• বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |  
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আধুনিকতার ছোঁয়া স্পর্শ করেনি দড়িয়াপুর গ্রামে

  নেহাল আহম্মেদ প্রান্ত, আদমদীঘি (বগুড়া)

২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৩৩
দড়িয়াপুর গ্রামের মেঠোপথ (ছবি : অধিকার)

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের দড়িয়াপুর গ্রামের মেঠোপথে এখন পর্যন্ত আধুনিকতার ছোঁয়া স্পর্শ করেনি। এমন জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে শতাধিক গ্রামের হাজার হাজার মানুষের বর্ষা মৌসুমসহ সারা বছরই চরম দুর্ভোগের মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে। একাধিকবার আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি।

এছাড়াও পুরো রাস্তার কোথাও কোনো সোলার লাইটের ছোঁয়াও স্পর্শ করেনি। যার কারণে প্রতিদিনই রাতের আঁধারে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে চলে মাদক ও জুয়ার আসর। এতে করে যুব সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দিন দিন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের সর্বশেষ গ্রাম দড়িয়াপুর। এই গ্রামের পশ্চিম ও উত্তর দিকে নওগাঁ সদর উপজেলা, দক্ষিণ ও পূর্বদিকে রাণীনগর উপজেলা আর মাঝখানে দড়িয়াপুর গ্রাম। এই গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। চকউজির স্কুল থেকে দড়িয়াপুর গ্রামের মধ্যদিয়ে রাণীনগর কালিবাড়ি বাজার পর্যন্ত একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা চলে গেছে। পূর্বে এই রাস্তা গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির পাশ দিয়ে ছিল। ২০০৩ সালে নতুন করে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হয়। এরপর থেকে রাস্তায় নতুন করে মাটি দিয়ে উঁচু করা কিংবা ইট বিছানোসহ কোনো কাজই করা হয়নি। কিন্তু চকউজির স্কুল থেকে রমজান লাঠিয়ালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কোনো স্থানে ইট সোলিং না থাকায় বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলে হাঁটু কাদায় পরিণত হয়। এছাড়াও মাঝে মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে জলাশয়ে পরিণত হয়। এমতাবস্থায় হেঁটে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

দড়িয়াপুর গ্রামের বাসিন্ধা আব্দুর রউফ রিপন বলেন, দড়িয়াপুর গ্রামের এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনই পাশের চকউজির, প্রান্নাথপুর, চন্ডিপুর, চকবুলাকিসহ শতাধিক গ্রামের মানুষ রাণীনগর বাজারে যাতায়াত করে। এছাড়াও আশেপাশের কৃষি প্রধান গ্রামের কৃষকের উৎপাদিত সবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে যেতেও চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

দড়িয়াপুর গ্রামের গ্রামের আরেক বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস লেবু বলেন, বর্তমান সরকার নাকি শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দিবে। কিন্তু আমরা এই গ্রামের বাসিন্দারা আজ পর্যন্ত কোনো সুবিধার মুখ দেখলাম না। আমাদের চলাচলের একমাত্র মেঠো রাস্তাতেও এখন পর্যন্ত ইটের ছোঁয়া স্পর্শ করল না। তাহলে সরকারের উন্নয়ন কোথায় হচ্ছে? বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, যেন সরকারপ্রধান দ্রুত এই গ্রামীণ মেঠোপথকে আধুনিক রাস্তায় পরিণত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

ওই গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি শিক্ষক আমজাদ হোসেন মাষ্টার বলেন, গ্রামটি সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে গ্রামের কতিপয় মুর্খ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহায়তায় মাদক কারবারিসহ অন্যান্য খারাপ মানুষদের কাছে নানা অপকর্মের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আমি বহুবার পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন ঊর্দ্ধতন মহলকে গ্রামের এমন পরিস্থিতির বিষয়টি একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

প্রান্নাথপুর গ্রামের বাসিন্ধা আকরাম হোসেন বলেন, বর্তমান সভ্য সমাজে এমন অসভ্য ও উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে একেবারেই বঞ্চিত গ্রাম মনে হয় বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। তাই এই গ্রামের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়ার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন করছি।

সান্তাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলু বলেন, এই রাস্তার সার্বিক তথ্য আমার জানা। কিন্তু রাস্তাটি আধুনিকায়ন করতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার যোগান দেওয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে সম্ভব নয়। উপজেলা প্রশাসন চাইলে রাস্তাটি প্রকল্প আকারে বরাদ্ধ নিয়ে আসতে পারেন।

আরও পড়ুন : ক্ষুুধার যন্ত্রণায় ২২ দিনের শিশু বিক্রি!

এ বিষয়ে জানতে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্রাবণী রায়ের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তা রিসিভ না করার কারণে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ওডি/এএম

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

সহযোগী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড