• শনিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২২, ২৪ আশ্বিন ১৪২৯  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

শখের কুলচাষে ভাগ্যবদল তারেক হোসাইনের

  শিব্বির আহমদ রানা, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

০৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৭:৫০
তারেক হোসাইনের কাশ্মীরি আপেল কুলের বাগান (ছবি : অধিকার)

শখের বশে কুলের বাগান করেছিলেন কলেজপড়ুয়া মুহাম্মদ তারেক হোসাইন। বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে দুই বিঘা জমিতে রোপন করেছিলেন চার শতাধিক কুলের চারা। সে বাগানের কুল মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনতে চেয়েছে স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীরা। কাশ্মীরি আপেল কুলের এ বাগান দেখতে প্রায় নিয়মিত লোকজন ভিড় করছেন। আলোচিত এ কাশ্মীরি কুলের বাগান চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের সাহেবের হাট সংলগ্ন পূর্ব পাহাড়ি সমতল অঞ্চলে অবস্থিত।

তারেক হোসাইন সবেমাত্র মানবিক বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা শেষ করেছে। পড়ালেখাও চালিয়ে যাচ্ছেন বাঁশখালী ডিগ্রি কলেজে। ইউটিউবে কুল চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হয় সে।

এ বিষয়ে তারেক হোসাইন অধিকারকে জানান, ‘অনেক আগে থেকেই কৃষির প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। গতবছর ইউটিউবে কুল চাষের ভিডিয়ো দেখে আগ্রহী হই এ কাজে। বিষয়টি মা-বাবাকে জানালে তারা উৎসাহের পাশাপাশি অর্থসহ জমির যোগান দেন। পরে ফরিদপুর থেকে কাশ্মীরি আপেল কুল, বল সুন্দরী কুল, থাই আপেল কুলের ৪০০টি চারা সংগ্রহ করি। যাতায়াতসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা চারা সংগ্রহের কাজে ব্যয় হয়। এরপর পাহাড়ি সমতল জায়গা থেকে ১২ হাজার টাকায় লিজ নেওয়া ২ বিঘা (৮০ শতাংশ) জমিতে ১০ ফুট দূরত্ব রেখে ৪০০ চারা রোপণ করি। এখন পর্যন্ত এই বাগানে আমার ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। মাত্র আট মাস পরই গাছগুলোতে কুল আসতে থাকে। এখন প্রতিটি গাছ কুলের ভারে নুয়ে পড়েছে।’

তারেক হোসাইন আরও জানান, ‘ইতোমধ্যে একজন ফল ব্যবসায়ী দুই লাখ ৭০ হাজার টাকায় বাগানটি কিনতে চেয়েছে। বাজারে অন্য কুল যখন শেষ তখনই এ জাতের কুলের মৌসুম শুরু হয়। এ কারণে বেশি দাম পাবার আশায় আছি। দুই বিঘা জমিতে চারা রোপনসহ নানা কাজে আমার ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। সে ক্ষেত্রে লাভের অংশ অনেক বেশি থাকে। প্রথম দিকে আমার বাগান থেকে ১২০ টাকা কেজি, পরে ১১০ টাকা থেকে ১০০ টাকা কেজি পাইকারি দরে বিক্রয় করছি। এ পর্যন্ত ২৫ হাজার টাকার কুল বিক্রি হয়েছে। একসপ্তাহ পরে পুরোদমে বাগানের কুল বিক্রির উপযোগী হবে। এ বাগান থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা আয় করতে পারব বলে আশা করছি।’

শিক্ষিত বেকার তরুণ-যুবকদের উদ্দেশ্যে তারেক হোসাইন বলেন, ‘পড়ালেখার পাশাপাশি ছোট ছোট উদ্যোগ নিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করা যায়। আমি ইউটিউব দেখে কুল চাষের স্বপ্ন দেখেছি। প্রথমে শখের বসে কুল চাষ করলেও এখন আমার বাগানে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। আমি আরও ৮ বিঘা জমি লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। বিশেষ করে কুল চাষে শ্রম ও পুঁজি লাগে কম, কিন্তু লাভ হয় বেশি। প্রতিটি কুল গাছ দীর্ঘ ১০-১২ বছর সময় ধরে ফল দেয় এবং প্রতি বিঘা জমিতে ১৮০- ২০০টি চারা লাগানো যায়। এই কুল চাষে প্রতি বিঘায় ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে বছরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করাও সম্ভব।’

আরও পড়ুন : ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীর সাতদিনের জেল

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আবু ছালেক বলেন, কলেজপড়ুয়া ছেলের কৃষির প্রতি ঝোঁক দেখে খুশি হয়েছি। শিক্ষিত বেকার যারা তারাও এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। শখের বসে কাশ্মীরিসহ উন্নত জাতের আপেল কুলের চাষ করলেও তারেক হোসাইনের বাগানে এখন বাণিজ্যিকভাবে কুলের চাষ হয়েছে। তার এই কুল চাষ দেখে অনেক যুবক কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছে। তাছাড়াও বাঁশখালী কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক তারেকের কুল বাগান পরিদর্শন ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো. তাজবীর হোসাইন  

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড