• শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সবজির চারা উৎপাদন করে ১৫০ কৃষকের ভাগ্য বদল

  মনিরুজ্জামান, নরসিংদী

২০ নভেম্বর ২০২১, ১০:৩৩
ছবি : অধিকার

সবজি চাষে দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে নরসিংদী জেলার। বর্তমানে সবজি চাষের পাশাপাশি এ জেলার কৃষকরা সবজির চারা উৎপাদন করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। নরসিংদীর শিবপুরে সবজির চারা উৎপাদন করে ভাগ্য বদলে গেছে প্রায় ১৫০ কৃষকের। বাণিজ্যিক ভাবে সবজি চারা উৎপাদন করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের কুন্দারপাড়া এলাকা কৃষকেরা।

সরেজমিনে নরসিংদীর শিবপুরে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শিবপুর উপজেলার কুন্দারপাড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পলিথিনে মোড়ানো সারি সারি বীজতলা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন আসছেন চারা গাছ কেনার জন্য। অনেক কৃষক বীজতলা থেকে চারা তুলছেন বিক্রয়ের জন্য। কেউ কেউ বীজতলার উপরের পলিথিন খুলে উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন। আবার কেউ আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকরা জানায়, শিবপুরসহ নরসিংদীর স্থানীয় কৃষকরা একসময় মুন্সীগঞ্জ থেকে সবজির চারা ক্রয় করে সবজি আবাদ করতেন। প্রায় ২০ বছর পূর্বে নিজেদের প্রয়োজনে সবজি চাষের পাশাপাশি চারা উৎপাদন শুরু করেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। বর্তমানে এ এলাকার কৃষকেরা প্রায় ৩০ বিঘার উপরে জমিতে চারা উৎপাদন করছে। যার বাজার মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই চারা বিক্রয় করে কেউ কেউ হয়েছেন লাখপতি । চলতি মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে বীজতলা তৈরি করে অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিক্রি চলে আশ্বিন মাসজুড়ে। এ চার মাস সময়কালে একই পলিথিনে মোড়ানো সেড করে ৪-৫ বার পর্যন্ত বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বিক্রি করতে পারেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষক ফজলুল হক বলেন, আষাঢ় মাস থেকে বীজতলা প্রস্তুত করে বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, মরিচ ও টমেটোর বীজ বপন করা হয়। ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা গজালে তা পরিচর্যা করে এক মাস বয়সে তুলে সবজি চাষিদের কাছে বিক্রি করা হয়। ভাল মানের প্রতিটি ফুলকপির চারা ৮০ পয়সা থেকে ১ টাকা এবং বাঁধাকপির চারা প্রকার ভেদে ৬০ থেকে ৮০ পয়সা বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন জাতের ফুলকপির চারাসহ নানান সবজির চারা উৎপাদন করে থাকি। ফুলকপির জাতগুলোর মধ্যে আগুনি কপি অর্থাৎ যে আগে বের হয় (অগ্রহায়ণ মাসে), সিরাজী কপি, সাতাত্তুর, ব্রুকলি। তবে ব্রুকুলি গত বছর থেকে আমরা চাষ শুরু করেছি।

কৃষক শওকত আলী বলেন, সাধারণত আমরা কয়েকটি জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মরিচের চারা উৎপাদন করে থাকি। দেশের বিভিন্ন জেলা যেমন, কিশোরগঞ্জ, বি-বাড়িয়া, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, নেত্রকোনা, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর থেকে এসে আমাদের কাছ থেকে চারা কিনে নিয়ে যায়। আমি এ বছর আড়াই বিঘা জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও মরিচের চারা উৎপাদন করেছি। ইতোমধ্যেই খরচ উঠে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছি। আশা করছি আরও লাখ তিনেক টাকার চারা বিক্রি করতে পারব।

প্রান্তিক কৃষক ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বেশ কয়েক জন দিনমজুর এখানে কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।

দিনমজুর মোস্তফা মিয়া জানান, গত দুই বছর যাবৎ তিনি এই মাঠে কাজ করছেন। এখানে থাকা-খাওয়া ছাড়া প্রতিদিন দেড় শত টাকা মজুরী পায় সে। তার মতো মোট সতের জন শ্রমিক এই মাঠে কাজ করে।

নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে কৃষকরা এসে এসব চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন এখানে নরসিংদী জেলাসহ কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর, কিশোরগঞ্জ, বি-বাড়িয়া, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, নেত্রকোনা, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল এলাকার কৃষকরা সবজি চারা ক্রয় করতে আসেন।

চারা কিনতে আসা ক্রেতা হোসেন আলী জানান, তিনি বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর এলাকা থেকে এসেছেন। নরসিংদীর কুন্দারপাড়া থেকে চারা নিয়ে তা রোপণ করে ফলন ভালো পাওয়ায় একটু কষ্ট হলেও এখান থেকে চারা নিয়ে যাই। ফলন ভালো উঠলে এতো দূরে এসে চারা কিনে নেওয়ার কষ্ট আর মনে থাকে না। গত ৭-৮ বছর ধরে এখান থেকে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চারা নিয়ে আবাদ করেন বলে জানান তিনি।

শিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন সাদেক বলেন, কৃষি নির্ভর নরসিংদী জেলা, সবজি চাষে ইতোমধ্যেই অনেকে সফলতা লাভ করেছে। শুধু সবজি চাষ নয়, এর পাশাপাশি চারা উৎপাদন করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে এ জেলার কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সবজির চারা উৎপাদনে বিভিন্ন রোগবালা নিধনে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও চারার গুণগত মান ভাল রাখা, বীজ শোধন করা, বীজতলা তৈরি, বীজ রোপণ ও চারার পরিচর্যা এসব বিষয়ে শিবপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ওডি/এমএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড