• বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২, ৬ মাঘ ১৪২৮  |   ১৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ইন্দুরকানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যত অনিয়ম

  মো. রুম্মান হাওলাদার, পিরোজপুর

০৮ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫১
ছবি : দৈনিক অধিকার

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩২ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতিকরণের পরে স্যানিটেশনসহ অনেক কাজ বাকি রেখেই কন্ট্রাকশন কোম্পানি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়। অভিযোগ উঠেছে অনেক টাকার বিনিময়ে তখনকার কর্মকর্তা তড়িঘড়ি করে হাসপাতালটি বুঝে নেন। তার সাথে ছিল স্থানীয় প্রভাবশালী ক্যাশিয়ার-ক্লার্কসহ দু-তিন জন কর্মচারী। একযুগ পেরিয়ে গেলেও আজও সম্পূর্ণ ভাবে আন্তঃবিভাগ চালু করা যায়নি তার কারণ হিসেবে জানা যায় স্থানীয় কিছু কর্মচারীর জন্য তারা চায়না যে হাসপাতালটি পরিপূর্ণ ভাবে চালু হোক। হাসপাতালটি চালু হলে কাজে বেড়ে যাবে বর্তমানে ভাউচার লেখা ছাড়া তেমন কোন কাজ নেই।

সরজমিনে তদন্তে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন ২০২১ সালের ৩০ জুন হাসপাতালটি অনেক টাকার উৎকোচের বিনিময়ে তড়িঘড়ি করে বুঝেনেন ঠিকাদারের নিকট থেকে। তখন অনেক কাজ বাকি ছিল। এরপরে শুরু হয় স্টাফ কোয়ার্টার ভাড়া বাণিজ্য। ক্যাশিয়ার ক্লার্কসহ কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী কর্মচারী মিলে স্টাফ কোয়ার্টার ভাড়াদেন নার্স, আয়া ও নৈশ প্রহরীদের নিকট। তাদের কাছ থেকে টাকাও আদায় করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়না কারণ হাসপাতালের মিটার থেকে সোজা লাইন টেনে কোয়ার্টার নেওয়া হয়েছে। ফাকি দিচ্ছে সরকারের রাজস্ব। অথচ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন হয়েছে। যারা কোয়ার্টার থাকবেন তাদের বাসা ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে কয়েক জন অসাধু স্টাফদের যোগ সাজে অল্প ভাড়ায় তারা সেখানে বসবাস করছেন।

উপজেলার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রায় দেড় লক্ষ জনগণ চিকিৎসা সেবা পাবার কথা। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করেন ৯৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আসেন ইচ্ছে মত। নেই কোন জবাবদিহি । সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় সকাল ৮ থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও সকাল ১০/১১ টায় ও অনেক সময় ডাক্তার পাওয়া যায়না উপজেলার দুর দুরান্ত থেকে রোগী এসে বসে থাকতে দেখা যায়।

ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৫ সালে এবং ২০০৮ সালে ভবন হস্তান্তর করা হয় স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে। প্রয়োজনীয় লোকবল আসবাবপত্র যন্ত্রপাতিসহ সবকিছু সরবরাহ করা হয়। ২০০৮ সালে ২৩ ডিসেম্বর থেকে চালুকরা হয় বহির্বিভাগ।

রোগীদের সাথে অনেক অশোভনীয় আচারণ করার অভিযোগ রয়েছে কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এমনকি করোনা টিকা নেয়ার সময়ে অনেক রোগীদের সাথে অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন।

এই হাসপাতালের স্থানীয় কর্মচারী, নার্স, আয়া এমনকি ঝাড়ুদার পর্যন্ত। এখানে ১২-১৩ বছর পর্যন্ত চাকুরী করছেন তাদের এত পেশীশক্তি যে সরকারি বদলির কোন নিয়ম নিতির তোয়াক্কা করার প্রয়োজন পরে না। শোনা যায় উপর তলায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একই যায়গায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চাকুরী করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের নিকট আলপকালে তারা জানান এসব পুরোন স্টাফদের বদলি হলেই হাসপাতালেন ভাগ্য ফিরে পাবে তা নাহলে এই হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজওয়ানুর আলম বলেন, আমি আসার আগে নতুন ভবন বুঝে নেওয়া হয়েছে, আর স্টাফ কোয়ার্টারে যারা আছে আমি তাদের থাকতে বলেছি। টাকার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না তবে স্টাফদের ভিতর কেউ কেউ কিছু টাকা নিতে পারে আমার অজান্তে। বাহির থেকে স্টাফ এসে কাজে ফাকিদেয় তাই ওদের এখানে থাকতে দিয়েছি , লোক না থাকলে কোয়ার্টার নষ্ট হয়ে যায়। বিদ্যুতের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, মিটারের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সিভিল সার্জন জনাব ডা. হাসনাত ইউসুফ জাকির সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড