• শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আজ দেওয়ানগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস

  সাজ্জাদুল আলম শাওন, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৩৫
ছবি : সংগৃহীত

আজ ৬ ডিসেম্বর জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশ মাতৃকার টানে বাংলার দামাল ছেলেরা জীবন বাজি রেখে বর্বর পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে হানাদাররা দেওয়ানগঞ্জ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। বীর সৈনিকরা সেদিন মাতৃভূমিকে শত্রু মুক্ত করতে সার্থক হয়েছিল।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একদল সাহসী যোদ্ধা আতর্কিত হামলা চালিয়ে পাক সেনাদের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। সেদিন দুপুরে বীর যুদ্ধাদের একটি দল রাজাকার ও পাকিস্থানিদের হটিয়ে দেওয়ানগঞ্জ দখল করে নেয়। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের অপ্রতিরোধ্য গেরিলা যুদ্ধ তাদের জন্য আতঙ্কের কারণ ছিল। সেই সাথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে দেওয়ানগঞ্জ হানাদার ও রাজাকার মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ইয়ানুস বীর মুক্তিযোদ্ধা ছামসুল হক প্রথম দেওয়ানগঞ্জে বিজয় পতাকা হাতে নিয়ে দেওয়ানগঞ্জ প্রবেশ করেছিলেনন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পুরো সময় জুড়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বর্বর পাকিস্তানি হানাদার ও এ দেশীয় রাজাকার বাহিনীর হত্যা, লুট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষত বিক্ষত ছিল। পাকিস্থানিদের বর্বরতার স্বীকার হয় তৎকালীন বুয়েট' এ অধ্যায়নরত মেধাবী ছাত্র আনোয়ারুল আজিম ছানা। তাকে যমুনা নদীর পারে নিয়ে নিসংশভাবে হত্যা করে ঘাতক পাক সেনারা। তিনিই মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ। এই উপজেলার জিল বাংলা সুগার মিলে পাক বাহিনীর ক্যাম্প ছিল। কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল কাদের নেতৃত্বে দামাল ছেলেরা ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় পাকসেনারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। অপরদিকে গাজী নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে দেওয়ানগঞ্জের রেল সংযোগ ধ্বংস করে দিলে পাকিস্থানীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে যেতে শুরু করে। ধীরে ধীরে মুক্ত হয় সকলের প্রিয় মাতৃভূমি দেওয়ানগঞ্জ।

মুক্তিযোদ্ধা শকাতুল হক কামাল চৌধুরী ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা যুদ্ধ চলাকালীন ১১ নং সেক্টরের অধীনে ছিল। সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে এই উপজেলার বীর সেনারা পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করেন। তারা বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় রাত জেগে যুদ্ধ করলে হানাদার বাহিনীরা পালাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পাক হায়েনারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আনন্দে সবার মুখে উচ্চারিত হয় ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ প্রতিধ্বনি। শুরু হয় আনন্দ মিছিল। মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে উঠে সারা এলাকা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার সেফা বলেন, দিনটিকে পালন করতে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। প্রতি বছর ৬ই ডিসেম্বর উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচি থাকে। এবারও তার ব্যাতিক্রম কিছু নয়।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড