• বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, হুমকির মুখে ফসলি জমি

  মনোয়ার হোসেন রুবেল, ধামরাই (ঢাকা)

১৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:৫৪
ফসলি জমির মাটি
ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে (ছবি : অধিকার)

নিয়মিত ইটভাটায় মাটি কেটে নেওয়ার ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে জনজীবনসহ তিন ফসলি জমি। ঢাকার ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। নিজেদের ইচ্ছেমতো মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে মাটি ব্যবসায়ী ও ইটভাটার মালিকরা। এতে যেমন নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও রাস্তা, তেমনি ঝুঁকিতে রয়েছে মানুষের জীবন। তবে এসব বিষয়ে প্রশাসন অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোয়াজ্জেম হোসেন মেম্বার ও নাছির হোসেন নামের দুই ব্যক্তি কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে ভেকু মেশিন দিয়ে তিন ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। এতে সরিষাখেতের জমির মাটি প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটায়।

রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক আ: মান্নান বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে মাটি ব্যবসায়ী নাছির হোসেন আমার সরিষাখেতের ওপর দিয়ে মাটির লিগ বানিয়ে ট্রাক নিতেছে। এতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমি বাধা দিলে নাছির আমাকে মারধর করতে আসে।’

এলাকার আরেকজন কৃষক আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আমি ৮৭ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে সরিষাচাষ করেছি। মোয়াজ্জেম মেম্বার আমার সরিষাখেত নষ্ট করে মাটির ট্রাক নিতাছে। আমাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পযর্ন্ত আমাকে কোনো টাকা-পয়সা দেয়নি। টাকা চাইলে শুধুই টালবাহানা করে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের কান্দাপটল গ্রামের জমির মালিক বলেন, ‘আমার ১শ ফসলি জমির উপর দিয়ে মাটির লিগ তৈরি করেছে মাটি ব্যবসায়ী নাছির। আমি বাধা দিলেও আমার কথা না শুনে জমিতে কলাগাছ ও কাঁঠাল গাছ নষ্ট করে লিগ তৈরি করছে। এতে আমার প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হইছে। নাছির প্রভাবশালী হওয়ায় কিছু বলতে পারি না।’

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাইশাকান্দা, বাস্তা, মাদারপুর, কালামপুর, জালসা, ধলকুন্ড, ভালুম, গাড়াইল, দেপাশাই, নান্নার, জয়পুরা, বেলিশ্বর, সুয়াপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে ট্রাক দিয়ে ফসলি জমির মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জমির মালিকরা না বুঝেই তা মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেম হোসেন মেম্বার বলেন, ‘জমির মাটি আমি ক্রয় করে কাটতেছি। ক্ষতিপূরণ দিয়ে লিগ তৈরি করেছি। জোর করে ট্রাক নিতেছি- কথাটি মিথ্যা।’

এ ব্যাপারে মাটি ব্যবসায়ী নাছির হোসেনকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।

ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হাসান বলেন, ইটভাটায় মাটি কেটে নেওয়ার ফলে ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদন দিনকে দিন কমছে।

আরও পড়ুন : ঐতিহ্যের ধারক বাঁশখালীর বখশি হামিদ জামে মসজিদ

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন, রাতের আঁধারে জমির মালিকদের সাথে আঁতাত করে মাটি বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড