• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

খাগড়াছড়িতে মাদকের বিস্তার, বাড়ছে অপরাধ

  আল-মামুন, খাগড়াছড়ি

২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৫:২৬
মাদকের অভিশপ্ত জনপদ (ছবি : অধিকার)

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি এখন ভয়ঙ্কর মাদকের অভিশপ্ত জনপদ। এখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল থেকে শুরু করে ভারত থেকে আসা বিভিন্ন বিদেশি মদ। এতে বিপদগামী হচ্ছে উঠতি বয়সের যুবসমাজ ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফলে ঘটছে সামাজিক অবক্ষয়, খুন, চুরিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকলে অঙ্কুরেই বিনষ্ট হবে স্থানীয় যুবসমাজ। গুইমারা উপজেলা পরিণত হবে মাদকের অভয়ারণ্যে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনের বেলায় যেমন তেমন, রাত নামলেই এখানে রঙিন জগতে পা বাড়ায় মাদকাসক্তরা। বিভিন্ন স্পট ভেদে নানা কৌশলে মাদক সিন্ডিকেটচক্র তাদের এসব রমরমা অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন নতুন কৌশল অবলম্বনের অংশ হিসাবে ইয়াবা বিক্রিতে মাদক কারবারিরা কখনো ব্যবহার করছে গভীর অরণ্য, আবার কৌশলে নীরব স্থানে বসানো হচ্ছে এসব মাদকের হাট।

প্রয়োজনে পাল্টানো হচ্ছে স্পট, কৌশলের ধরন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা সদর, পানছড়ি, দীঘিনালা, রামগড়, গুইমারা, মানিকছড়ি, মহালছড়ি, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় সাম্প্রতিক কালের নানা অভিযানে মাদক ছড়াছড়ির প্রমাণ বহন করে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে রাতেই মাদক কারবারিরা সক্রিয় হয়ে উঠে। এখানে মোট ৮টিরও অধিক টিম নানা কৌশলে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ স্থানীয়, আবার অনেক টিম আসছে রামগড়, মানিকছড়ি ও ফটিকছড়ি থেকে। স্থানীয়ভাবে স্যাল্টার পেয়ে দীর্ঘসময় এই যজ্ঞ চালিয়ে গেলেও অনেকের কাছে আকাশ থেকে মাটিতে পড়ার মত বিষয়টি।

বিশ্বস্ত সূত্র জানান, স্থান পাল্টিয়ে পাল্টিয়ে আগের চেয়ে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান, পুলিশের টহলের পরও আইনি ফাঁকে দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার ফলে দৌরাত্ম বেড়েছে অপরাধীদের।

খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম-ঢাকা প্রবেশের কেন্দ্র গুইমারার জালিয়াপাড়ায় এখন সয়লাব হয়ে উঠছে মাদক কারবারিদের গোপন স্থান। কারা এই মাদকের ডিলার, সরবরাহকারী, কারাই বা তারা? স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের অর্থে অনেকে মিলেমিশে একাকার হওয়ায় এই অপ-কর্মযজ্ঞ চালাতে দুঃসাহস পাচ্ছে অপরাধীরা। সচেতন সমাজের দাবি, প্রশাসনের সক্রিয়তায় এই মাদক কারবারিদের নির্মূল করা সম্ভব। তাই অচিরেই গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় মাদক নির্মূলে ব্যবস্থা নিলে রক্ষা পাবে যুবসমাজ। রক্ষা পাবে আগামী প্রজন্ম।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ সদস্য ও গুইমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেমং মারমা বলেন, যুবসমাজ ধ্বংসকারীদের কোনোভাবেই ছাড় না দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ সময় তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

আরও পড়ুন : ক্ষুুধার যন্ত্রণায় ২২ দিনের শিশু বিক্রি!

গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিগত দুইমাসে গুইমারায় ৩শ লিটার চোলাই মদ, বিশ পিস ইয়াবা জব্দসহ ৩ মামলায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তিনি মাদকবিরোধী অভিযান চলমান আছে এবং মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই বলে মন্তব্য করেন।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড