• মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮  |   ১৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দুর্বিষহ জীবনে সাত অন্ধের পরিবার

  আব্দুর রউফ রুবেল, গাজীপুর

১১ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:৩৩
সাতজন অন্ধ (ছবি : অধিকার)

জন্মান্ধ জোনাকির বয়স এগারো। জন্মের পরই তাকে ফেলে রেখে চলে যায় মা। এ বয়সে তার বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাবার কথা। কিন্তু অন্ধত্ব কেড়ে নিয়েছে তার সব আনন্দ। জন্মের পর পৃথিবীর আলো দেখেনি সে। শুধু জোনাকিই না, এই পরিবারে রয়েছে আরও ছয়জন জন্মান্ধ মানুষ। সাতজন অন্ধের দেখভাল করেন জোনাকির দাদি রাশিদা বেগম। এমন করুণ দৃশ্যের দেখা মেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার উজিলাব গ্রামে।

পরিবারের অন্যরা হলো- জোনাকির জেঠা আমির হোসেন (৪০), জেঠি শিউলী আক্তার (৩০), ফুপু নাসরিন আক্তার (৩০), ফুপু হাসিনা আক্তার (৩২), বাবা জাকির হোসেন (২৫), ফুপাত বোন রুপা আক্তার (১২)।

জোনাকির বাবা জাকির হোসেন জানান, একই পরিবারে বড় ভাই, ভাবি, দু’বোন, মেয়ে, ভাগ্নিসহ সাতজন অন্ধ। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নেই। কেউ কোনো কাজকর্ম করতে পারে না। অর্থের অভাবে কারো চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। অন্ধত্ব আর অভাবের কারণে সংসার ছেড়ে স্ত্রী খাদিজা চলে গেছে বহু আগেই। অভাবে, অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটে তাদের। অন্ধত্বকেই ভাগ্য বলে মেনে নিয়েছেন তারা। পরিবারের সাতজন অন্ধের মধ্যে পাঁচজন পান প্রতিবন্ধী ভাতা। সংসারের সামান্য আয় আর ভাতার টাকায় কোনোমতে চলে সংসার। সংসারে আয়ের আর কোনো পথ না থাকায় কোনোভাবে বেঁচে থাকাটাই যেন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও জানান, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো.সাদ্দাম হোসেন অনন্ত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারকে সহায়তা করছেন। এখন জোনাকির চোখের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। মেয়ের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করছেন তিনি।

জোনাকির জেঠা আমির হোসেন জানান, জন্ম থেকেই আমরা অন্ধ। বিভিন্ন বাউল গানের আসরে ঢোল বাজিয়ে কোনোমতে সংসার খরচটা চলে কিন্তু মহামারি করোনা আসার পর সেই ইনকামের পথও বন্ধ হয়ে গেছে। এই কঠিন সময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাদ্দাম ভাই। তার মতো যদি সমাজের বিত্তবানরা আমাদের পাশে দাঁড়াতো তাহলে আমাদের কষ্টটা একটু লাঘব হতো।

জন্মান্ধ জোনাকি বলেন, জন্মের কিছুদিন পরই আমার মা চলে যায় আমাকে ফেলে। আমাদের জীবনটা খুব কষ্টের। সাদ্দাম ভাই আমার চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ডাক্তার দেখাচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ সাদ্দাম ভাইয়ের প্রচেষ্টায় হয়তো আমি অপারেশনের মাধ্যমে আমার চোখের আলো ফিরে পাবো।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, পরিবারটি একটু ব্যতিক্রমী। একই পরিবারে সাতজন অন্ধ, এমন ঘটনা খুবই কম। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছি। পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ জোনাকি। চোখের আলো ফিরে পেলে সংসারের সহায়ক হবে সে।

আরও পড়ুন : ২০ বছর পর পেট থেকে বের করা হলো কাঁচি

তিনি আরও বলেন, গাজীপুরের এবিসি চক্ষু হাসপাতালের ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে ঢাকার ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী জোনাকিকে নেওয়া হয় ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। খুব শীঘ্রই তার চোখের অপারেশন হবে।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড