• বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২, ৬ মাঘ ১৪২৮  |   ২১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কুমারখালীতে খেজুর গাছ লাগিয়ে আশরাফুলের ভাগ্যবদল

  তানভীর লিটন, কুমারখালী-খোকসা (কুষ্টিয়া)

১০ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:১৩
কুষ্টিয়া
(ছবি : অধিকার)

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ ও খেজুরের গুড়ের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের আশরাফুল।

জেলায় প্রথমবারের মত বানিজ্যিকভাবে খেজুর গাছ লাগিয়ে সারা ফেলেছে আশরাফুল। তিনি বিলুপ্ত প্রায় এই গাছের সংরক্ষণের পাশাপাশি খেজুর গাছের রস ও গুড় বিক্রি করে আয় করছে লাখ টাকা। এখন তার খেজুর বাগানে ৪০০টিরও অধিক খেজুর গাছ রয়েছে বলে জানান তিনি।

খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি করে আশরাফুলের এখন মৌসুম চলাকালে প্রতিদিনের আয় ১৬ হাজার টাকা। ১ কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত এবং প্রতি গ্লাস রসের দাম নিচ্ছে ১০ টাকা।

বিলুপ্ত প্রায় এই খেজুর গাছ সংরক্ষনের পাশাপাশি বানিজ্যিকভাবে খেজুর রস ও গুড় উৎপাদন করতেই আশরাফুল নিয়েছেন এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রতিদিন ৫ শত লিটার রসে প্রায় ৮০ কেজি গুড় উৎপাদন করে খরচ বাদে আয় করছে ১৬ হাজার টাকা।

উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। আর তা দেখে আমি গাছটিকে কিভাবে বাণিজ্যিকভাবে সংরক্ষণ করা যায় তা ভাবি। সেই চিন্তাভাবনা থেকেই আট বছর আগে আমি আমার পাঁচ বিঘা ধানী জমির আইলের তিন পাশে ৩ শত ১০টি খেজুর গাছ রোপণ করি। আজ সেই খেজুর গাছ থেকেই আমি আয় করছি লাখ লাখ টাকা। এবছর আরও খেজুর গাছ রোপণ করব।

খেজুরের গুড় কিনতে আসা অনলাইন ব্যবসায়ী কামারুল ইসলাম রাশেদ জানান, আশরাফুল ভাইয়ের খেজুরের গুড়ের সুনাম শুনে আমি ঢাকা থেকে এসেছি। আজ ৫০ কেজি গুরের অর্ডার দিয়েছি, ক্রেতাদের সারা মিললে আমি আরও গুড় নিব।

রাকিবুল ইসলাম নামের এক খুচরা ক্রেতা বলেন, বাজারে নকল গুড়ের মাঝে আশরাফুল তার নিজ বাগান থেকে উৎপাদিত রস বিশুদ্ধ গুর তৈরি করে তাই আমার বাড়িতে শীতকালীন পিঠা পুলি বানানোর জন্য এই খাঁটি গুড় কিনতে এসেছি।

বিশিষ্ট গবেষক ও পরিবেশবীদ গৌতম কুমার রায় মনে করেন, খেজুর গাছ যাতে আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি তথা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সেজন্য পরিকল্পিত উপায়ে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এ গাছের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি খেজুর গাছ না কাটার পরামর্শ দেন তিনি।

সকল কৃষিখাতকেই বাণিজ্যিকভাবে নিচ্ছে সরকার, তাই সরকারিভাবে যেনো খেজুর গাছ সংরক্ষণের জন্য প্রকল্পাকারে গ্রহনের প্রস্তাবসহ কৃষি অফিসের সার্বক্ষণিক সহযোগিতার কথা জানালেন কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আকুল উদ্দিনর বলেন, মানবদেহের জন্য উপকারী বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। প্রচলিত খাদ্য হিসেবে খেজুর রস বেশ সস্তা, পুষ্টিকর এবং উপাদেয়। খেজুর রসে অ্যাসপারটিক এসিড, নাইট্রিক এসিড এবং থায়ামিন বিদ্যমান। তবে নিপা ভাইরাস সংক্রমণরোধে খেজুরের রস ফুটিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

আশরাফুল ইসলামের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল বলেন, সরকারি ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে তার এই প্রশংসনীয় কার্যক্রম অনুপ্রেরণামূলক তুলে ধরাসহ বাজার সম্প্রসারণের জন্য কাজ করবে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা বন ও পরিবেশ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, তাল গাছ সংরক্ষণের মত খেজুর গাছকেও সংরক্ষণের জন্য কোন প্রকল্প গ্রহণ করা যায় কি না তা উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিকট উপস্থাপন করব।

কুটির শিল্পের উপকরণ হিসেবেও খেজুর গাছের গুরুত্ব রয়েছে অনেক। তবে বিলুপ্ত প্রায় খেজুর গাছের সংরক্ষণ ও করোনার মধ্যে নিপা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে সেটি হবে আরও ভয়াবহ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-খেজুরের রস কাঁচা খাওয়ার পরিবর্তে বাণিজ্যিকভাবে এ রসের গুঁড় উৎপাদনে উৎসাহ প্রদান করতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ওডি/এফই

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড