• রোববার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ৯ মাঘ ১৪২৮  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নাসিক নির্বাচন : ফ্যাক্টর সাধারণ ভোটাররা

  তুষার আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ

১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:২৩
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী না দিলেও তাদেরই একজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাত প্রার্থীর মধ্যে দুজন স্বতন্ত্র হলেও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রয়েছেন পাঁচজন। তাই দলের ভোটে তাদের বিশেষ নজর থাকলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, জয়-পরাজয়ে ফ্যাক্ট হয়ে দাঁড়াবে সাধারণ বা নিরপেক্ষ ভোটাররা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সাত মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ‘হেভীওয়েট’ প্রার্থী ভাবা হচ্ছে দুজনকে। একজন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও বিগত সময়ের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী এবং অপরজন বিএনপি থেকে আসা স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। এ ছাড়াও অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- ইসলামী আন্দোলনের মাসুম বিল্লাহ, কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস, খেলাফত মজলিসের সিরাজুল মামুন, খেলাফত আন্দোলনের জসিম উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বাবু। এরমধ্যে আলোচনায় থাকা আইভী ও তৈমূর নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় বেশ ঘাম ঝরাচ্ছেন।

তবে তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোই বলছে, বিএনপি থেকে আসা স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী আইভীর নিজ দলের মধ্যেই রয়েছে গৃহ-বিবাদ। ফলে নৌকা প্রতীক পেলেও আইভীর দলীয় ভোটের একটি অংশ তার পক্ষে না যাওয়ার গুঞ্জন যেমন শোনা যাচ্ছে, তেমনই তৈমূরের ক্ষেত্রেও বিএনপির বৃহৎ অংশের ভোট ‘হাতির ব্যালটে’ না পড়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান বলে চাউর হচ্ছে।

তাই দলীয় ভোটে সংশয় থাকায় বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনায় থাকা এই দুই প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের ভিত্তি গড়বেন সাধারণ ভোটাররা। এর ব্যাখ্যায় তারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ভোটার রয়েছে ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন। শতকরা ৩০ শতাংশ ভোট যদি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিরও হয়, তবে ৬০ শতাংশ ভোটার উভয় দলের থাকলেও বাকি ৪০ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বা নিরপেক্ষর তালিকায়। এই ৪০ শতাংশ সাধারণ ভোটারদের ভোট যিনি বেশি পাবেন, তার দিকেই ঝুঁকবে জয়ের পাল্লা।

যদিও স্থানীয় রাজনৈতিক ও সচেতন মহলের ভাষ্য, কাগজে-কলমে এমনটা হলেও এই দুই প্রার্থীর বাস্তবিক সমীকরণ বেশ জটিল। কেননা, ৩০ শতাংশ দলীয় ভোটের যেই সমীকরণ রয়েছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সেখানেও রয়েছে শঙ্কা।

খোদ বিএনপি নেতারাই বলছেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা এবং বলয়ভিত্তিক রাজনীতির কারণে তৈমূর আলমের পাশে নেই বিএনপির স্থানীয় ভোটারদের বৃহৎ একটি অংশ। এরই মধ্যে তৈমূরকে দলের সকল পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন করেছে বিএনপি। হাইকমান্ডের ম্যাসেজ; ‘তৈমূর বিএনপির প্রার্থী নন।’

এরই মধ্যে শহরে গুঞ্জন উঠে- সরকার দলীয় স্থানীয় এক সাংসদ পরিবার থেকে দাঁড় করানো হয়েছে তৈমূরকে। নিজ দলের সমর্থন না পাওয়া তৈমূরও নিজেকে জনতার প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করছেন। তাই বিএনপির বৃহৎ যে অংশটি তৈমূরের পাশে নেই, তাদের ভোট হাতি মার্কায় পড়বে না বলে চাউর হচ্ছে।

আরও পড়ুন : নোয়াখালীতে হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর : পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

অনেকটা একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে আইভীর ক্ষেত্রেও। এর ব্যাখ্যায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একাংশ বলছেন, বিগত সময়ে যারা আইভীর বিরুদ্ধাচরণ করেছেন, তারা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগেরই একটি বিশেষ পরিবারের অনুসারী। তাদের বেশিরভাগই স্থানীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতা। বিগত সময়ে তারা আইভীর বিরুদ্ধে গণঅবস্থান গড়ে তুলতে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তারা এ-ও বলেছিলেন, ‘আইভী নৌকা পেলেও নৌকা মার্কায় যেন ভোট না দেওয়া হয়।’ এমনকি আইভী বিরোধী আওয়ামী লীগের ওই বলয় থেকে তিন নেতা নৌকা প্রতীকও চেয়েছিলেন। যদিও তাদের কেউ কেউ হাইকমান্ডের চাপে বর্তমানে আইভীর পাশে রয়েছেন। তবে অধিকাংশদের অবস্থান এখানো ধোঁয়াশাচ্ছন্ন।

তাই বিশ্লেষকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারাও বলছেন, আওয়ামী লীগে থাকা আইভী বিরোধী অংশটির ভোট নৌকার ব্যালটে না পরার সম্ভাবনা বিদ্যমান। এ কারণে দলীয় ভোটের চাইতেও আলোচনায় থাকা এই দুই প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের ভিত্তি গড়বেন সাধারণ ভোটাররা। এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহলও।

ওডি/নিলয়

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড