• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পবিত্র কাবাঘরের ক্যালিগ্রাফার মোখতারের বাড়িতে খুশির আমেজ

  মেহেদী হাসান, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

১৫ নভেম্বর ২০২১, ১৪:৫৪
ক্যালিগ্রাফার মুখতার আলম
ক্যালিগ্রাফার মুখতার আলম (ছবি : সংগৃহীত)

পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার সন্তান মুখতার আলম। সম্প্রতি সৌদি আরব সরকার তাকে সে দেশের নাগরিকত্ব দিয়ে বিরল সম্মানে ভূষিত করেছে। এ নিয়ে তার গ্রামের মানুষের মাঝে খুশির আমেজ বিরাজ করছে। তিনি উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রশিদের ঘোনা কবির মোহাম্মদ সিকদার পাড়ার মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে।

জানা যায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’-এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন পেশার দক্ষ বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার এ রাজকীয় নির্দেশনা দেয়। তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) সৌদি বাদশার নির্দেশনায় বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়। এদের মধ্যে প্রথম দিন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ইতিহাসবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক, বিনিয়োগকারক, প্রযুক্তিবিদ, ক্রীড়াবিদসহ পাঁচ বিদেশি নাগরিক আছেন। এর মধ্যে লোহাগাড়ার সন্তান ক্যালিগ্রাফার মুখতার আলমও রয়েছেন।

সোমবার (১৫ নভেম্বর) সকালে ক্যালিগ্রাফার মুখতার আলমের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, মুখতার আলম আনুমানিক ১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হবার পূর্বে তারা সপরিবারে সৌদি আরব চলে যান। পিতা মফিজুর রহমান কাজের সুবাধে সেখানে বসবাস করে আসছিল। মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে গ্রামের বাড়িতে আসতেন। চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়া একটি বসতঘরও রয়েছে এখানে। তবে ওই ঘরে কেউ থাকেন না। বাউন্ডারি ওয়ালের গেইটে ঝুলছে তালা। তারা মাঝেমধ্যে গ্রামের বাড়িতে আসেন। আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশের লোকজনের সাথে দেখা করে চলে যান চট্টগ্রাম শহরে নিজেদের বাসায়। প্রায় একবছর পূর্বে মুখতার আলমের পিতা চট্টগ্রাম শহরের বাসায় অবস্থানকালীন সময় মারা গেছেন। তাকে দাফন করা হয় গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে। মা শিরিন আক্তার বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি চট্টগ্রাম শহরের বাসায় অবস্থান করছেন।

তারা ৪ ভাই ১ বোন। মুখতার আলম সবার বড়। অন্যরা হলেন- মোরশেদ আলম, মমতাজ আলম, মোহাম্মদ আলম ও ফাতেমা বেগম। মুখতার আলম হাটহাজারী উপজেলায় বিয়ে করেছেন। তিনি বর্তমানে স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তান নিয়ে সৌদি আরবের মক্কায় বসবাস করছেন।

মুখতার আলমের মামাতো ভাই মো. খালেদ ও মো. ইব্রাহিম জানান, মুখতার আলম ছোটবেলা থেকে খুবই মেধাবী ছিলেন ও সৌদি আরবে অবস্থান করে আসছেন। মক্কার পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে সে দেশের সরকার তাকে নাগরিকত্ব দিয়েছেন, সেটা আত্মীয়-স্বজন ও সংবাদ মাধ্যমে জেনেছেন। তাঁর এ অর্জনে আমরা সকলে আনন্দিত। তিনি লোহাগাড়া উপজেলাসহ সারাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। প্রায় এক বছর পূর্বে মুখতার আলম গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।

তারা জানান, মুখতার আলমের পিতা প্রথমে চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করেছেন। কিছুদিন পর তিনি সপরিবারে সৌদি আরব চলে যান। সেখানে তিনি দীর্ঘসময় সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। মূলত পিতার কর্মসূত্রে পরিবারের সকলে দীর্ঘসময় সৌদিতে কাটিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ আহমদ জানান, এলাকার ছেলে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি, গর্বিত। আশা করি, তিনি তাঁর কর্মকাণ্ড দিয়ে সৌদিসহ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম আরও বৃদ্ধি করবেন।

সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মুখতার আলম বর্তমানে মক্কার কিসওয়া কারখানায় পবিত্র কাবার কিসওয়ার প্রধান ক্যালিগ্রাফার হিসেবে কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও ফোরামে তাঁর প্রধান ক্যালিগ্রাফিগুলো প্রদর্শিত হয়েছে। ক্যালিগ্রাফি দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পাঠদান করেন। মক্কার দ্য ইনস্টিটিউট অব হলি মসকো তথা পবিত্র মসজিদুল হারাম পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ক্যালিগ্রাফি বিষয়ক তাঁর পাঠ শোখানো হচ্ছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, মুখতার আলম ১৯৭৭ সালে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। ১৯৯২ সালে মক্কার বিখ্যাত উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিল্পকলা বিষয়ে স্নাতক ও ২০০১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি পিএইচডি গবেষণারত। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পকলা বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০০২ সাল থেকে পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত তিনি আরবি ক্যালিগ্রাফি পেশায় কাজ করছেন।

আরও পড়ুন : মণ্ডপে যে কুরআন রেখেছে সে মাদকসেবী : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

এছাড়া তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের সার্টিফিকেটের ক্যালিগ্রাফার হিসেবেও কাজ করেছেন। এ পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্থা থেকে অসংখ্য পুরস্কার ও প্রশংসার সনদ পেয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, মোখতার আলম তাঁর পূর্বসূরি আবদুল রহিম বোখারির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। তিনি ১৯৯৬ সালে ৯০ বছর বয়সে মারা যান। মোখতার আলম ১৯৭৮ সালে গ্র্যান্ড মসজিদের ক্যালিগ্রাফি স্কুলে ভর্তি হন। সেখানে তিনি দুই বছর পড়াশোনা করেন।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড