• বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

লালমনিরহাটে স্বামীর আত্নহত‌্যায় চাপা পড়ছে স্ত্রীর হত‌্যা

  সুমন খান, লালমনিরহাট

১০ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৩৯
ছবি : সংগৃহীত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কাদমা গ্রামের গৃহবধূ সাবিত্রী রানীর হত্যাকাণ্ডের সাথে কে বা কারা জড়িত তা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। সাবিত্রী রানীর স্বামী হিমাংশু রায় ও তার বড় মেয়ে প্রিয়াংকাসহ এলাকাবাসীর পারস্পরিক বিরোধী বক্তব্যে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি এ হত্যাকাণ্ডের সাথে যে বা যারাই জড়িত থাক তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি পুলিশ হেফাজতে হিমাংশু রায়ের আত্নহত‌্যায় পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ছিল কিনা তারও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে অনেকেই সন্দেহ করেছেন সবিত্রী হত্যাকাণ্ডের সাথে তার স্বামী হিমাংশু রায় জড়িত থাকতে পারে এবং এ হত্যাকাণ্ডে কেউ না কেউ হিমাংশু রায়কে সহযোগিতাও করছেন।

আর হিমাংশু রায়ের পিতা বলছে আমার ছেলে আত্মহত‌্যা করেছে। ছেলের মৃত্যু নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। ছেলে আত্নহত‌্যায় করেছে তা মেনে নিয়েই সৎকার করেছি।

জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোর রাতে ওই এলাকায় বিশ্বেস্বর রায়ের পুত্র হিমাংশু রায়ের স্ত্রী সাবিত্রী রানী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। সকালে হিমাংশু রায় প্রতিবেশীদের ডেকে বলেন, তার বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা তার বাড়ি থেকে ৭২ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। পরে দিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং সন্দেহজনক কারণে ওই গৃহবূধর স্বামী হিমাংশু রায়কে জিঞ্জাসাবাদের জন‌্য আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। থানায় নারী ডেস্ক রুমে তাকে জিঞ্জাসাবাদের জন‌্য রাখলে সেই রুমে আত্মহত‌্যার চেষ্টা করেন হিমাংশু রায়। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

পুলিশ হেফাজতে জিঞ্জাসাবাদে হিমাংশু রায় পুলিশকে জানান, তিনি পাশে এক অনুষ্ঠান থেকে ভোর সাড়ে তিনটার দিকে বাড়ি ফিরে তার বড় মেয়ে প্রিয়াংকার কাছে জানতে পায় তার স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে ঘরের পাশে তুলশী গাছের নিচে তিনি তার স্ত্রী সাবিত্রী রানীর লাশ দেখতে পায়।

তবে হিমাংশু-সাবিত্রী’র বড় মেয়ে প্রিয়াংকা জানান, ভিন্ন কথা। তিনি কখন বলেন বাবা রাত ১২টার দিকে বাড়িতে এসেছে তখন মাসহ আমরা ঘুমে ছিলাম। কখনো বলেন বাবা আসার আগে কালো কোর্ট পড়া একজন লোক এসে মাকে গলাটিপে হত্যা করেন। তাহলে সেই লাশ ঘরের বাহিরে কি ভাবে গেল এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়াংকা জানান, তখন আমি ঘুমে ছিলাম।

এদিকে প্রতিবেশীরা জানান, হিমাংশুর বাড়িতে মধ্য রাতে ডাকাতি হয়েছে এমন কোনো চিল্লাচিল্ল আমরা শুনতে পারি নাই। সকাল বেলা হিমাংশুর মুখে শুনি রাতে নাকি ডাকাতরা তার স্ত্রীকে হত্যা করে টাকা নিয়ে গেছেন।

সরেজমিনে ওই এলাকা গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় ভিন্ন তথ্য। হিমাংশু রায় ছিল একজন বেকার। তিনি নিয়মিত জুয়া খেলতেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় প্রায় সময় সাবিত্রী রানীকে নির্যাতন করত হিমাংশু। ঘটনার দিনও পাশে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অযুহাতে জুয়া খেলে ভোর রাতে বাড়ি ফিরেছেন হিমাংশু।

এ বিষয়ে হিমাংশু রায়ের পিতা বিশ্বেস্বর রায় বলেন, আমার ছেলের বউ হত্যাকাণ্ডের সাথে আমার ছেলে জড়িত থাকলেও থাকতে পারে। সেটা যেহেতু দেখি নাই এ নিয়ে কি বলি? আমার ছেলে আত্মহত‌্যা করেছে ছেলের মৃত্যু নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। ছেলে আত্নহত‌্যায় করেছে তা মেনে নিয়েই সৎকার করেছি।

তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবিত্রী রানীর ভাই খগেন চন্দ্র বলেন, আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। ভাগিনী দুইটির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে চাই না। আমরা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নিয়েছি। তবে আমার বোনের হত্যাকাণ্ডের সাথে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, সাবিত্রী হত্যাকাণ্ড ও পুলিশ হেফাজতে হিমাংশু রায়ের আত্নহত‌্যায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড