• শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৭ বছরেই ভেঙে ফেলা হচ্ছে ৭ কোটির সেতু

  শেখ শান্ত ইসলাম, খুলনা

১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:০৩
খুলনা
গল্লামারী সেতু (ছবি : অধিকার)

নির্মাণের সাতবছর পরই খুলনা নগরের ময়ূর নদের ওপরের গল্লামারী সেতু ভেঙে আর একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সড়ক বিভাগ। ভেঙে ফেলা হবে এর পাশের পুরোনো সেতুটিও।

সড়ক বিভাগ বলছে, প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরের জিরো পয়েন্ট থেকে ময়লাপোতা পর্যন্ত শেরে বাংলা সড়ক চার লেনে উন্নতির কাজ চলছে। ওই সড়ক নির্মাণ, নদীরক্ষা কমিশনের সুপারিশ এবং বিআইডব্লিউটিএ’র মতামত মাথায় নিয়ে গল্লামারী এলাকায় নতুন এ সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা তৈরি করেছে সড়ক বিভাগ। ইতিমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবনা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে ময়ূর নদ দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখতেই ১৫ ফুট উচ্চতায় এ নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেতুটি হবে চার লেনবিশিষ্ট। নদের মধ্যে কোনো পিলার হবে না। ঢাকার হাতিরঝিলের মতো ঝুলন্ত সেতু হবে এটি। এর দৈর্ঘ্য হবে ৭৪ মিটার ও প্রস্থ ২২ মিটার। পানি থেকে সেতুর উচ্চতা থাকবে কমপক্ষে ৭ মিটার। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা।

সড়ক বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, গল্লামারীতে ময়ূর নদের ওপর দুটি সেতু রয়েছে। পুরোনো সেতুটি নির্মাণ করা হয় পাকিস্তান আমলে। সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এর পাশে ২০১৩ সালে নতুন একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

পিসি গার্ডার পদ্ধতির সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পাশে থাকা পুরোনো সেতু দিয়েও যানবাহন চলাচল করে।

মাসুদ বলেন, ২০১৫ সালে উন্মুক্ত করে দেওয়া সেতুটি নির্মাণের সময় ময়ূর নদ অনেকটা শুকিয়ে গিয়েছিল। এ কারণে সেখানে কম উচ্চতার সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল তখন। পরে নদ পুনঃখনন করে নৌযান চলাচলের উপযোগী করার পরিকল্পনা করায় নতুন সেতুটি ভেঙে ফেলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের নকশা যাচাই-বাছাই কাজ করছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। নকশা চূড়ান্ত ও মন্ত্রণালয়ে অনুমোদিত হলেই দরপত্র আহ্বান করা হবে। তখন পুরোনো দুটি সেতুই ভেঙে ফেলা হবে।

তবে এ বিষয়ে খুলনার নাগরিক সমাজের নেতারা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত নতুন সেতুটির ভেঙে ফেলার দায় নিতে হবে সড়ক বিভাগকেই। মাত্র সাতবছরের মধ্যে সেতুটি ভেঙে ফেলায় গচ্চা যাচ্ছে সাত কোটি টাকা। ওই অপরিকল্পিত কাজের সঙ্গে কারা জড়িত, তদন্ত করে তা চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, দেশে সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনা করে প্রকল্প তৈরি করা হয় না। এর অন্যতম প্রমাণ গল্লামারী সেতু। এতে জনগণ ও সরকারের টাকার অপচয় হয়। কিন্তু লাভবান হন একশ্রেণির মানুষ। আমাদের আন্দোলনের পরও কার স্বার্থে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তা তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া উচিত।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড