• শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মেহেদির রং ফিকে হতেই লাশ হলেন নববধূ

  রিয়াজুল ইসলাম, সদর প্রতিনিধি (কুষ্টিয়া)

১২ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:৩২
নববধূ
মেহেদি রাঙানো নববধূর হাত (ফাইল ছবি)

মাত্র ২৬ দিন আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয় সুমাইয়ার। নতুন এক পরিবার খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন নতুন সংসার গুছিয়ে নেবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তার ভাবনাগুলো ভাবনা হয়েই থাকল। হাতের মেহেদির রং ফিকে হতে না হতেই লাশ হতে হলো এই নববধূর।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সুমাইয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তবে তার বাবার দাবি যৌতুকের কারণে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মেয়েকে। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার মেটন গ্রামে।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সকালে থেকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বিকালে মারা যান সুমাইয়া। কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করেন।

জানা যায়, জেলার মিরপুর উপজেলা হরলা মেটন গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে সাকিবুল ইসলামের সাথে গত ১৬ ডিসেম্বর বিয়ে হয় সুমাইয়ার। বিয়ের দুই তিনদিন পরেই জরুরি টাকার প্রয়োজন জানিয়ে যৌতুকের দাবি করেন সাকিবুল। ব্যবসা করার জন্য এই টাকা দিতে সুমাইয়াকে চাপ দেওয়া হয়। তার বাবার কাছেও টাকা চাওয়া হয়। কিন্তু দরিদ্র সুমাইয়ার বাবা ব্যবসার সম্পূর্ণ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হন এই নববধূ।

বেশ কয়েকদিন ধরে যৌতুকের টাকার জন্য বকাবকি করে সুমাইয়াকে বাবার বাড়ি পাঠানো হয়। চারদিন সেখানে থেকে কিছু টাকা নিয়ে স্বামীর বাড়িতে ফেরত আসেন তিনি। সম্পূর্ণ টাকা না আনার কারণে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন তাকে গালমন্দ ও মারধর করেন।

সুমাইয়ার পরিবারের লোকজন জানান, দাবি করা এক লক্ষ না পেয়ে মঙ্গলবার সকালে সুমাইয়ার স্বামী সাকিবুল পরিকল্পিতভাবে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ সুমাইয়াকে উদ্ধার করেন তার মামা জালাল আলী। এরপর তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার পর সুমাইয়ার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পলাতক আছেন।

সুমাইয়ার মামা জানিয়েছেন, তিনি বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কন্যা হত্যার বিচার চেয়ে সুমাইয়ার বাবা বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।

ওডি/নিমি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড