতালের লেপারোস্কপি করার সময় তিনদিন পর সখিনাকে ছুটি দেয় কর্তব্যরত চিকিৎসক। তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্ধ্যার সময় সখিনার পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে বিষয়টি রিপনকে জানালে তাকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে আসার কথা বলে। হাসপাতালে আনার পর বিভিন্নভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তার চিকিৎসা চলতে থাকে। এভাবে কেটে যায় কয়েকদিন। এদিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে, এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে ওঠে সুজন। তার স্ত্রীর বিষয়ে রিপনের কাছে জানতে চাইলে সঠিকভাবে তেমন কিছুই না বলে শুধু বলে দেখা যাক কী করা যায়। সখিনার অবস্থা যখন সংকটাপন্ন, তখন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে দেয় দায়িত্বরত ডাক্তার।

এ অবস্থায় তাকে ঢাকা ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ডাক্তার তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলে তিনি জানান তার পেটের মধ্যে পাকস্থলী থেকে বিভিন্ন ধরনের ময়লা ঢুকে পড়েছে, সেগুলো অপসারণ করতে খুব দ্রুত অপারেশন করতে হবে। আর অপারেশনের খরচ ব্যয়বহুল। এ অবস্থায় সুজন ও তার আত্মীয়-স্বজন ডাক্তারের হাতে পায়ে ধরে অপারেশনের ব্যবস্থা করতে বলেন। অপারেশনের পর ডাক্তার তাদেরকে জানান তিনি তার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন, তবে পেটের মধ্যে যে ছিদ্রটি হয়েছিল তা তিনি পুরোপুরিভাবে বন্ধ করতে পারেননি। এক্ষেত্রে একটু বিপদের ভয় থাকতে পারে এবং যে কোনো সময় খারাপ কোনো কিছু হয়ে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

এ অবস্থার জন্য সুজন হাসপাতালের পরিচালক রিপনকে দায়ী করে বলেন, তারা আমার স্ত্রীর জীবন নিয়ে খেলা করেছে। তাদের কাছে জীবনের চেয়ে টাকার মূল্য অনেক বেশি। আমার স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম করে তাকে আটকে রেখে আমার স্ত্রীকে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিয়েছে। আমি রিপনসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। আমার মতো আর যেন কারো এমন ক্ষতি না হয় সে জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি।

অভিযুক্ত ডাক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে হলি লাইফ হাসপাতালের পরিচালক রিপনের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, এখানে আমার তো কোনো দোষ নেই, দোষ হতে পারে ডাক্তারের। আপনারা ডাক্তারের সাথে কথা বলেন।

নরসিংদী সিভিল সার্জন ডাক্তার নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড